ভারতীয় ক্রিকেট সম্প্রতি হোম সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ০-২ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছে, যা একসময় শক্তিশালী ও অপ্রতিরোধ্য বলে বিবেচিত ভারতীয় দলের জন্য বড় ধাক্কা। এই হার শুধু সংখ্যাগত হিসাবের ফল নয়, বরং ভারতের নির্বাচনী নীতি, কৌশল এবং কোচিং দর্শনের উপরও গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, ভারতীয় দলের এই ধরণের হোম ফ্লপের পুনরাবৃত্তি প্রায় ৭০ বছর ধরে ঘটে আসছে।
গত বছর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে হোমে ০-৩ হারের মতোই, এই সিরিজও দলের অস্থিতিশীলতা এবং প্রস্তুতির অভাবকে প্রকাশ করেছে। অস্ট্রেলিয়ায় ১-৩ হারের পর ভারত প্রথমবারের মতো ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে পৌঁছানোর স্বপ্নকে হারিয়েছে। এই ধারাবাহিক হারের মধ্যে ভারতীয় দলের প্রতিরোধ ক্ষমতা, দলগত কৌশল এবং খেলোয়াড় নির্বাচনে সিদ্ধান্তের সমস্যা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
গৌতম গম্ভীরের অধীনে ১৯টি টেস্টে ২৪জন খেলোয়াড় ব্যবহার করা হয়েছে। একই একাদশে ধারাবাহিক খেলা হয়েছে মাত্র দুইবার, যা দলীয় স্থিতিশীলতার অভাবকে প্রমাণ করে। বোলিং বিভাগে ভারতীয়দের পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার ও স্পিনাররা ভারতের বোলারদের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকরী প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষ করে স্পিন মোকাবেলায় ব্যাটসম্যানরা অসফল হয়েছেন। সাম্প্রতিক চারটি হোম সিরিজের মধ্যে তিনবার কোনো ব্যাটসম্যান তিন অঙ্ক স্পর্শ করতে পারেনি।
ভারতীয় ক্রিকেট এখন পরিচয়হীন ও অস্থিতিশীল দলে পরিণত হয়েছে। আগামী হোম সিরিজ ২০২৭ পর্যন্ত স্থগিত থাকায় এই সময়টিকে পুনর্গঠনের সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা জরুরি। নইলে ভারতীয় ক্রিকেটের হোম আইডেন্টিটি একসময়ের মতো শক্তিশালী থাকবেনা।
