গোল, অ্যাসিস্ট, পেনাল্টি কিংবা ট্রফি—ফুটবলে ব্যক্তিগত ও দলগত সব অর্জনকে ঘিরেই লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানোর রোনালদোকে নিয়ে তুলনামূলক আলোচনা চলে নিয়মিতই। দুই তারকার সমর্থকেরা নিজেদের প্রিয় ফুটবলারের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে পরিসংখ্যান টেনে আনতে কখনোই কুণ্ঠাবোধ করেন না।
তবে এই দীর্ঘ বিতর্কের আড়ালে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বেশির ভাগ সময়ই ঢাকা পড়ে যায়—দুজনের শৃঙ্খলাভঙ্গের রেকর্ড, অর্থাৎ লাল কার্ড ও হলুদ কার্ডের পরিসংখ্যান। ফরোয়ার্ড হিসেবে তাঁদের দায়িত্ব মূলত গোল করা; রক্ষণভাগের খেলোয়াড়দের মতো প্রতিপক্ষকে থামাতে গিয়ে ফাউল করার ঝুঁকিও তুলনামূলক কম। তবুও দুই দশকের বেশি সময়ের ক্যারিয়ারে প্রতিপক্ষের উসকানি বা উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ পরিস্থিতিতে তাঁদেরও মেজাজ হারানোর ঘটনা কম হয়নি।
সম্প্রতি পর্তুগাল–আয়ারল্যান্ড ম্যাচে রোনালদোর লাল কার্ড দেখার ঘটনার পর আবারও সামনে এসেছে এ আলোচনা। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ওই ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ায় ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম এক বা দুই ম্যাচে তাঁকে নিষিদ্ধ হতে হতে পারে, এমনকি শাস্তি তিন ম্যাচ পর্যন্তও গড়াতে পারে।
এত দিনের ক্যারিয়ারে বিষয়টি আরও বিস্ময়কর যে—পর্তুগালের হয়ে এটি রোনালদোর প্রথম লাল কার্ড। ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত ২২৫ ম্যাচে কখনোই লাল কার্ড দেখেননি তিনি।
তবে ক্লাব ফুটবলে রোনালদোর শাস্তিপ্রাপ্ত হওয়ার ঘটনা বেশ পরিচিত। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ, জুভেন্টাস ও আল নাসরের জার্সিতে তিনি মোট ১২ বার লাল কার্ড দেখেছেন—এর মধ্যে ৮ বার সরাসরি, আর ৪ বার দুই হলুদ কার্ডের যোগফলে। পুরো ক্যারিয়ারে ১,২৯৭ ম্যাচে রোনালদো দেখেছেন ১৩টি লাল ও ১৬২টি হলুদ কার্ড, যার কারণে তাঁকে ৩১টি ম্যাচ খেলতে পারেননি।
অন্যদিকে, জাতীয় দলে রোনালদো যেখানে টানা ২২৫ ম্যাচ লাল কার্ড ছাড়াই কাটিয়েছেন, সেখানে মেসির গল্প উল্টো। ২০০৫ সালে হাঙ্গেরির বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচে রোনালদোর মতো সৌভাগ্য হয়নি তাঁর—মাঠে নামার মাত্র ৪৩ সেকেন্ডের মধ্যেই লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন। এরপর ২০১৯ কোপা আমেরিকায় চিলির বিপক্ষেও লাল কার্ড দেখা যোগ হয় তাঁর রেকর্ডে।
তবে ক্লাব ফুটবলে মেসি তুলনামূলকভাবে অনেক শান্ত স্বভাবের। বার্সেলোনা, পিএসজি ও ইন্টার মায়ামির হয়ে তিনি মাত্র ২ বার লাল কার্ড দেখেছেন। পুরো ১,১৩৩ ম্যাচের ক্যারিয়ারে তাঁর মোট ৪টি লাল কার্ড, সবকটিই সরাসরি। সঙ্গে রয়েছে ১০৩টি হলুদ কার্ড, যার ফলে মেসি এখন পর্যন্ত ১৪টি ম্যাচ মিস করেছেন।
সব মিলিয়ে পরিসংখ্যান বলছে—যেমনভাবে রোনালদো গোলের দিক থেকে মেসির চেয়ে এগিয়ে (৯৫৩ বনাম ৮৯৫), তেমনই লাল–হলুদ কার্ডের সংখ্যাতেও এগিয়ে তিনি।
মেসি ও রোনালদোর শৃঙ্খলাভঙ্গের পরিসংখ্যান
| বিভাগ | ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো | লিওনেল মেসি |
|---|---|---|
| মোট ম্যাচ | ১,২৯৭ | ১,১৩৩ |
| আন্তর্জাতিক লাল কার্ড | ১ | ২ |
| ক্লাব লাল কার্ড | ১২ | ২ |
| মোট লাল কার্ড | ১৩ | ৪ |
| সরাসরি লাল কার্ড | ৯ | ৪ |
| দুই হলুদে লাল | ৪ | ০ |
| মোট হলুদ কার্ড | ১৬২ | ১০৩ |
| কার্ডের কারণে মিস করা ম্যাচ | ৩১ | ১৪ |
| আন্তর্জাতিক অভিষেক | ২০০৩ | ২০০৫ |
| প্রথম আন্তর্জাতিক লাল কার্ড | ২০২৪ (আয়ারল্যান্ড) | ২০০৫ (হাঙ্গেরি) |
