২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ পরিচালনার তালিকা থেকে আকস্মিকভাবে বাদ পড়েছেন সোমালিয়ার তারকা রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতান। মার্কিন প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই রেফারির সঙ্গে একটি ‘সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্যদের’ প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ও যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। বৈশ্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে এবং টুর্নামেন্টের সংহতি রক্ষার্থে ফুটবলের এই মর্যাদাপূর্ণ আসর থেকে তাকে পুরোপুরি প্রত্যাহার ও বহিষ্কার করা হয়েছে।
ঐতিহাসিক গৌরব ও আকস্মিক প্রত্যাখ্যানের প্রেক্ষাপট
৩৪ বছর বয়সী সোমালিয়ান রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতান গত বছর আফ্রিকা মহাদেশের অন্যতম সেরা রেফারি (বর্ষসেরা রেফারি) হিসেবে মনোনীত হয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসিত হন। তার এই চমৎকার পেশাদার রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করেই ফিফা তাকে ২০২৬ বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনার জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করে। এর মাধ্যমে প্রথম কোনো সোমালিয়ান রেফারি হিসেবে ফুটবল বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার এক ঐতিহাসিক গৌরব অর্জনের দ্বারপ্রান্তে ছিলেন তিনি।
তবে বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর তার সেই স্বপ্ন ও সুযোগ হাতছাড়া হয়ে যায়:
বৈধ নথিপত্র: আরতানের কাছে আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বৈধ কূটনৈতিক পাসপোর্ট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একক প্রবেশাধিকারের (সিঙ্গেল এন্ট্রি) অফিশিয়াল ভিসা ছিল।
বিমানবন্দরে বাধা: সমস্ত বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাকে আটকে দেয়।
স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখার পর মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকেই তাকে সরাসরি নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও নিরাপত্তা সংস্থার অনুসন্ধান
বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কর্তৃক একটি বিশেষ নিরাপত্তা ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এই সরকারি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা বিশ্বের ১২টি দেশের মধ্যে সোমালিয়া অন্যতম। এই বিশেষ আইনের কারণে সোমালি নাগরিকদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর ও নিবিড় নিরাপত্তা যাচাইকরণ প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতান ফিফা বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করার সুনির্দিষ্ট অফিশিয়াল উদ্দেশ্য নিয়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) এজেন্সির কর্মকর্তারা তার নথিপত্র, পূর্ববর্তী রেকর্ড ও ব্যক্তিগত তথ্যাদি নিয়ে অত্যন্ত নিবিড় ও গভীর অনুসন্ধান শুরু করেন।
তদন্তের মূল পর্যবেক্ষণ: সিবিপি-র বিশেষ গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা উইংয়ের বিস্তারিত তদন্তের পর আরতানের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আপত্তিকর ও সংবেদনশীল তথ্য বেরিয়ে আসে। তদন্তে অকাট্যভাবে প্রমাণিত হয় যে, আন্তর্জাতিকভাবে তালিকাভুক্ত ও সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী সংগঠনের সক্রিয় সদস্যদের সঙ্গে এই সোমালি রেফারির সরাসরি যোগাযোগ ও সংশ্লিষ্টতা ছিল।
আইনি পদক্ষেপ ও চূড়ান্ত বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত
তদন্তে সন্ত্রাসী সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়ার পর মার্কিন অভিবাসন ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে। উদ্ভূত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ নিচে উল্লেখ করা হলো:
নিরাপত্তার স্বার্থে মার্কিন প্রশাসনের ও আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার এমন কঠোর ও আপসহীন অবস্থানের কারণে আরতানের আন্তর্জাতিক রেফারিং ক্যারিয়ারে এক বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে এলো।
