ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো—ফুটবলের অমর নাম। বয়স যখন অনেক খেলোয়াড়কে মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়, তখন পর্তুগিজ এই মহাতারকা যেন নতুন করে ফুটবল বিশ্বের কাছে নিজেকে প্রমাণ করছেন। ৪০ বছর বয়সে রোনালদো এখনও এমন শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতায় আছে যা অনেক যুব খেলোয়াড়কেও পিছিয়ে দেয়। আগামী ২০২৬ বিশ্বকাপের দিকে এগোতে গিয়ে তার রেকর্ড ভাঙার অভিযান আরও ত্বরান্বিত হবে।
বর্তমানে আল-নাসরের জার্সিতে খেলছেন রোনালদো এবং তাঁর অফিসিয়াল গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৫৮। মাত্র ৪২টি গোল করলেই তিনি ফুটবল ইতিহাসে প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১,০০০ অফিসিয়াল গোলের অপ্রত্যাশিত রেকর্ডে পৌঁছবেন।
| রেকর্ড | বর্তমান সংখ্যা | লক্ষ্য/মাইলফলক |
|---|---|---|
| অফিসিয়াল গোল | 958 | 1000 |
| পেনাল্টি গোল | 180 | 200 |
| ৩০ বছরের পর গোল | 494 | 500 |
| আল-নাসরের সর্বাধিক বিদেশি গোলদাতা | ৩ | ৬ (আবশ্যকীয় ৩টি) |
ক্লাব ফুটবলের দিকেও রোনালদোর চোখ এখন বড় অর্জনের দিকে। তিনি ইতিমধ্যে ইংল্যান্ডের প্রিমিয়ার লিগ, স্পেনের লা লিগা এবং ইতালির সিরি আ জেতেছেন, কিন্তু সৌদি প্রো লিগের শিরোপা এখনো অধরা। আল-নাসরের হয়ে এই শিরোপা জিতলে তিনি এমন কিছু কিংবদন্তির সঙ্গে নাম লেখাবেন, যারা চারটি ভিন্ন দেশে লিগ জয় করেছেন, যেমন—জলাতান ইব্রাহিমোভিচ ও ডেভিড বেকহ্যাম।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে রোনালদোর কীর্তি আরও অবিস্মরণীয়। ২০০৬ থেকে ২০২২ পর্যন্ত প্রতিটি বিশ্বকাপে গোল করেছেন তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপে যদি একটি গোলও করতে পারেন, তবে তিনি ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হবেন যিনি ছয়টি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করেছেন। রোনালদোর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি এই রেকর্ডে পিছিয়ে রয়েছেন, কারণ ২০১০ বিশ্বকাপে মেসির কোনো গোল হয়নি।
পেনাল্টি থেকে গোল করা খেলায়ও রোনালদো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ১৮০টি পেনাল্টি গোল ইতিমধ্যেই তার দখলে। মাত্র ২০টি গোল আর পেলেই তিনি ২০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করবেন। এছাড়া আল-নাসরের জার্সিতে ক্লাবের সর্বাধিক বিদেশি গোলদাতা হওয়ার জন্য তার দরকার মাত্র তিনটি গোল।
অবাক করার মতো আরও একটি কীর্তি—রোনালদো ৩০ বছরের পর ফুটবল ইতিহাসে সর্বাধিক গোলদাতার তালিকায় ইংলিশ কিংবদন্তি রনি রুকেকে ছাড়িয়ে গেছেন। এখন তাঁর ৩০-এর পর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৯৪, মাত্র ছয়টি গোল করলেই ৫০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করবেন।
রোনালদোর এই ধারাবাহিক রেকর্ডভাঙা অভিযান প্রমাণ করে যে, বয়স শুধু একটি সংখ্যা; ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম ও প্রতিভার মেলবন্ধনই তাকে ফুটবল ইতিহাসে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
