আগামী ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের মূল আসরের মহারণ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়ার আগে নিজেদের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামতে যাচ্ছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামায় অনুষ্ঠিতব্য এই আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে আলবিসেলেস্তেদের প্রতিপক্ষ ইউরোপের শক্তিশালী দল আইসল্যান্ড। বাংলাদেশ সময় আগামী বুধবার (১০ জুন) সকাল ৭টায় প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনির সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় মাঠে নামবে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে মাঠে নামার ঠিক পূর্বমুহূর্তে এই ম্যাচটিকে নিজেদের কৌশল, সামর্থ্য ও শক্তি যাচাইয়ের শেষ এবং চূড়ান্ত সুযোগ হিসেবে দেখছে আর্জেন্টিনা দল।
স্কালোনির লক্ষ্য ও মেসির একাদশে প্রত্যাবর্তন
এর আগের প্রস্তুতি ম্যাচে হন্ডুরাসের বিপক্ষে ২-০ গোলের ব্যবধানে একটি সহজ জয় পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। তবে সেই ম্যাচে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালালেও আইসল্যান্ডের বিপক্ষে এই শেষ ম্যাচে কোচ লিওনেল স্কালোনি সম্পূর্ণ ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে যাচ্ছেন। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি তার দলের মূল একাদশের নিয়মিত, নির্ভরযোগ্য ও তারকা খেলোয়াড়দের তুলনামূলকভাবে বেশি সময় মাঠে খেলানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বকাপের মূল পর্বের খেলা শুরু হওয়ার আগে দলের প্রধান খেলোয়াড়দের ম্যাচ ফিটনেস, শারীরিক সক্ষমতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া চূড়ান্তভাবে ঝালিয়ে নেওয়া।
এই ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনা শিবিরের জন্য সবচেয়ে বড় এবং স্বস্তিদায়ক সুখবর হলো দলের নিয়মিত অধিনায়ক ও প্রধান তারকা লিওনেল মেসির দলে ফিরে আসা। সাম্প্রতিক সময়ে ইনজুরির কারণে মাঠের বাইরে থাকা এই ফরোয়ার্ড চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠেছেন। আইসল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার জন্য তিনি এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত, যা দলের আক্রমণভাগকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি সামগ্রিক আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ ও পজিশনভিত্তিক বিশ্লেষণ
আইসল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য আর্জেন্টিনা যে সম্ভাব্য শক্তিশালী একাদশ সাজিয়েছে, তাতে রক্ষণভাগ ও আক্রমণভাগে কিছু বিকল্প খেলোয়াড়কে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। দলের গোলপোস্ট রক্ষার গুরুদায়িত্ব থাকছে অভিজ্ঞ গোলরক্ষক জেরোনিমো রুলির ওপর। রক্ষণভাগ বা ডিফেন্স লাইনে নিকোলাস ওতামেন্দি, লিসান্দ্রো মার্তিনেস এবং নিকোলাস তাগলিয়াফিকো নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করেছেন। তবে রাইট-ব্যাক পজিশনে নিকোলাস কাপালদো অথবা তরুণ আগুস্তিন জিয়াইয়ের মধ্যে যেকোনো একজন মূল একাদশে জায়গা পেতে পারেন।
দলের মাঝমাঠ বা মিডফিল্ড সাজানো হয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী ও তারকাবহুল খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে একসাথে খেলবেন রদ্রিগো ডি পল, এঞ্জো ফার্নান্দেজ, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার এবং পালাসিওস। এই চার মিডফিল্ডারের ওপর দলের রক্ষণ ও আক্রমণের সংযোগ সেতু তৈরির দায়িত্ব থাকবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে গোল করার মূল দায়িত্বে আক্রমণভাগে ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা অধিনায়ক লিওনেল মেসির খেলা নিশ্চিত। তার সঙ্গী হিসেবে মূল স্ট্রাইকার পজিশনে দেখা যেতে পারে লাউতারো মার্টিনেজকে, অথবা বিকল্প হিসেবে সুযোগ পেতে পারেন হোসে ম্যানুয়েল লোপেস।
বিশ্বকাপের আগে এই ম্যাচের সামগ্রিক তাৎপর্য
বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার অভিযানে নামার আগে এই matchটি আর্জেন্টিনার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হন্ডুরাসের বিরুদ্ধে জয় পেলেও দলের সব তারকা খেলোয়াড় একসাথে খেলার পর্যাপ্ত সুযোগ পাননি। আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে স্কালোনির শিষ্যরা তাদের চেনা ছন্দ ও পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে লিওনেল মেসির মাঠে ফেরা এবং মাঝমাঠের প্রধান তারকাদের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, আর্জেন্টিনা এই ম্যাচটিকে কেবল আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে দেখছে না। আলাবামার এই শেষ পরীক্ষাটিই নির্ধারণ করবে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে কোন রণকৌশল নিয়ে মাঠে নামবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
