ট্রাভিস হেডের নামটা সবসময়ই ক্রিকেট বিশ্বে ঝড় তুলেছে। তবে পার্থের চতুর্থ ইনিংসে তার ১২৩ রানের ইনিংস শুধু ঝড় নয়, বরং ইতিহাসের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি একসাথে সাহস, পরিকল্পনা এবং দলের প্রয়োজনীয়তা মেলানোর নিখুঁত উদাহরণ।
হেড কিছুদিন ধরেই ওপেনিং নিয়ে ভাবছিলেন। ডেভিড ওয়ার্নারের অবসরের পর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে শীর্ষে শূন্যতা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে হেড নেতৃত্বকে বারবার জানান, সীমিত ওভারের ক্রিকেটে তিনি ওপেনার হিসেবে সফল, তাই টেস্টেও সুযোগ পেলে তিনি অবদান রাখতে পারবেন। যদিও ম্যানেজমেন্ট তার অভিজ্ঞতার সীমা এবং মধ্যক্রমের সফল কম্বিনেশন (হেড-স্মিথ-লাবুশেন) বিবেচনা করে তাকে মাঝখানে রাখার পরিকল্পনা করছিল।
দিন-২ এর টি-বিরতির সময় অস্ট্রেলিয়ার সামনে ২০৫ রানের লক্ষ্য দাঁড়ায়। পিচ ছিল অনিশ্চিত, আর ইংল্যান্ডের পেসাররা চাপ সৃষ্টি করছিল। উসমান খাজার চোটের কারণে তিনি ওপেন করতে পারছিলেন না। সেই মুহূর্তে হেড স্বেচ্ছায় এগিয়ে এসে বলেন, “আমি করব। আমারই করা উচিত।”
মাঠে নেমে হেড প্রথমে সতর্কভাবে খেলেন। ১৪ বলে ৩ রান করে তিনি পরিস্থিতি বোঝেন। এরপর পরপর ৫৫ বলে ৯৭ রান করে ইংলিশ বোলারদের পুরোপুরি চাপে ফেলেন। তাঁর ব্যাটিং ছিল ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু পরিকল্পিত। শট সিলেকশন নিখুঁত। ওয়েদারেল্ডের সঙ্গে ৭৫ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়াকে এগিয়ে দেয়। ৬৯ বলে শতক পৌঁছে তিনি একক দক্ষতায় ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে রূপান্তরিত করেন।
ম্যাচ শেষে হেড বলেন, “মার্নাস আর স্মাজের পরে নামা ঠিক মনে হচ্ছিল না। আমার মনে হচ্ছিল এখনই সময়।” স্টিভ স্মিথও বলেন, হেডের এই সিদ্ধান্তই ম্যাচের দিক পরিবর্তন করেছে।
পার্থ টেস্ট দ্রুত শেষ হওয়ায় অস্ট্রেলিয়া এখন ব্রিসবেনে বিশ্রামে যাবে। খাজার চোট থাকায় হেডের ওপেনিংয়ের সুযোগ বজায় থাকতে পারে। তবে স্মিথ সতর্ক, “এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নয়, প্রথমে এই পারফরম্যান্স হজম করি।”
