
স্প্যানিশ মিডফিল্ডার জুবিমেন্ডিকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ওড়াতে চায় রিয়াল মাদ্রিদ
নতুন মৌসুমে স্কোয়াডের শক্তি বৃদ্ধি এবং মাঝমাঠে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে বড় দলবদলের পরিকল্পনা করছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ ক্লাবটি তাদের সেন্ট্রাল মিডফিল্ডকে আরও শক্তিশালী করতে ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালের তারকা মিডফিল্ডার মার্টিন জুবিমেন্ডির ওপর নজর দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই প্রভাবশালী স্প্যানিশ ফুটবলারকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নিয়ে আসার পরিকল্পনাকে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন প্রখ্যাত ফুটবল কোচ হোসে মরিনহো।
ক্রীড়া সাংবাদিক গ্রেইম বেইলির এক বিশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, রিয়াল মাদ্রিদ তাদের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো ও অভিজ্ঞতার ভারসাম্য নিশ্চিত করতে ২৫ বছর বয়সী এই তারকাকে পছন্দের তালিকার শীর্ষে রেখেছে। বলা বাহুল্য, গত গ্রীষ্মকালীন দলবদল মৌসুমে স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল সোসিদাদ থেকে বিপুল অর্থ খরচ করে তাকে লন্ডনে উড়িয়ে এনেছিল আর্সেনাল। তখন তাদের খরচ হয়েছিল প্রায় ৬৫ মিলিয়ন ইউরো। আর্সেনাল ম্যানেজার মিকেল আর্তেতার দলগঠনের মূল কৌশলে জুবিমেন্ডিকে দীর্ঘমেয়াদি মূল স্তম্ভ হিসেবে ভাবা হচ্ছিল।
কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েক মাসে লন্ডনের ক্লাবটিতে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে আর্সেনাল যখন নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের ব্রাজিলিয়ান তারকা ব্রুনো গুইমারেসকে দলে ভেড়ানোর জোর প্রচেষ্টা শুরু করে, তখন থেকেই জুবিমেন্ডির নিয়মিত শুরুর একাদশে থাকা নিয়ে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়। মাঝমাঠে গুইমারেসের আগমন ঘটলে মূল একাদশে নিজের স্থান ধরে রাখা কঠিন হতে পারে—এমন ভাবনা থেকে জুবিমেন্ডির এজেন্টরা ফুটবলারের ক্যারিয়ারের জন্য বিকল্প সুযোগগুলো খতিয়ে দেখতে শুরু করেছেন। রিয়াল সোসিদাদ ছেড়ে আসার সময় ক্লাবে নিজের যে কেন্দ্রীয় ভূমিকার স্বপ্ন জুবিমেন্ডি দেখেছিলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে কিছুটা সংশয় তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়।
তবে গানার্স কর্তৃপক্ষ জুবিমেন্ডিকে এখনই ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে খুব বেশি তাড়া দেখাচ্ছে না। ক্লাবটি তাকে বিক্রি করতে তাড়াহুড়ো না করলেও, যদি কোনো ক্লাব আকর্ষণীয় ও উপযুক্ত আর্থিক প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসে, তবে তা ভেবে দেখতে তারা নীতিগতভাবে রাজি।
ঠিক এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে মুখিয়ে আছে লস ব্লাঙ্কোসরা। জুবিমেন্ডির বল ড্রিবলিং, মাঝমাঠের খেলায় গতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং নিখুঁত পাস দেওয়ার ক্ষমতার প্রশংসা দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছেন স্প্যানিশ জায়ান্টদের শীর্ষ কর্তারা। তবে এই দলবদলের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে খেলোয়াড়ের চড়া মূল্য। মাত্র এক বছর আগে ৬৫ মিলিয়ন ইউরোর মতো বিশাল অংক বিনিয়োগ করায় আর্সেনাল কোনোভাবেই কম দামে বা লোকসান করে তাদের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে হাতছাড়া করবে না।
সব মিলিয়ে এখন বল রিয়াল মাদ্রিদের কোর্টে। প্রিমিয়ার লিগে এক বছর পার করা এই দক্ষ মিডফিল্ডারকে নিজেদের ডেরায় ভেড়াতে আর্সেনালের চাওয়া হাঁকা মূল্য মেটাতে স্প্যানিশ ক্লাবটি রাজি হয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।