
স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা, সামনে তিন বড় বাধা
আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হিসেবে লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাঁর বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে আর তিন মাসের কিছু বেশি সময় বাকি। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) তাঁকে ধরে রাখতে চাইলেও নতুন চুক্তির আলোচনা সহজ হবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রেডিও লা রেডের অনুষ্ঠান ‘উন বুয়েন মোমেন্তো’-তে সাংবাদিক গুস্তাভো ইয়ারোচ জানিয়েছেন, স্কালোনিকে দায়িত্বে রাখার বিষয়ে এএফএর অবস্থান পরিষ্কার। সংস্থাটি বিশ্বকাপজয়ী এই কোচের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করতে আগ্রহী। তবে স্কালোনির নিজের অবস্থান এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। এর পেছনে রয়েছে মূলত তিনটি বড় কারণ।
দীর্ঘ সময়ের দায়িত্বে ক্লান্তি
স্কালোনির সংশয়ের প্রথম কারণ মাঠের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত হলেও বিষয়টি অনেকটাই মানসিক। আর্জেন্টিনা দলের দায়িত্বে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছেন তিনি। এই সময়ের মধ্যে দলকে আমূল বদলে দিয়ে অসাধারণ সাফল্য এনে দিয়েছেন।
২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের পর থেকে আর্জেন্টিনার সাফল্যের ধারায় স্কালোনির ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অধীনে দল কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং ২০২২ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পাশাপাশি আরও সাফল্য পেয়েছে। দীর্ঘ এই পথচলায় দলের একটি প্রজন্ম এখন ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে, আবার নতুন খেলোয়াড়দের ধীরে ধীরে জায়গা করে দেওয়ার প্রয়োজনও তৈরি হয়েছে।
ফলে পরবর্তী চক্রে আর্জেন্টিনাকে নতুন করে সাজানো স্কালোনির জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। নতুন খেলোয়াড়দের জাতীয় দলের কাঠামোর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, অভিজ্ঞদের ভূমিকা নির্ধারণ এবং প্রতিযোগিতামূলক দল ধরে রাখতে প্রতিদিনের কঠোর প্রস্তুতি—সবকিছুর জন্য দীর্ঘমেয়াদি মনোযোগ প্রয়োজন। আট বছরের সফল যাত্রার পর সেই একই মাত্রার শক্তি, আগ্রহ ও অনুপ্রেরণা তাঁর মধ্যে এখনো আছে কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এএফএর আর্থিক বকেয়া নিয়েও অস্বস্তি
স্কালোনির সংশয়ের দ্বিতীয় কারণ মাঠের বাইরের। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ এবং খেলোয়াড়দের বোনাসের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো পরিশোধ করা হয়নি। বিষয়টি দলের সংশ্লিষ্ট অনেকের কাছেই অস্বস্তিকর বলে মনে করা হচ্ছে।
আর্জেন্টিনা ফুটবলের সাম্প্রতিক সাফল্যের পর জাতীয় দলের আর্থিক আয়ও আগের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে ২০২১ সালের পর থেকে ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক সাফল্য দলটির মর্যাদা ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব বাড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বোনাস বা অন্যান্য পাওনা বকেয়া থাকার বিষয়টি নিয়ে কোচিং স্টাফের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।
এই আর্থিক জটিলতা শুধু অর্থের বিষয় নয়; দীর্ঘমেয়াদি কাজের ক্ষেত্রে পারস্পরিক আস্থা ও প্রশাসনিক সমন্বয়ের প্রশ্নও এর সঙ্গে জড়িত। ফলে নতুন চুক্তির আলোচনায় এ বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
প্রীতি ম্যাচের পরিকল্পনা নিয়েও অসন্তোষ
তৃতীয় কারণটি আন্তর্জাতিক সূচি এবং প্রীতি ম্যাচের প্রতিপক্ষ নির্বাচন নিয়ে। স্কালোনি দীর্ঘদিন ধরেই তুলনামূলক শক্তিশালী জাতীয় দলের বিপক্ষে খেলার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছেন। তাঁর পরিকল্পনায় উচ্চমানের প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ম্যাচ খেললে দলের দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং বড় প্রতিযোগিতার আগে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাই করা সহজ হয়।
কিন্তু এএফএ নিয়মিতভাবে স্কালোনির প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রতিপক্ষ নিশ্চিত করতে পারেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অনেক সময় তুলনামূলক দুর্বল দলকে প্রীতি ম্যাচের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে। এতে বিশ্বকাপ বা বড় টুর্নামেন্টের প্রস্তুতিতে কাঙ্ক্ষিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভাব থেকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন কোচ।
সাম্প্রতিক সময়ের সমন্বয়হীনতাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। চলতি মাসের শেষ দিকে ফিফা উইন্ডোর জন্য প্রতিপক্ষ ঘোষণার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা হয়নি। সপ্তাহের শুরুতে ঘোষণা আসার প্রত্যাশা থাকলেও সেটি পিছিয়ে যায়। সম্ভাব্য প্রতিপক্ষদের কয়েকটি নাম নিয়েও স্কালোনির সন্তুষ্টির ঘাটতি রয়েছে বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে এএফএ স্কালোনিকে ধরে রাখতে আগ্রহী হলেও সিদ্ধান্ত এখন শুধু সংস্থাটির হাতে নেই। দীর্ঘদিনের দায়িত্বের ক্লান্তি, আর্থিক বকেয়া এবং আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের পরিকল্পনা নিয়ে অসন্তোষ—এই তিন বিষয় স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। আগামী কয়েক মাসে চুক্তি নবায়নের আলোচনা কোন দিকে যায়, সেটিই এখন আর্জেন্টিনা ফুটবলের অন্যতম আলোচিত বিষয়।