আজকে আমরা আলোচনা করব হকি খেলা পরিচালনা, হকি খেলার বারো নম্বর আইন নিয়ে
Table of Contents
হকি খেলা পরিচালনা । হকি খেলার বারো নম্বর আইন । খেলাধুলার আইন
১। একজন খেলোয়াড় করতে পারবে না
(১) স্টিকের গোলাকার প্রান্ত দিয়ে খেলতে।
(২) কোন খেলোয়াড় তার নিজস্ব স্টিক না নিয়ে খেলায় অংশগ্রহণ করতে বা খেলতে অথবা ফ্রি-হিট কর্ণার, পেনাল্টি স্ট্রোক, পার্শ্বরেখা হতে বা ১৬ গজের হিট নেয়ার উদ্দেশে স্টিক বদল করতে।
‘নিজস্ব স্টিক’ বলতে খেলোয়াড় যে স্টিক দিয়ে খেলা শুরু করেছেন বা আইনসংগতভাবে স্টিক পরিবর্তন করেছেন তাকে বোঝায়।
(৩) মাথার উপরে স্টিক তুলতে বা এমনভাবে স্টিক উঁচুতে উঠাতে যা বিপজ্জনক যখন কোন খেলোয়াড় তার কাছে আসছে, খেলার চেষ্টা করছে, খেলছে বা বল থামাচ্ছে তখন তাকে ভয় দেখাতে বা বাধা দিতে। বলটি যখন তাঁর কাঁধের চেয়ে উঁচুতে থাকে তখন সে স্টিক, স্টিকের যে কোন অংশ দিয়ে বলটি খেলতে বা খেলার চেষ্টা করতে (গোল-কীপারের জন্য আইন ১২.৩ (৩) অনুযায়ী)।
(৪) বলটি হাত দিয়ে থামাতে বা ধরতে (গোল-কীপারের জন্য আইন ১২.৩ (৩)অনুযায়ী)।
(৫) প্রচন্ডভাবে বল মারা বা খেলা বা বলটিকে এমনভাবে লাথি মারা যাতে বলটি বিপজ্জনক হয় বা বিজ্জনক খেলায় রূপান্তরিত হয়, হতে পারে বা ইচ্ছাকৃতভাবে বিপক্ষের শরীরের যে কোন অংশে, পায়ের পাতা বা পায়েও বল খেলতে।
(৬) শরীরের কোন অংশ দিয়ে নিজের দলের সুবিধার জন্য মাঠে বা শূন্যে বল থামাতে বা দিক পরিবর্তন করতে (নিজেকে রক্ষা করার ব্যপারে ধারা ১২.২ (৩) দেখুন)।
(৭) গোলের জন্য হিট করা ছাড়া হিটের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে বল উঁচু করে মারতে ।
(৮) ইচ্ছা করে এমনভাবে উঁচু দিয়ে বল মারতে যাতে বলটি বৃত্তের ভিতর পড়ে।
(৯) প্রতিপক্ষকে প্রতিরোধ করার জন্য স্টিকের সাথে পায়ের পাতা বা পা ব্যবহার করতে।
(১০) স্টিক ছাড়া কোনভাবে যে কোন দিকে বলকে লাথি মারতে তুলে নিতে, ছুঁড়ে মারতে, বহন করে নিতে বা সামনে চালিত করতে (নির্দেশনা- ১২১ (৬), ১২.১(৯) এবং ধারা ১২.২ (৩) দেখুন) ।
(১১) অন্য কোন খেলোয়াড়ের স্টিকে আঘাত করতে আটকে রাখতে, বা বাধা দিতে।
(১২) কোন খেলোয়াড়কে বা তার পোশাক-পরিচ্ছদে আক্রমণ করতে, লাথি মারতে, ধাক্কা দিতে, হোঁচট খাওয়াতে, আঘাত করতে বা কাপড় টেনে ধরতে
(১৩) বিপক্ষ দলের খেলোয়াড় ও বলের মধ্যে দিয়ে দৌড়িয়ে বাধার সৃষ্টি করতে বা সে নিজে অথবা তার স্টিক দিয়ে বাধার সৃষ্টি করতে।
২. একজন খেলোয়াড় করতে পারবেন
(১) তার স্টিকের কেবল চ্যাপ্টা দিক দিয়ে খেলতে। চ্যাপ্টা দিক বলতে চ্যাপ্টা প্রান্ত হতে সেই দিকের উপরের হাতল বা হ্যান্ডেল পর্যন্ত বোঝায়।
(২) প্রতিপক্ষের বাঁ দিক থেকে বলটি ধরতে যদি না সে বলটি খেলার পূর্বে প্রতিপক্ষকে বা তার স্টিকে বাধার সৃষ্টি করে ।
(৩) যদি সে গোল-কীপার হয় এবং বৃত্তের ভিতরে থাকে এবং ধারা ১২.১(৩), (৪), (৬), (১০) এর প্রতিকূলেও সে বলটি লাথি মারতে, শরীরের যে কোন অংশ দিয়ে (হাত সহ) বলটি থামাতে এবং কাঁধের উপরের বল স্টিক দিয়ে থামাতে, যদি না বিপজ্জনক হয়। তাতে কোন শাস্তি দেয়া যাবে না। যখন গোলে লক্ষা করে মারা বল থামাতে গিয়ে গোলকীপারের শরীর বা ঠিক হতে প্রতিহত হয়ে ফিরে আসে ।
৩.
(১) বল যদি গোল-কীপারের প্যাডে আটকে যায় বা কোন খেলোয়াড় বা আম্পায়ারের পোশাকের ভেতর ঢুকে যায় আম্পায়ার তখন খেলা বন্ধ করে দেবেন এবং যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে সেই স্থান হতে ‘বুলির’ মাধ্যমে খেলা পুনরায় শুরু করবেন।।
(২) বলটি যদি আম্পায়ারের গায়ে লাগে বা কোন খেলোয়াড়ের শরীর হতে হঠাৎ পড়ে যাওয়া কোন সরঞ্জামসহ মাঠে পড়ে থাকা অন্য কোন বস্তুতে আঘাত লাগে, তবে খেলা চলতে থাকবে। কোন খেলোয়াড় যদি ইচ্ছাকৃতভাবে তার স্টিক বা অন্য কোন সরঞ্জাম মাঠে, বলে, প্রতিপক্ষের বা আম্পায়ারের দিকে ছুঁড়ে দেয় তবে ধারা ১২.৪ অনুযায়ী দন্ড দিতে হবে ।
৪. অসদাচরণ
উগ্র বা বিপজ্জনকভাবে খেলা, খেলা শুরু করতে কোন রকম দেরি করা যেটা সময় নষ্টের পর্যায়ে পড়ে, ইচ্ছাকৃতভাবে কোন আইন ভংগ করা বা এমন কোন ব্যবহার করা যেটা আম্পায়ারের মতে অসদাচরণের পর্যায়ে পড়ে তা কখনোই করতে দেয়া যাবে না।
শাস্তি
১। বৃত্তের বাইরে
বিপক্ষ দলকে একটি ফ্রি হিট মারতে দেবেন। রক্ষণদলের কোন খেলোয়াড় ২৫ গঞ্জ সীমানার ভিতর অপরাধ করলে আম্পায়ার আক্রমণকারী দলকে পেনাল্টি কর্ণার দেবেন, যদি তিনি মনে করেন অপরাধটি ইচ্ছাকৃত ছিল ।
(২) বৃত্তের ভিতর-আক্রমণকারী খেলোয়াড় দ্বারা
রক্ষণ দলকে একটি ফ্রি হিট মারতে দিতে হবে।
(৩) বৃত্তের ভিতর-রক্ষণকারী দলের খেলোয়াড় দ্বারা
রক্ষণকারী দলের খেলোয়াড় বৃত্তের ভিতর আইন ভংগ করলে আক্রমণকারী দলকে পেনাল্টি কর্ণার দেবেন বা পেনাল্টি স্ট্রোক যদি আম্পায়ারের মতে ধারা ১৬১- এর প্রয়োগ প্রয়োজন হয়।
(৪) বৃত্তের ভিতর এবং বাইরে
দুই প্রতিপক্ষ যদি একই সাথে আইন ভংগ করে তবে যেখানে আইন ভংগ হয়েছে আম্পায়ার সে স্থানে বুলি করার নির্দেশ দেবেন। (ধারা ১০.২ (৪) প্রযোজ্য)।
(৫) বৃত্তের ভিতর এবং বাইরে
উগ্র বিপজ্জনক খেলা অসদাচরণের জন্য যে শাস্তি দেয়া উচিত তা দেবার পরও যদি আম্পায়ার মনে করেন আরো শাস্তি দেয়া উচিত, তবেঃ
(ক) অপরাধী ও অপরাধীদের সাবধান করে দেবেন যেটা সবুজ কার্ড দেখিয়েও করতে পারেন।
(খ) সাময়িক বহিষ্কার করবেন, সময় পাঁচ মিনিটের বেশি হবে না। এটা তিনি হলুদ কার্ড দেখিয়েও করতে পারেন।
(গ) তাকে বাকি খেলার সময়ের জন্যও বরখাস্ত করতে পারেন, এটা তিনি লাল কার্ড দেখিয়েও করতে পারেন ।
সাময়িকভাবে বহিষ্কৃত খেলোয়াড় তার নিজের গোলপোস্টের পিছনে বা খেলার পূর্বে অন্য জায়গা নির্ধারিত থাকলে সেখানে থাকবেন, যতক্ষণ না বহিষ্কারকারী আম্পায়ার তাকে পুনরায় খেলায় যোগ দিতে বা অন্য খেলোয়াড় দ্বারা পরিবর্তিত হওয়ার অনুমতি দেন। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে প্রয়োজনে দিক পরিবর্তন করবেন।
খেলোয়াড় ও আম্পায়ারের জন্য নির্দেশনা
১. বলটি যদি স্টিকে লাগে এবং তার জন্য যদি কোন সুবিধা না হয় তবে তা অপরাধ হবে না।
৩. স্টিক
কাঁধের উপর স্টিক তুলে রক্ষণদলের খেলোয়াড় যদি স্টিক দিয়ে (গোল-কীপার ছাড়া) সম্ভাব্য গোল রক্ষা করে সে ক্ষেত্রে পেনাল্টি স্ট্রোক দিতে হবে।
বিপক্ষ দলের খেলোয়াড়ের মাথার উপর স্টিক তুললে আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে বলেই এভাবে স্টিক তোলাটা বিপজ্জনক খেলা। কোন খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে অপরাধ না হওয়া সত্ত্বেও যদি সে ঐ ভাবে স্টিক তোলে এবং তাতে যদি কোন অপরাধ না হয় তবুও তাকে শাস্তি দিতে হবে এবং ঘটনা অনুসারে তাকে সাবধান করতে হবে।যেমন বাধা দেয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠিত হওয়ার পর যখন সে এরূপ করে তবে সে ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ কর্তৃক প্রথম অপরাধের জন্য তাকে অথবা তার দলকে ফ্রি-হিট মারার সুযোগ দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে অথবা সুবিধাজনক বিরতির সময় তাকে সাবধান করে দিতে হবে। যদি না প্রথম ঘটনা থেকে কোন অযাচিত সুবিধা না পায় এবং প্রতিপক্ষ কোন রকম আঘাত না পেয়ে থাকে ।
১.৫ ও ৭ বিপজ্জনক খেলা
এই আইন খেলোয়াড়দেরকে আঘাত পাওয়া থেকে রক্ষা করে বিপজ্জনক খেলার শাস্তি প্রদানের জন্য আম্পায়াগণ অত্যন্ত দূরে থাকবেন। গোলে হিট করা ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে বল উঠিয়ে মারা যাবে না। কোন খেলোয়াড় যদি উঁচুতে ওঠা বলের লাইন থেকে বৈধভাবে সরে যেতে চায় তবে সে বল বিপজ্জনক হবে (আইন ১২.১.৭ দেখুন)।
যে খেলোয়াড় বল উঁচু করে খেলে বা বিপজ্জনক খেলার কারণ হয় তাকে অবশ্যই শাস্তি দিতে হবে। শূন্যে থাকা অবস্থায় যদি বলে হিট করাটা বিপজ্জনক হতে পারে। বলে মনে হয় তবে হিট করতে দেয়া যাবে না। বল মাটি থেকে শূন্যে তুলে হিট করা নিষিদ্ধ ।
১.৬ বল থামানো
যদি বল খেলতে আসা কোন খেলোয়াড় তার দিকে বিপজ্জনকভাবে উঁচু করে মারা বল থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য হাত ব্যবহার করে তবে তাকে শাস্তি দেয়া যাবে না। শান্তি যদি নিতেই হয় তবে যে খেলোয়াড় বলটি উঁচু করে মেরেছে তাকেই দিতে হবে।
শরীরের কোন অংশ দিয়ে বল থামানোর জন্য শাস্তি দেয়ার আগে আম্পায়ারকে নিশ্চিত হতে হবে যে, খেলোয়াড়টি নিম্নোক্তভাবে শরীর ব্যবহার করেছে।
(ক) বলের গতিপথে শরীর নিয়ে।
(খ) এমনভাবে দাঁড়িয়েছে যে শরীর দিয়ে বল থামানোর ইচ্ছা পরিষ্কারভাবে বোঝা গেছে।
(গ) বল যাতে গায়ে না লাগে তার জন্য কোন চেষ্টা না করা।
বল এসে যদি কোন খেলোয়াড়ের পায়ে বা গায়ে লাগে তবে এটা অপরাধ বলে। গণ্য করা ঠিক নাও হতে পারে।
১.৮ উঁচু দিয়ে বৃত্তের মধ্যে আসা সমস্ত বলই নিষিদ্ধ নয়, কেবল ইচ্ছাকৃতভাবে উঠানো বল সরাসরি বৃত্তে প্রবেশ নিষিদ্ধ। বল মাটিতে লাফিয়ে উঠে ে প্রবেশ করলে শুধুমাত্র বিপজ্জনক কিনা অবশ্যই সেই ভিত্তিতে এটাই বিচার করতে হবে।
বিপক্ষের স্টিকের উপর দিয়ে বা পড়ে থাকা গোলকীপারের শরীরের উপর নিরে বল উঁচু করে নেয়ার অনুমতি রয়েছে, তবে তা অবশ্যই বিপজ্জনক খেলার ভিত্তিতে বিচার করতে হবে।
১.১০. বল সামনের দিকে চালনা করা
(১) বল শরীর দিয়ে সামনের দিকে কোনভাবেই বহন করে নেয়া যাবে না।
(২) প্রতিহত হয়ে ফিরে আসা বলের জন্য একজন খেলোয়াড়কে শাস্তি দেয়া যাবে। না যদি বলটি বিপক্ষের কোন খেলোয়াড় দ্বারা বেশ কাছ থেকে সরাসরি তার দিকে মারানা হয়ে থাকে।
(৩) গোল-কীপার হাত বা স্টিক বা প্যাড অথবা পায়ের পাতা দিয়ে লাথি মেরে বল। সামনের দিকে চালিত করলে এবং তা যদি বিপজ্জনক হয় বা হতে পারে এমন না হয় তবে তাকে শাস্তি দেয়া উচিত হবে না। স্টিকের সোজা দিক দিয়ে বা শরীরের কোন অংশ দিয়ে বলটিকে ক্রসবারের উপর বা পোস্টের যে কেন দিকে ছুঁয়ে বা দিক পরিবর্তন করে দেয়া যাবে যদি না বিপজ্জনক হয়
১.১১ স্টিক দিয়ে বাধা দেয়া
আকশি দিয়ে টেনে ধরার মত করে স্টিক টেনে ধরা বা স্টিকে আঘাত করাকে অবশ্যই দন্ড দিতে হবে। কোন খেলোয়াড় যদি উচ্ছৃংখলভাবে বল মারতে গিয়ে বলের পরিবর্তে বিপক্ষ দলের খেলোয়াড় বা তার স্টিকে আঘাত করে তবে তাকে শাস্তি দিতে হবে । কোন খেলোয়াড় বলের দিকে তার স্টিক ছুঁড়ে মারতে পারবে না ।
১ (১২).(১৩) শারীরিক বাধা হওয়া এবং দেয়া
এ্যডভান্টেজ আইন প্রয়োগ করা ছাড়া আম্পায়ার আইনে বর্ণিত খেলাতে বাধা দেয়া বা বাধা হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে বিশেষভাবে দৃঢ় থাকবেন।
এটা মনে রাখতে হবে যে, বাধা সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে খেলোয়াড় থেকে বল কত দূরে ছিল তার উপর নির্ভর করে না।
যদি কোন খেলোয়াড়ের দখলে বল থাকে তবু সে বিপক্ষ খেলোয়াড় ও বলের ভিতর শরীর এনে বাধার সৃষ্টি করতে পরবে না। অর্ধ বৃত্তাকারভাবে শরীর ঘুরিয়ে দিক পরিবর্তন করলে এই রকম বাধার সৃষ্টি হতে পারে। আবার এটাও মনে রাখতে হবে যে, বল নিয়ে সম্পূর্ণভাবে ঘুরে গেলেও আইন ভংগ হয় না যদি বিপক্ষ দল বল খেলতে গেলে তাতে বাধার সৃষ্টি না হয়।
হিট-ইন এর সময়ও খেলাতে বাধার সৃষ্টি হয় তাই এটা সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে।
একজন খেলোয়াড় কিছুতেই তার শরীর বা স্টিক বিপক্ষ খেলোয়াড় এবং বলের মধ্যে এনে বাধার সৃষ্টি করতে পারবে না। তৃতীয় পক্ষ বাধা দানের ব্যাপারেও লক্ষা রাখতে হবে, যেমন সহোযোগী খেলোয়াড়কে বলটি অপসারণ বা খেলার সুযোগ করে দিতে, বিপক্ষ খেলোয়াড় ও বলের মাঝখানে এসে বাধার সৃষ্টি করতে। এই অপরাধ গুলির অন্য নাম আছে, যেমনঃ
শ্যাডো, অবস্ট্রাকশন, শেফার্ডিং, ব্লকিং, আউট এমনকি সাধারণভাবে যাকে বলা হয় ক্লোজ মার্কিং ।
২.৩ গোলকীপার
গোল কীপার তার কাঁধের উপরের বলকে স্টিক দিয়ে বা হাত দিয়ে মারতে পারবে। না বা শরীর দিয়ে বলটিকে সামনের দিকে ধাক্কা দিতে পারবে না । আম্পায়ারগণ গোল কিপারের এই আইন ভংগের ব্যাপারে খুবই নমনীয়তা দেখাবেন।
আরও কতগুলি প্রচলিত অপরাধ হলে এর চেয়ে বেশি প্রচলিত আইন ভংগ করা হয়। বলটি যখন পিছনে চলে যাচ্ছে তখন বিপক্ষ দলের খেলোয়াড় আর বলের মধ্য দিয়ে দৌড়িয়ে বিপক্ষদলের খেলোয়াড় যখন বলটি বেরিয়ে যেতে দেয় এবং বিপদমুক্ত করার জন্য বলটিকে বিপজ্জনকভাবে মারে ।
এই আইন গোল কীপারকে যতটুকু সুবিধা দিয়েছে তার চেয়ে বেশি সুবিধা কিছুতেই দেয়া যাবে না ।
গোল-কীপারগণ বিপজ্জনকভাবে বলে লাথি দিতে পারবে না । ১২৩ গোল কীপারের বা অন্য কোন খেলোয়াড়ের ইচ্ছাকৃত কোন কার্যকলাপের ফলে মাঠের উপর যদি কোন সরঞ্জাম পড়ে যায় এবং এর জন্য একটি সম্ভাব্য গোল হতে না দেয় এটা তখন আইনের ধারা অনুযায়ী বিবেচনা করা হয়।
শাস্তি
উগ্র ও বিপজ্জনক খেলার, অসদাচরণ ও ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভংগের অথবা সময় অপচয়ের ব্যাপারগুলি ভালভাবে লক্ষ্য করতে এবং প্রয়োজনীয় শাস্তি আরোপ করতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে পূনঃপুনঃ আইন ভংগ করার ব্যাপারে এই আইনে সুন্দর সমাধান আছে। যখন উগ্র ও বিপজ্জনক খেলা প্রাধান্য পেতে থাকে তখন খেলোয়াড়দেরকে সমাধান করে দিলে খেলাটা আম্পায়ারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে না। ঐ সমস্ত আইন বৃত্তের মধ্যে হলে আইন ১৬ অনুযায়ী বিধান দেয়া যায় কিনা বিচার করতে হবে।
এই আইন সাময়িক বাহষ্কৃত খেলোয়াড়কে প্রথম অর্ধেক খেলা শেষে বা বিরতির সময় তার দলের সাথে তাকে মিলিত হতে কোন রকম বাধা দেয়নি। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হওয়ার সময় তার নির্দিষ্ট স্থানে সে ফিরে যাবে যদি না তখন তার বহিষ্কার আদেশ রদ হয়।
