১৭ ম্যাচ গোলহীন: ভিনিসিয়ুসের সাম্বা ছন্দে কেন এই ছন্দপতন?

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর যে সবুজ গালিচায় একসময় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ড্রিবলিং দেখে দর্শকেরা মুগ্ধ হতেন, আজ সেখানেই তাঁকে সঙ্গী করতে হচ্ছে সমর্থকদের তীব্র বিদ্রূপ আর দুয়োধ্বনি। গত শনিবার রাতে সেভিয়ার বিপক্ষে রিয়াল মাদ্রিদ ২-০ গোলে জয় পেলেও শিরোনামে ছিলেন ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ভিনিসিয়ুস। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে কোচ জাবি আলোনসো (জাবি আলোনসো) যখন তাঁকে মাঠ থেকে তুলে গঞ্জালো গার্সিয়াকে নামান, তখন গ্যালারি থেকে ভেসে আসা দুয়োধ্বনি যেন ভিনির বর্তমান ফর্মেরই এক নির্মম প্রতিফলন। যে ফুটবলারের গোল করার পর সাম্বা নাচ দেখার জন্য দর্শকেরা মুখিয়ে থাকতেন, এখন গোলখরায় সেই নাচও যেন হারিয়ে গেছে।

পরিসংখ্যান বলছে, ভিনিসিয়ুস বর্তমানে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন। রিয়াল মাদ্রিদ এবং ব্রাজিল ন্যাশনাল টিম (ন্যাশনাল টিম) মিলিয়ে সর্বশেষ ১৭টি ম্যাচে তিনি কোনো গোল পাননি। রিয়ালের জার্সিতে তাঁর গোলহীন থাকার সময়টা এখন ১১১৬ মিনিটে পৌঁছেছে, আর সব মিলিয়ে তিনি ১৩৩৪ মিনিট ধরে জালের দেখা পাননি। অথচ দুই মৌসুম আগেও তিনি ছিলেন রিয়ালের আক্রমণের প্রধান অস্ত্র। বর্তমান মৌসুমে তাঁর গোলের গড় এতটাই নিচে নেমেছে যে, প্রতিটি গোলের জন্য তাঁকে মাঠে থাকতে হচ্ছে ৩৫৬ মিনিট।

নিচে ভিনিসিয়ুসের গত কয়েক মৌসুমের গোল করার হারের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:

ভিনিসিয়ুসের গোল করার হারের তুলনামূলক পরিসংখ্যান

সিজন বা মৌসুমমোট গোল সংখ্যাপ্রতি গোলের ব্যবধান (মিনিট)পারফরম্যান্স স্ট্যাটাস (স্ট্যাটাস)
২০২২-২৩২৪ গোল১২৮ মিনিটআউটস্ট্যান্ডিং (আউটস্ট্যান্ডিং)
২০২৩-২৪২২ গোল২১০ মিনিটস্ট্যান্ডার্ড (স্ট্যান্ডার্ড)
২০২৪-২৫ (বর্তমান)০৫ গোল৩৫৬ মিনিটবিলো অ্যাভারেজ (বিলো অ্যাভারেজ)
২০২০-২১০৬ গোল৪৫৩ মিনিটক্যারিয়ার ওস্ট (ক্যারিয়ার ওস্ট)

ভিনিসিয়ুসের এই ছন্দপতনের পেছনে মানসিক প্রভাবকেও অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর ২৮ অক্টোবর প্যারিসে ব্যালন ডি’অর (ব্যালন ডি’অর) ট্রফি জেতার ক্ষেত্রে রদ্রির কাছে হেরে যাওয়ার পর ভিনি প্রতিজ্ঞা করেছিলেন দশগুণ শক্তিশালী হয়ে ফেরার। কিন্তু পরিসংখ্যান বলছে ভিন্ন কথা; সেই রাতের পর থেকে ৬৭ ম্যাচে তিনি মাত্র ১৯টি গোল করেছেন। চলতি মৌসুমে রিয়ালের করা মোট ৫২টি গোলের মধ্যে ভিনির অবদান মাত্র ৯ শতাংশ, যা রিয়ালের মতো ক্লাবের মূল ফরোয়ার্ডের জন্য বেশ হতাশাজনক।

মাঠের ফর্মের পাশাপাশি কোচ জাবি আলোনসোর সাথে তাঁর সম্পর্কের রসায়ন নিয়েও নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলছে। যদিও কোচ সমর্থকদের অভিব্যক্তিকে তাদের ‘ব্যক্তিগত স্বাধীনতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন, তবে মাঠের এই প্রতিকূল পরিবেশ ভিনির আত্মবিশ্বাসে ফাটল ধরাচ্ছে। স্প্যানিশ মিডিয়া মার্কা (মার্কা) জানিয়েছে, ভিনির এই নাজুক পরিস্থিতির সুযোগ নিতে প্রস্তুত ইউরোপের অনেক বড় ক্লাব। ২০২৭ সাল পর্যন্ত চুক্তি থাকলেও বার্নাব্যুর ক্রমবর্ধমান চাপ সামলে ভিনি কি পারবেন আবারও সেই পরিচিত ছন্দে ফিরতে? বড়দিনের ছুটি কাটিয়ে মাঠে ফেরার পর তাঁর পারফরম্যান্সই হয়তো রিয়ালে তাঁর ভাগ্য নির্ধারণ করে দেবে।

Leave a Comment