
শুরুতেই এগিয়ে গিয়ে ইউনাইটেডকে হারাল অ্যাতলেটিকো
ম্যাচের শুরু থেকেই রক্ষণ সামলাতে সমস্যায় পড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। খেলা শুরুর মাত্র ৪৭ সেকেন্ডের মাথায় গোল করে অ্যাতলেটিকোকে এগিয়ে দেন পাবলো ব্যারিওস। সতীর্থের পাস থেকে বল পেয়ে ফাঁকা জায়গা কাজে লাগিয়ে জালে শট নেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে এটি অ্যাতলেটিকোর দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। ম্যাচের শুরুতেই পিছিয়ে পড়ায় ইউনাইটেডকে শুরু থেকে আক্রমণাত্মক হওয়ার পাশাপাশি রক্ষণ সামলানোর চাপও নিতে হয়।
গোল পাওয়ার পর আক্রমণের ধারাবাহিকতা বজায় রাখে স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধেই ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করেছিল তারা। ২৭তম মিনিটে গ্রিমালদোর ফ্রি-কিক পোস্ট ও ক্রসবারের সংযোগস্থলে লেগে ফিরে আসে। অল্পের জন্য গোল না পাওয়ায় বিরতির আগে আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি অ্যাতলেটিকো। তবে তাদের আক্রমণ সামলাতে ব্যস্ত থাকতে হয় ইউনাইটেডের রক্ষণভাগকে।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক মনোভাব ধরে রাখে সিমিওনের দল। হুলিয়ান আলভারেজের একটি শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে দ্বিতীয় গোলের সুযোগ হাতছাড়া হয় স্বাগতিকদের। অন্যদিকে, পিছিয়ে থেকেও ম্যাচে ফেরার চেষ্টা চালায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজ গোলরক্ষকের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে পাঠানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু সফল হননি। পরে তাঁর নেওয়া আরেকটি জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফলে সমতায় ফেরার গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় ইংলিশ ক্লাবটি।
ম্যাচের ৭৪তম মিনিটের পর বড় ধাক্কা খায় ইউনাইটেড। অ্যাতলেটিকোর আদেমোলা লুকমানকে পেছন থেকে ফাউল করায় লাল কার্ড দেখেন ডিফেন্ডার লেনি ইউরো। এতে বাকি সময় একজন কম নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় ক্যারিকের দল। একজন খেলোয়াড় কমে যাওয়ায় প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানো এবং গোলের সুযোগ তৈরি—দুই ক্ষেত্রেই ইউনাইটেডের কাজ কঠিন হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতির সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৭৯তম মিনিটের দিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন আদেমোলা লুকমান। সতীর্থের নেওয়া শট গোলরক্ষক ঠেকিয়ে দিলেও ফিরতি বল পেয়ে সহজেই জালে পাঠান নাইজেরিয়ান এই উইঙ্গার। তাঁর গোলের পর ম্যাচে ফেরার পথ আরও কঠিন হয়ে যায় ইউনাইটেডের জন্য। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে অ্যাতলেটিকো।
ম্যাচের পরিসংখ্যানেও এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা। বলের দখলে ৫৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ রাখার পাশাপাশি গোলের লক্ষ্যে পাঁচটি শট নেয় অ্যাতলেটিকো। বিপরীতে ইউনাইটেডের লক্ষ্যে ছিল চারটি শট। ব্যবধান বাড়ানোর আরও কয়েকটি সুযোগ পেলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি সিমিওনের দল। তবে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল আদায় এবং প্রতিপক্ষের ভুলের সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল তারা।
এই জয়ের ফলে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা পাঁচ ম্যাচে জয়ের ধারায় থাকল অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ। বিপরীতে মাইকেল ক্যারিকের অধীনে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জয়হীন থাকার ধারা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ ম্যাচে। ধারাবাহিক এই ফল দলটির পারফরম্যান্স নিয়ে উদ্বেগ বাড়াতে পারে। বিশেষ করে রক্ষণভাগের ভুল, গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শৃঙ্খলা ধরে রাখার বিষয়গুলো তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই ম্যাচ শেষে উভয় দলের সংগ্রহ তিন পয়েন্ট করে। তবে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় তালিকায় সপ্তম স্থানে রয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, আর অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের অবস্থান ১৩তম। এই জয় স্প্যানিশ ক্লাবটিকে আত্মবিশ্বাস জোগালেও প্রতিযোগিতার পরবর্তী পর্বে এগিয়ে যেতে হলে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। অন্যদিকে, ইউনাইটেডের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য রক্ষণ মজবুত করা, আক্রমণে আরও কার্যকর হওয়া এবং মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি হয়ে পড়েছে।