
স্কালোনির চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা, কোচকে ধরে রাখতে মরিয়া আর্জেন্টিনা শিবির
বিশ্বফুটবলে অভাবনীয় সাফল্য এনে দেওয়া কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে গুঞ্জন ও জল্পনার শেষ নেই। আসছে ডিসেম্বরেই তার বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে চলেছে। এর মধ্যেই কোচকে দীর্ঘমেয়াদে ডাগআউটে দেখতে একাট্টা হয়েছেন আলবিসেলেস্তের ফুটবলারেরা। কোচের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হওয়া এই ধোঁয়াশা দলটির ভেতর বেশ বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
গত জুলাই মাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালে স্পেনের কাছে অল্প ব্যবধানে হারের পর স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা কথা চাউর হয়। তবে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) সঙ্গে তার আলোচনা এখনো চলমান রয়েছে। বুয়েনস আইরেসের মূল অনুশীলন মাঠে ঘাম ঝরানোর ফাঁকে ৪৮ বছর বয়সী এই সফল কোচের পক্ষেই নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা। তারা মনে করেন, বর্তমান দলটির সাফল্য ও কাঠামোর পেছনে এই কোচের অবদান অতুলনীয়।
তরুণ মিডফিল্ডার নিকো পাজ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের ক্যারিয়ারের শুরুর দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন। তিনি স্কালোনির অবদানের কথা বলতে গিয়ে জানান, তাকে জাতীয় দলে প্রথম সুযোগ দেওয়ার পেছনে এই কোচের বড় ভূমিকা ছিল। দলের সবাই চায় তিনি যেন তার দায়িত্ব পালন করে যান। একই সুর শোনা গেছে অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর গলাতেও। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, বর্তমান দলটিকে তিল তিল করে গড়ে তোলার মূল কারিগর হলেন স্কালোনি। তাই দলের প্রতিটি সদস্যের একটাই চাওয়া, তিনি যেন কোচের আসন ছেড়ে কোথাও না যান।
গোলরক্ষক হুয়ান মুসো কোচের প্রতি দলের ভালোবাসার দিকটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত কয়েক বছরে কোচ যা অর্জন করেছেন এবং এই স্কোয়াডের মধ্যে যে মেলবন্ধন তৈরি করেছেন, তার জন্য সবাই তাকে নিয়ে গর্ববোধ করেন। এছাড়া বেনফিকার তরুণ উইঙ্গার জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি কোচের প্রশংসায় বলেন, তিনি দেশের জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন এবং মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে পুরো দেশের মানুষকে বারবার আনন্দের জোয়ারে ভাসিয়েছেন।
উল্লেখ্য, বিগত আট বছরে আর্জেন্টিনা দলের প্রধান হিসেবে ১০৪টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন স্কালোনি। এই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি দেশকে উপহার দিয়েছেন ২০২২ সালের মহাকাব্যিক বিশ্বকাপ শিরোপা। পাশাপাশি ২০২১ ও ২০২৪ সালে ব্যাক-টু-ব্যাক কোপা আমেরিকার মুকুটও পরেছে তার দল। এই দুর্দান্ত সাফল্যের পথে তিনি ৭৬টি জয়ের বিপরীতে মাত্র ১০টি ম্যাচে হেরেছেন এবং গড়ে তুলেছিলেন ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেওয়া টানা ৩৬ ম্যাচের অবিশ্বাস্য অপরাজিত থাকার রেকর্ড। এখন দেখার বিষয়, খেলোয়াড়দের এমন প্রকাশ্য ভালোবাসা ও আহ্বানে সাড়া দিয়ে স্কালোনি শেষ পর্যন্ত নতুন চুক্তিতে সই করেন কি না।