
রোনালদো ছাড়াই ডেনমার্কের বিপক্ষে পর্তুগালের গোলবন্যা
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে ছাড়াই ডেনমার্কের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয় তুলে নিয়েছে পর্তুগাল। ম্যাচজুড়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে দুই দলই। পর্তুগালের রক্ষণে কিছুটা অস্থিরতা দেখা গেলেও আক্রমণভাগের কার্যকারিতায় শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দেয় তারা। গঞ্জালো রামোসের গোল ও অ্যাসিস্ট ছিল ম্যাচের অন্যতম আলোচিত দিক।
এই জয়ে গ্রুপ পর্বে টানা তৃতীয় জয় পেল হোর্হে জেসুসের দল। তিন ম্যাচে তিন জয় নিয়ে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে পর্তুগাল। রোনালদোর অনুপস্থিতির কারণে ম্যাচের আগে বাড়তি আলোচনা থাকলেও মাঠের পারফরম্যান্সে তার প্রভাব খুব একটা দেখা যায়নি।
ম্যাচের শুরু থেকেই পর্তুগাল আক্রমণে সক্রিয় ছিল। ১২তম মিনিটে জোয়াও কানসেলোর গোলে এগিয়ে যায় তারা। শুরুতেই পাওয়া এই লিড পর্তুগালকে আত্মবিশ্বাসী করে তুললেও ডেনমার্ক দ্রুত ম্যাচে ফিরে আসে।
২৩তম মিনিটে মিককেল ডেমসগার্ড গোল করে স্কোর ১-১ করেন। সমতা ফেরার পর ডেনমার্ক কিছুটা স্বস্তি পেলেও সেটি স্থায়ী হয়নি। মাত্র দুই মিনিটের ব্যবধানে আবারও এগিয়ে যায় পর্তুগাল। ব্রুনো ফার্নান্দেসের পাস থেকে গঞ্জালো রামোস বল জালে পাঠান।
প্রথমার্ধের বাকি সময়ে দুই দলই আক্রমণ চালালেও আর কোনো গোল হয়নি। ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় পর্তুগাল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচে আবার সমতা ফেরায় ডেনমার্ক। হোইলুন্ড গোল করে স্কোর ২-২ করেন। ফলে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফের একবার অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ডেনমার্কের আক্রমণ পর্তুগালের রক্ষণকে কয়েক দফা চাপে ফেললেও পর্তুগিজরা দ্রুত নিজেদের সংগঠিত করে নেয়।
ম্যাচের ৬৭তম মিনিটে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত আসে। ভিতিনিয়ার হেডার থেকে পাওয়া গোলে পর্তুগাল আবারও এগিয়ে যায়। এবার আর ব্যবধান ধরে রাখার পাশাপাশি ম্যাচটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে তারা।
ডেনমার্ক সমতা ফেরাতে মরিয়া হয়ে আক্রমণে ওঠে। সেই সুযোগে পর্তুগালও পাল্টা আক্রমণে জায়গা পেতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ৮৭তম মিনিটে জোয়াও ফেলিক্স চতুর্থ গোল করে পর্তুগালের জয় নিশ্চিত করেন। ৪-২ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ পায়নি ডেনমার্ক।
ম্যাচে পর্তুগালের চার গোল এসেছে চারজন ভিন্ন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে। কানসেলো, রামোস, ভিতিনিয়া ও ফেলিক্স—প্রত্যেকেই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলকে এগিয়ে দিয়েছেন। রামোসের পাশাপাশি ব্রুনো ফার্নান্দেসের সৃজনশীল ভূমিকাও ছিল উল্লেখযোগ্য।
রোনালদোর অনুপস্থিতিই অবশ্য ম্যাচের আগে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল। আগের ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে তাকে না খেলানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। ডেনমার্কের বিপক্ষেও রোনালদো শুরুর একাদশে থাকছেন না—এমন খবর প্রকাশের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। এরপর ম্যাচ শুরুর এক দিন আগে পর্তুগালের ট্রেনিং ক্যাম্প ছেড়ে যান এই পর্তুগিজ তারকা।
রোনালদোকে ছাড়া পর্তুগালের আক্রমণভাগ কীভাবে কাজ করে, ম্যাচটি তারও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা ছিল। মাঠের ফল বলছে, অন্য খেলোয়াড়রা সেই দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পেরেছেন। চার গোলের চারটি এসেছে ভিন্ন খেলোয়াড়ের কাছ থেকে, যা দলের আক্রমণভাগে বিকল্পের উপস্থিতি তুলে ধরে।
তবে জয় পেলেও পর্তুগালের রক্ষণ নিয়ে কিছুটা ভাবনার জায়গা থাকছে। দুইবার লিড নেওয়ার পরও তারা ডেনমার্ককে সমতায় ফেরার সুযোগ দিয়েছে। ম্যাচের বড় অংশে ডেনমার্ক পর্তুগালের রক্ষণে চাপ তৈরি করতে পেরেছে। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষের আক্রমণ আরও কার্যকর হলে এমন ভুলের মূল্য দিতে হতে পারে।
ডেনমার্কের জন্যও ম্যাচটি ছিল লড়াইয়ে ফেরার একাধিক সুযোগে ভরা। দুইবার পিছিয়ে পড়েও তারা সমতা ফিরিয়েছিল। কিন্তু শেষ দিকে পর্তুগালের আক্রমণভাগের কার্যকারিতা পার্থক্য গড়ে দেয়।
টানা তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে পর্তুগাল। রোনালদোকে ঘিরে মাঠের বাইরের আলোচনা থাকলেও মাঠে দলটি যে একাধিক খেলোয়াড়ের সম্মিলিত পারফরম্যান্সে ফল বের করতে পারে, ডেনমার্কের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয় তারই প্রমাণ দিয়েছে।