বাংলাদেশ ২–২ নেপাল
ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশের জয় হাতছাড়া হলো একেবারে শেষ মুহূর্তে। হামজা চৌধুরীর জোড়া গোলের নৈপুণ্যে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও যোগ করা সময়ে গোল হজম করে ২–২ ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় স্বাগতিকদের।
গ্যালারি আজ পুরোপুরি ভরেনি; প্রায় অর্ধেক আসনই ফাঁকা ছিল। সিঙ্গাপুর বা হংকংয়ের বিপক্ষে ম্যাচগুলোর মতো গর্জন ছিল না, বরং প্রথমার্ধ জুড়ে দর্শকদের মধ্যে ছিল এক ধরনের নীরবতা।
প্রথমার্ধে নেপালের রোহিত চাঁদের গোলে পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ম্যাচের ২৯ মিনিটে সুমিত শ্রেষ্ঠর কাটব্যাক থেকে বক্সের বাইরে থেকে নিচু শটে গোল করেন রোহিত—জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় গোল, ১০২তম ম্যাচে।
বিরতির পর কোচ হাভিয়ের কাবরেরা বদলি হিসেবে নামান তরুণ শমিত সোমকে, এবং খেলার মোড় ঘুরে যায়। দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটেই ফয়সাল আহমেদের ক্রসে নেপালের ডিফেন্ডারের হেড ফিরিয়ে আনেন জামাল ভূঁইয়া, যার বাইসাইকেল কিকে ১–১ সমতা ফেরান হামজা চৌধুরী।
পাঁচ মিনিট না পেরোতেই পেনাল্টি পায় বাংলাদেশ। গোলরক্ষককে ভুল পথে পাঠিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে ২–১ করেন হামজা। জাতীয় দলের জার্সিতে এটি ছিল তাঁর চতুর্থ গোল, ছয় ম্যাচে।
৮০ মিনিটে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন হামজা, বদলি নামেন নবাগত কিউবা মিচেল। দর্শকেরা তখন পাঁচ বছর পর নেপালের বিপক্ষে জয়ের আনন্দে প্রস্তুত হচ্ছিলেন। কিন্তু যোগ করা সময়ে কর্নার থেকে অনন্ত তামাংয়ের হেডে গোল হজম করে জয় হারায় বাংলাদেশ। হংকং ও সিঙ্গাপুর ম্যাচের মতো আবারও শেষ মুহূর্তে গোল হজমের দৃশ্য মর্মাহত করেছে সমর্থকদের।
ম্যাচ শেষে হতাশ জাতীয় দলের গোলকিপার বিপ্লব ভট্টাচার্য বললেন,
“হামজার জোড়া গোলের পর জয়টা প্রাপ্য ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাঝমাঠের অগোছালো খেলার খেসারত দিতে হলো।”
কাবরেরা আজ আগের একাদশে তিনটি পরিবর্তন এনেছিলেন। চোটের কারণে বাদ পড়েন শেখ মোরছালিন, একাদশে ফেরেন জামাল ভূঁইয়া, ফয়সাল আহমেদ ও জুনিয়র সোহেল রানা। বাঁ-পায়ের ফয়সালকে প্রথমার্ধে দেখা যায় রাইট উইংয়ে, বিরতির পর তিনি নিজের স্বাভাবিক অবস্থান লেফট উইংয়ে ফিরে এসে খেলেন আরও প্রাণবন্ত ফুটবল।
বাংলাদেশ আজ খুব গোছানো ফুটবল খেলতে পারেনি। প্রথম ৪০ মিনিটে গোলমুখে শট ছিল মাত্র একটি। দ্বিতীয়ার্ধে দুটি গোল এলেও দলের সামগ্রিক ছন্দে ঘাটতি স্পষ্ট ছিল। মাঝমাঠে সৃজনশীলতা ও বোঝাপড়ার অভাবই বারবার খেলার ছন্দ ভেঙে দিয়েছে।
নেপালের একাদশে ছিলেন পাঁচজন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা ফুটবলার। তারা আজ লড়াইয়ের মানসিকতা দেখিয়ে শেষ মুহূর্তে গোল পেয়ে যেন ড্র নয়, জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে।
বাংলাদেশ সর্বশেষ নেপালকে হারিয়েছিল ২০২০ সালের ১৩ নভেম্বর, ২–০ গোলে। এরপর পাঁচ বছরে দুই দলের চার সাক্ষাতে দুটি জয় নেপালের, দুটি ড্র। কাঠমান্ডুতে গত সেপ্টেম্বরে ম্যাচটি হয়েছিল গোলশূন্য ড্র। আজ আবারও সেই জয়ের স্মৃতি হাতছাড়া হলো, আর তাতে ১৮ নভেম্বর ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাই ম্যাচের প্রস্তুতিতেও থেকে গেল কিছুটা হতাশা।
