দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ইডেন গার্ডেনস টেস্টে ভারতীয় ক্রিকেট দল কেবল হারের শিকার হয়নি, বরং নিজেদের কৌশলগত ভুলের শিকারও হয়েছে। প্রথম ইনিংসে ১৮৯ রানের ছোট লিড নেওয়ার পরও দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৯৩ রানে অলআউট হয়ে ভারত ১২৪ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে ব্যর্থ হয়। স্পিনসহায়ক উইকেটে নিজেদের কৌশল প্রয়োগ করতে গিয়ে তারা মূলত নিজেদেরই ফাঁদে পড়েছে।
ম্যাচের শুরুতেই ভারতের টপ অর্ডার ভেঙে পড়ে। প্রথম ওভারেই জয়সওয়াল ফিরে গেলে টিমের মানসিক চাপ বেড়ে যায়। লোকেশ রাহুলের পরপর আউট, ধ্রুব জুরেলও মাত্র ১৩ রানেই ফিরলে ভারতের ব্যাটিং বড় ধাক্কা খায়। রিশাভ পান্তও টিকে থাকতে পারলেন না। মাত্র ৩৮ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর ভারতীয় ব্যাটারদের উপর চাপ তীব্র হয়ে ওঠে।
বড় আশা তৈরি করেছিলেন ওয়াশিংটন সুন্দর ও রবীন্দ্র জাদেজা। ২৬ রানের জুটি ভারতের কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেয়, কিন্তু তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। শেষ পর্যন্ত অক্ষর প্যাটেল ১৭ বলে ২৬ রান করে লড়াই করেন, তবে মহারাজের স্পিন জালে ভারত হেরে যায়।
প্রোটিয়াদের পক্ষে টেম্বা বাভুমা অপরাজিত ৫৫ রানে দিন শেষ করেন। তার ব্যাটিং ভারতীয় বোলারদের জন্য চ্যালেঞ্জ হলেও শেষ পর্যন্ত সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে পারেনি ভারত। এই হারের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকা ভারতের মাটিতে ১৫ বছরের জয়–খরা শেষ করে।
ইডেন গার্ডেনসের ইতিহাসে এমন ব্যাটিং বিপর্যয় বিরল। ২০০৪ সালে মুম্বাইতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ১০৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ভারত মাত্র ৯৩ রানে হেরেছিল। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, এই হারের ব্যাখ্যা শুধু ব্যাটিং নয়, মানসিক চাপ, কৌশলগত ভুল এবং স্পিন বিপর্যয়ের সমন্বয়।
