আজকের আলোচনার বিষয়বস্তুঃ হকি খেলা আরম্ভ বা পুনরাস্ত, হকি খেলার দশ নম্বর আইন
হকি খেলা আরম্ভ বা পুনরাস্ত । হকি খেলার দশ নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন
১. খেলার আরম্ভ, প্রথমার্ধের পর পুনরায় শুরু এবং প্রতিটি গোলের পর মাঠের কেন্দ্র থেকে পাস ব্যাকের মাধ্যমে খেলার আরম্ভ করতে হবে। যে দল মাঠের প্রান্ত পছন্দ করেনি, সেই দলের একজন খেলোয়াড় পাস-ব্যাকের মাধ্যমে খেলা শুরু করবে, (আইন ২.১ দেখুন) দ্বিতীয়ার্ধে অপর দল এবং গোল হলে যে দলের বিপক্ষে গোল হয়েছে সে দলের একজন খেলোয়াড় পাস-ব্যাকের মাধ্যমে খেলা শুরু করবে। পাস-ব্যাক, হিট বা পুস-এর মাধ্যমে করা যাবে কিন্তু কোনভাবেই তা মধ্য রেখার উপর দিয়ে করা যাবে না।
যে মুহূর্তে পাস-ব্যাক নেয়া হবে সে সময় বিপক্ষ দলের কোন খেলোয়াড় বলের থেকে ৫ গজের মধ্যে থাকতে পারবে না এবং যে খেলোয়াড় পাস-ব্যাক করছে সে ছাড়া উভয় দলের সমস্ত খেলোয়াড় মাঠে অবশ্যই নিজ নিজ প্রান্তে থাকবে।
যে পাস-ব্যাক করছে সে যদি বলটিকে আঘাত করতে ব্যর্থ হয় তবে সে পুনরায় পাস-ব্যাক করার পর উক্ত খেলোয়াড় পুনরায় বলটিকে খেলতে পারবে না, বলটি খেলা যায় এমন দূরত্বে থাকবে না বা বলটি খেলার জন্য যাবে না। যতক্ষণ না অন্য কোন খেলোয়াড় বলটি স্পর্শ করছে বা খেলছে।
পাস-ব্যাক করতে এতটা দেরি করতে দেয়া যাবে না যা সময় নষ্টের পর্যায়ে পড়ে।
২. (ক) ৭.৬, ১২ (গ) ১২ আইনের শান্তি (৪) অথবা ১৮১ ধারা ভঙ্গের ঘটনাটি মাঠের যে প্রান্তে ঘটেছে সেই প্রান্তের আম্পায়ারের পছন্দমত জায়গায় বলটি বসিয়ে ‘বুলি’ দিয়ে খেলা পুনরায় শুরু করার নির্দেশ দেবেন।
(খ) “বুলি” করার সময় দুই দলের একজন করে খেলোয়াড় সাইড লাইনের দিকে মুখ করে মুখোমুখি দাঁড়াবে, দুজনেরই ডান দিকে তার নিজস্ব ব্যাক লাইন থাকবে । বলটি থাকবে মাঠের উপর ঐ খেলোয়াড়ঘয়ের মাঝখানে। দুজন খেলোয়াড়ই পালাক্রমে তিনবার স্টিক ঠুকবেন, প্রথমে বল ও তার নিজস্ব প্রান্তরেখার মাটিতে এবং পরে বলের উপর নিজের স্টিকের সামনের দিক দিয়ে অপর খেলোয়াড়ের স্টিকে, তারপর এই দুজনের যে কোন একজন খেলোয়াড় বলটিকে খেলে খেলা শুরু করবে।
(গ) যতক্ষণ পর্যন্ত না খেলা শুরু হচ্ছে ততক্ষণ অন্য সকল খেলোয়াড় বল থেকে ৫ গজ দূরে থাকবে।
(ঘ) ব্যাক-লাইন বা গোল লাইনের ১৬ গজের মধ্যে ‘বুলি’ করা যাবে না ।
(১) ১০১ শাস্তির আইনটি যে দল ভঙ্গ করবে তার বিপক্ষ দলকে ফ্রি-হিট মারার সুযোগ দেয়া হবে।
(২) ১০২ (খ), ১০২ (গ) আইন ভঙ্গ করা হলে বুলিটি পুনরায় নিতে হবে ।
(৩) ১০২ (খ) ও ১০.২ (গ) নিয়মটি পুনঃ পুনঃ ভংগ করলে আম্পায়ার বিপক্ষ দলকে একটি ফি-হিট দিতে পারেন অথবা এই ধরনের আইন নিজ দলের সার্কেলের ভিতর ভংগ করলে আম্পায়ার বিপক্ষ দলকে একটি ‘পেনাল্টি কর্ণার’ দিতে পারবেন।
খেলোয়াড় ও আম্পায়ারদের জন্য নির্দেশনা
(ক) পাস-ব্যাকের সময় বলটি ইচ্ছে করে উঠিয়ে মারা যাবে না। পাস-ব্যাকের সময় খেলোয়াড়ের বলটি মাটিতে গড়িয়ে মারার ইচ্ছা যদি পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় তবে বলটি যদি মাটি থেকে উঠেও যায় তবে খেলোয়াড়টিকে শাস্তি দেয়া যাবে না।
(খ) বুলির সময় কেবল স্টিকের চ্যাপ্টা দিকটা ব্যবহৃত হবে এবং স্টিক দুইটির সংযোগ অবশ্যই বলের উপরে হতে হবে। বুলির সময় সংঘর্ষ এড়ানোর জন্য উভয় খেলোয়াড় সামনাসামনি দাঁড়াবেন, তবে বল খেলা না হওয়া পর্যন্ত তারা পা নাড়াতে পারবেন না।
(গ) বল হতে অন্য খেলোয়াড়-এর অবস্থান তাদের প্রান্ত রেখা অথবা গোল লাইনের দিকে থাকতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই।
(ঘ) ১০ ২ (ক) ও ১০ ২ (ঘ) অনুসারে আম্পায়াররা বুলির জন্য স্থান নির্ধারণ করবেন।
