বছরের শেষপ্রান্তে এসে ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন চোখ রাখছেন পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যানে—কে কেমন করলেন, কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে। আর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ২০২৪ সালের উইকেটশিকারিদের তালিকা দেখলে বাংলাদেশের সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটারই কথা। কারণ, টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে এ বছর এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকার শীর্ষে আছেন বাংলাদেশের তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন।
তবে এখানে একটি ছোট ‘কিন্তু’ আছে। যদি টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর বাইরের সহযোগী দেশগুলোকেও হিসাবের মধ্যে ধরা হয়, তাহলে রিশাদ পুরো বিশ্বের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি নন।
এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন বাহরাইনের পেসার রিজওয়ান বাট, যিনি ২৯ ম্যাচে নিয়েছেন ৫০ উইকেট। তাঁর পরেই আছেন অস্ট্রিয়ার পেসার উমাইর তারিক—৩০ ম্যাচে ৪৮ উইকেট। তৃতীয় স্থানে আছেন অস্ট্রিয়ারই আরেক পেসার আকিব ইকবাল, যিনি ৩৬ ম্যাচে ৪৩ উইকেট শিকার করেছেন।
সব দল মিলিয়ে হিসাব করলে, রিশাদ অবস্থান করছেন দশম স্থানে। অর্থাৎ, প্রথম নয়জনই আইসিসির সহযোগী দেশের খেলোয়াড়। কিন্তু টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে তিনি যৌথভাবে শীর্ষে।
রিশাদের সঙ্গে এই শীর্ষস্থান ভাগ করে নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেসার জেসন হোল্ডার।
দুজনেরই সমান ২৬ উইকেট, তবে রিশাদ খেলেছেন ২২ ম্যাচ, হোল্ডার ১৭ ম্যাচ। ইনিংসের হিসাবে রিশাদ ২১ ইনিংসে ২৬ উইকেট নিয়েছেন, আর হোল্ডার ১৭ ইনিংসে একই সংখ্যা।
তুলনামূলকভাবে রিশাদের ইকোনমি রেট (৮.৫০) হোল্ডারের (৮.৫৯) চেয়ে সামান্য ভালো। তবে হোল্ডারের বোলিং গড় (২১.০০) রিশাদের (২৪.৩০) তুলনায় উন্নত। বোলিং ওভারের সংখ্যাতেও এগিয়ে রিশাদ—৭৪.২ ওভার, যেখানে হোল্ডারের ৬৩.৩।
এই দুজনের ঠিক পেছনে অবস্থান করছেন পাঁচ বোলার, যাদের সবারই সুযোগ আছে শীর্ষে উঠে আসার।
তারা হলেন—
- মোহাম্মদ নেওয়াজ (পাকিস্তান) – ১৯ ম্যাচে ২৫ উইকেট
- জ্যাক ডাফি (নিউজিল্যান্ড) – ১৬ ম্যাচে ২৫ উইকেট
- রিচার্ড এনগারাভা (জিম্বাবুয়ে) – ১৮ ম্যাচে ২৫ উইকেট
- তাসকিন আহমেদ (বাংলাদেশ) – ১২ ম্যাচে ২৪ উইকেট
- মোস্তাফিজুর রহমান (বাংলাদেশ) – ১৭ ম্যাচে ২৩ উইকেট
অর্থাৎ, রিশাদ ও হোল্ডারের পাশাপাশি তাসকিন ও মোস্তাফিজেরও সুযোগ আছে বছরের শেষদিকে শীর্ষে ওঠার।
বাংলাদেশেরও সামনে সুযোগ রয়েছে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করার। এফটিপি অনুযায়ী, এ বছর এখনও চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ বাকি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে চলতি সিরিজে একটি ম্যাচ বাকি আছে, এরপর নভেম্বর-ডিসেম্বরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ।
চলতি সিরিজে এখন পর্যন্ত দুই ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়েছেন রিশাদ, অর্থাৎ তাঁর সামনে আরও উন্নতির সুযোগ পুরোপুরি খোলা।
