
লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে দলে টানতে বার্সেলোনার অভিনব শর্ত
রক্ষণভাগের পুরনো দুর্বলতা কাটাতে এবং কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের কৌশলকে আরও শানিত করতে আগামী জানুয়ারির দলবদলে নতুন সেন্টারব্যাক খোঁজার কাজ শুরু করেছে বার্সেলোনা। এই মিশনে কাতালান ক্লাবটির প্রধান লক্ষ্য এখন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। তবে এই বিশ্বমানের ফুটবলারকে ন্যু ক্যাম্পে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ক্লাবটির সামনে রয়েছে বড় ধরনের আর্থিক বাধা। ফলস্বরূপ, লিসান্দ্রোকে পেতে হলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে একটি বিশেষ শর্ত মানতে হবে—তাঁকে তুলনামূলক কম মূল্যে ছাড়তে হবে ওল্ড ট্রাফোর্ডের ক্লাবটিকে।
স্প্যানিশ প্রভাবশালী ক্রীড়া দৈনিক ‘স্পোর্ত’-এর বরাਤੇ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম গোল ডটকম জানিয়েছে, লিসান্দ্রোর বর্তমান পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রেখে চলেছেন বার্সেলোনার ক্রীড়া পরিচালক ডেকো। আসন্ন শীতকালীন দলবদলের বাজারে ক্লাবটির সংক্ষিপ্ত তালিকার একদম ওপরেই রয়েছে এই ২৮ বছর বয়সি ডিফেন্ডারের নাম। তবে বার্সেলোনার এই আগ্রহের পথে সবচেয়ে বড় কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের দীর্ঘদিনের আর্থিক অস্বচ্ছলতা। গত গ্রীষ্মের দলবদলে একাধিক ফুটবলার ভেড়ানোর পর নতুন করে বড় অঙ্কের অর্থ খরচ করার মতো সামর্থ্য এই মুহূর্তে ক্লাবটির নেই।
সম্প্রতি বার্সেলোনার কোষাধ্যক্ষ ফেরান অলিভে ক্লাবের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ক্লাবের কোষাগারে কিছু উদ্বৃত্ত অর্থ থাকলেও তার পরিমাণ খুবই সীমিত, যা মাত্র ৩০ থেকে ৪০ লাখ ইউরোর কাছাকাছি। এই সামান্য পুঁজি নিয়ে বড় কোনো ট্রান্সফার ফি পরিশোধ করা অসম্ভব। তাই নতুন কাউকে স্কোয়াডে জায়গা দিতে হলে আগে বর্তমান দল থেকে কোনো ফুটবলারকে বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করতে হবে। এই বাস্তবতায় লিসান্দ্রোকে পেতে হলে সম্পূর্ণ সাশ্রয়ী এবং কম খরচের চুক্তির বিকল্প নেই বার্সার সামনে।
এদিকে মাঠের লড়াইয়ে রক্ষণভাগের চোট সমস্যা কোচ হ্যান্সি ফ্লিকের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। মৌসুমের শুরু থেকেই ইনজুরির মিছিলে নাম লিখিয়েছেন এরিক গার্সিয়া, জুলস কুন্দে, আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেন ও হাভি এসপার্তের মতো রক্ষণভাগের ভরসাস্থলরা। ফলে ব্যাকলাইন সামলানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য একজন অভিজ্ঞ ও বাঁ পায়ের দক্ষ সেন্টারব্যাকের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করছে ক্লাব ম্যানেজমেন্ট। সব দিক বিবেচনা করে লিসান্দ্রোকে এই সমস্যার আদর্শ সমাধান হিসেবে দেখছেন তারা।
অন্যদিকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে লিসান্দ্রোর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ রয়েছে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে চুক্তিতে আরও এক মৌসুম মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ যুক্ত রেখেছে ক্লাবটি। জানুয়ারির দলবদলে তাকে বিক্রি করলে রেড ডেভিলসরাও আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার কথা ভাবতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের মধ্যে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা দরকষাকষি শুরু হয়নি।
শুধু দলবদলের গুঞ্জনই নয়, মাঠের পারফরম্যান্সেও সময়টা ভালো যাচ্ছে না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। চলতি প্রিমিয়ার লিগে বেশ ছন্নছাড়া অবস্থায় রয়েছে দলটি, পয়েন্ট টেবিলের অবনমন অঞ্চলের বেশ কাছাকাছি অবস্থান করছে তারা। গত চেলসির বিপক্ষে ম্যাচেও দলের হতাশার প্রতীক হয়ে ওঠেন লিসান্দ্রো। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে দুটি হলুদ কার্ড দেখে লাল কার্ড নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। শেষ পর্যন্ত সেই ম্যাচে পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ইউনাইটেডকে। এখন দেখার বিষয়, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড কম দামে তাদের এই ডিফেন্ডারকে ছাড়তে রাজি হয় কি না এবং বার্সেলোনা তাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এই ট্রান্সফার সফল করতে পারে কি না।