ইংল্যান্ডের সাবেক মিডফিল্ডার জেমস মিলনার পেশাদার ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। ৪০ বছর বয়সী এই ফুটবলার সর্বশেষ তিন মৌসুম খেলেছেন ব্রাইটনের হয়ে। লিডস ইউনাইটেডে ক্যারিয়ার শুরু করা মিলনার টানা ২৪ মৌসুম প্রিমিয়ার লিগে খেলেছেন, যা প্রতিযোগিতার ইতিহাসে অন্যতম দীর্ঘ সময়ের ধারাবাহিকতা।
গত ফেব্রুয়ারিতে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে ব্রাইটনের জার্সিতে মাঠে নেমে প্রিমিয়ার লিগে সর্বাধিক ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়েন মিলনার। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যন্ত তিনি খেলেছেন মোট ৬৫৮টি প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, ২৪ মৌসুম শেষে খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার এটিই উপযুক্ত সময় বলে মনে হয়েছে তাঁর।
মিলনার তাঁর বিবৃতিতে স্মরণ করেন ক্যারিয়ারের সূচনা পর্ব। ১৬ বছর বয়সে শৈশবের ক্লাব লিডস ইউনাইটেডের হয়ে অভিষেকের সময় তিনি প্রিমিয়ার লিগের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হয়েছিলেন। যদিও পরবর্তীতে এই রেকর্ড ভেঙে যায়, তিনি এখনো সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতাদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ও ঘটনাবহুল ক্যারিয়ার তিনি কখনো কল্পনাও করেননি। গত বছর শারীরিক সমস্যার মধ্যেও ফিরে এসে ৪০ বছর বয়সে ব্রাইটনের হয়ে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নেওয়া দলের অংশ হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে তুলে ধরেন।
ক্যারিয়ারে বিভিন্ন ধাপে অবনমন এড়ানোর লড়াই, ট্রফি জয় এবং ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। জাতীয় দলের হয়ে দুটি ইউরো এবং দুটি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ফুটবল জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান অর্জন হলো এই পথচলায় পাওয়া সম্পর্ক ও বন্ধুত্ব।
প্রিমিয়ার লিগে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ফুটবলার
| খেলোয়াড় | ম্যাচ সংখ্যা | উল্লেখযোগ্য ক্লাব |
|---|---|---|
| জেমস মিলনার | ৬৫৮ | লিভারপুল, ম্যানচেস্টার সিটি |
| গ্যারেথ ব্যারি | ৬৫৩ | অ্যাস্টন ভিলা, ম্যানচেস্টার সিটি |
| রায়ান গিগস | ৬৩২ | ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড |
| ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড | ৬০৯ | চেলসি, ওয়েস্ট হাম |
প্রিমিয়ার লিগে ৬০০-এর বেশি ম্যাচ খেলা মাত্র চারজন ফুটবলারের একজন মিলনার। এই তালিকায় কোনো গোলরক্ষক নেই; সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা গোলরক্ষক ডেভিড জেমস, যার ম্যাচ সংখ্যা ৫৭২।
মিলনারের ক্লাব ক্যারিয়ার শুরু হয় লিডস ইউনাইটেডে, যেখানে তিনি খেলেছেন ৪৮টি ম্যাচ। এরপর নিউক্যাসল ইউনাইটেডে ৯৪টি এবং অ্যাস্টন ভিলায় ১০০টি ম্যাচ খেলেন। ২০০৫-০৬ মৌসুমে ধারে অ্যাস্টন ভিলায় খেলার পর ২০০৮ সালে স্থায়ীভাবে যোগ দেন ক্লাবটিতে। ম্যানচেস্টার সিটিতে পাঁচ মৌসুমে ১৪৭টি ম্যাচ খেলে দুটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতেন তিনি। পরে লিভারপুলে আট মৌসুমে ২৩০টি ম্যাচ খেলে একটি প্রিমিয়ার লিগ ও একটি চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা অর্জন করেন।
২০২৩ সালে ব্রাইটনে যোগ দিয়ে তিনি মোট ৩৯টি ম্যাচ খেলেন। তবে চোটের কারণে ২০২৪-২৫ মৌসুমে মাঠে নামতে পেরেছেন মাত্র চারবার।
প্রিমিয়ার লিগে মিলনারের পারফরম্যান্স
| সূচক | পরিসংখ্যান |
|---|---|
| মোট ম্যাচ | ৬৫৮ |
| মোট গোল | ৫৬ |
| মোট অ্যাসিস্ট | ৯০ |
গোলের হিসাবে তিনি লিভারপুলের হয়ে ১৯টি, ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে ১৩টি, অ্যাস্টন ভিলার হয়ে ১২টি, নিউক্যাসলের হয়ে ৬টি, লিডস ইউনাইটেডের হয়ে ৫টি এবং ব্রাইটনের হয়ে ১টি গোল করেন। পাশাপাশি ৯০টি অ্যাসিস্ট করে প্রিমিয়ার লিগের সর্বকালের অ্যাসিস্ট তালিকায় যৌথভাবে শীর্ষ দশে জায়গা করে নিয়েছেন।
অবসরের ঘোষণায় মিলনার ফুটবলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, এই খেলাটি তাঁকে যে সুযোগ ও অভিজ্ঞতা দিয়েছে, তা তাঁর জীবনের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত থাকবে।
