ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার দল ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ মাউরিসিও পচেত্তিনো। ঘোষিত স্কোয়াডে অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারের সমন্বয় রাখা হয়েছে। দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার টিম রিম, যিনি বর্তমানে শার্লট এফসির হয়ে খেলছেন।
এবারের বিশ্বকাপ হবে টিম রিমের ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় বৈশ্বিক আসর। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, রক্ষণভাগে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা এবং শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে ধারাবাহিক উপস্থিতির কারণে তাকে দলের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, তুলনামূলক তরুণ খেলোয়াড়সমৃদ্ধ এই স্কোয়াডে রিমের উপস্থিতি রক্ষণভাগে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
গোলরক্ষক বিভাগে জায়গা পেয়েছেন ক্রিস ব্র্যাডি, ম্যাট ফ্রিজ এবং ম্যাট টার্নার। তাদের মধ্যে ম্যাট টার্নার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছেন। জাতীয় দলের হয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পছন্দের গোলরক্ষকদের একজন হিসেবেও নিয়মিত আলোচনায় ছিলেন তিনি।
রক্ষণভাগে কোচ পচেত্তিনো আস্থা রেখেছেন ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবল ও মেজর লিগ সকারে খেলা কয়েকজন ফুটবলারের ওপর। স্কোয়াডে রয়েছেন সার্জিনো ডেস্ট, মার্ক ম্যাকেঞ্জি, ক্রিস রিচার্ডস, অ্যান্টনি রবিনসন, মাইলস রবিনসন, জো স্ক্যালি ও অস্টন ট্রাস্টি। দ্রুতগতির আক্রমণ মোকাবিলা, বল নিয়ন্ত্রণভিত্তিক ফুটবলে মানিয়ে নেওয়া এবং আধুনিক রক্ষণ কৌশলে অভ্যস্ত খেলোয়াড়দের গুরুত্ব দিয়ে এই বিভাগ সাজানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউরোপের প্রতিযোগিতামূলক লিগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকা ডিফেন্ডারদের অন্তর্ভুক্তি দলটির রক্ষণভাগকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।
মাঝমাঠে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ভরসা হিসেবে থাকছেন টাইলর অ্যাডামস ও ওয়েস্টন ম্যাককেনি। এছাড়া স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন ব্রেন্ডন অ্যারনসন, জিওভান্নি রেইনা, মালিক তিলম্যান, টিম উইয়াহ, সেবাস্টিয়ান বারহল্টার ও ক্রিস্টিয়ান রোলডান। মাঝমাঠে গতি, বল দখল, আক্রমণ গড়ে তোলা এবং রক্ষণভাগকে সহায়তা করার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়ে এই খেলোয়াড়দের নির্বাচন করা হয়েছে বলে ফুটবল সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাব ফুটবলে নিয়মিত অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা দলটির কৌশলগত বৈচিত্র্য বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
আক্রমণভাগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান তারকা হিসেবে থাকছেন ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচ। বর্তমানে ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলানের হয়ে খেলা এই ফরোয়ার্ড দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত। তার সঙ্গে স্কোয়াডে রয়েছেন ফ্লোরিয়ান বালোগুন, রিকার্ডো পেপি, হাজি রাইট এবং আলেহান্দ্রো জেন্দেজাস। গোল করার পাশাপাশি দ্রুতগতির আক্রমণ পরিচালনা এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করার সক্ষমতার কারণেও এই খেলোয়াড়দের গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। তিনটি দেশ মিলিয়ে এটিই হবে প্রথম ৪৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ আসর। টুর্নামেন্টের সম্প্রসারিত এই কাঠামো বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্বাগতিক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাড়তি প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। ঘরের মাঠ, পরিচিত পরিবেশ এবং সমর্থকদের উপস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে দলটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে প্রস্তুতি শুরু করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলে ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলে খেলা ফুটবলারের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের প্রতিযোগিতামূলক লিগে খেলার অভিজ্ঞতা দলটির শারীরিক সক্ষমতা, কৌশলগত পরিপক্বতা এবং চাপের ম্যাচ সামাল দেওয়ার দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে তরুণ খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
মাউরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে দলটি আক্রমণাত্মক ও গতিনির্ভর ফুটবল কৌশলের দিকে এগোচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচ ও আঞ্চলিক প্রতিযোগিতাগুলোর মাধ্যমে এই স্কোয়াডের সমন্বয়, রক্ষণ-আক্রমণের ভারসাম্য এবং সামগ্রিক কৌশলগত সক্ষমতা আরও যাচাই করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
