গোল্লাছুট খেলার আইন কানুন । খেলাধুলার আইন

গোল্লাছুট খেলার আইন কানুন নিয়ে আজ কথা বলবো। গোল্লাছুট খেলা আমাদের গ্রাম বাংলার একটি জনপ্রিয় খেলা। খোলা মাঠে বা বাগানের মধ্যে এই খেলা হয়ে থাকে। গোল্লাছুট খেলা খেলেনি এমন একটি ছেলেমেয়ে গ্রামে পাওয়া যাবে না।

এই খেলা হয় মূলত দুটি দলের মধ্যে। প্রতিদলে থাকে কম পক্ষে চারজন থেকে আটজন পর্যন্ত খেলোয়াড়। খেলার আগে দুই দল মিলিতভাবে মাঠের সীমানা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। গোল্লাকে কেন্দ্র করে মাঠের সীমানা ঠিক কতটা দূরে অবস্থিত হবে তার জন্য নির্দিষ্ট কোন মাপ নেই। তবে যে সীমানাই নির্ধারিত হোক না কেন তা যেন স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

 

গোল্লাছুট খেলার আইন কানুন । খেলাধুলার আইন

 

গোল্লাছুট খেলার আইন কানুন । খেলাধুলার আইন

গ্রামাঞ্চলে গোল্লাছুট খেলার সময় ছেলেরা বড় গাছকে বা ইট-পাথর বা গাছের গুঁড়ি দিয়ে সীমানা নির্দিষ্ট করে থাকে। এই সীমানা হলো এই খেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কারণ গোল্লা থেকে ছুটে গিয়ে খেলোয়াড়দের এই সীমানা ছোঁয়া বা স্পর্শ করাই হলো এই খেলার মূল উদ্দেশ্য।

অন্য খেলার মতো গোল্লাছুট খেলাতেও দুই দলের নেতারা কে আগে দান শুরু করবেন তার জন্য টস করে নেবে।
টসে সিদ্ধান্ত নেয়ার পর যে দান আগে শুরু করবে, সেই দলের একজন মূল খেলোয়াড়ের কাজ হবে গোল্লা আগলানো। এখন জানা দরকার গোল্লাবস্তুটি কি?

 

গোল্লাছুট খেলার আইন কানুন । খেলাধুলার আইন
গোল্লাছুট

 

গোল্লাছুটের গোল্লা বলতে বোঝায় একটি গর্ত। এই গর্তই হলো এই খেলার প্রাণ। এই গোল্লা থাকবে মাঠের চারপাশের সীমানার ঠিক মাঝখানে। যিনি গোল্লা আগলাবেন, তার কাজ হবে গোল্লার মধ্যে একটা পা দিয়ে রাখা। অর্থাৎ তার একপা থাকবে গোল্লার গর্তের মধ্যে, অন্য পা তিনি রাখতে পারেন যে কোন জায়গায়। এই দলের অন্য সমস্ত খেলোয়াড়েরা যিনি গোল্লা পাহারা দিচ্ছেন বা আগলাচ্ছেন তার হাত ধরে একের পর এক হাত ধরাধরি করে দাঁড়াবেন। বিপক্ষের খেলোয়াড়েরা মাঠের চারদিকে ওঁৎ পেতে দাঁড়াবেন, যাতে গোল্লা আগলানো দলের খেলোয়াড়েরা তাদের ফাঁকি দিয়ে সীমানায় পৌঁছতে না পারে।

 

গোল্লাছুট খেলার আইন কানুন । খেলাধুলার আইন

 

গোল্লাছুট খেলার আসল উদ্দেশ্য হলো এক দলের সীমানায় পৌঁছনো আর অন্য দলের কাজ হলো তাদের প্রতিপক্ষকে সীমানায় পৌঁছতে না দেয়া।

আগেই বলেছি একজন মূল খেলোয়াড় গোল্লায় পা দিয়ে দাঁড়াবেন। তার একটি পা থাকবে গর্তের মধ্যে, অন্য পা যতটা সম্ভব প্রসারিত অবস্থায় যে কোন দিকে রাখা চলবে। এই গোল্লায় দাঁড়ানো মূল খেলোয়াড়টির হাত ধরে দলের বাকি খেলোয়াড়েরা হাত ধরাধরি করে দাঁড়িয়ে ঘুরতে থাকবেন। তাদের কাজ হবে এইভাবে ঘুরতে ঘুরতে এক সময় গোল্লা থেকে ছিটকে বেরিয়ে গিয়ে তীর বেগে ছুটে লক্ষ্যস্থলে বা সীমানায় গিয়ে পৌঁছনো।

বিপক্ষ খেলোয়াড়েরা যারা মাঠের মধ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন, তাদের কাজ হবে গোল্লা থেকে ছিটকে বেরিয়ে আসা খেলোয়াড়টিকে লক্ষ্যস্থলে পৌঁছবার আগে ধরে ফেলা বা মোর করা। যে দল গোল্লা আগলাবে তাদের দলের যদি একজন খেলোয়াড়ও লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেন, তাহলে সেই দল দান জিতেছে বলে ধরে নেয়া হবে।

 

গোল্লাছুট খেলার আইন কানুন । খেলাধুলার আইন

 

কিন্তু যদি দেখা যায় সেই দলের কোন খেলোয়াড়ের পক্ষেই লক্ষ্যস্থলে পৌঁছনো সম্ভব হয়নি, যদি তারা সকলেই লক্ষ্যে পৌঁছবার আগেই মোর হয়ে যায়, তাহলে সেই দলের দান শেষ হয়েছে বলে গন্য করা হবে এবং যে দল এতক্ষণ মাঠ আগলাচ্ছিল সেই দল গোল্লা দখল করে আবার নতুনভাবে দান শুরু করবে।

এই প্রসঙ্গে আর একটা কথা জানা দরকার, তা হলো যারা সীমানা আগলাবে তাদের দলের খেলোয়াড়েরাও মোর বা আউট হতে পারেন। তারা মোর হবেন কি করে? যদি দেখা যায় গোল্লা আগলানো অবস্থায় কোন খেলোয়াড় গোল্লার সঙ্গে হাত ধরাধরি করে ঘুরতে ঘুরতে বিপক্ষের কোন খেলোয়াড়কে ছুঁয়ে ফেলেছেন, তাহলে ফিল্ডিং দল বা সীমানা আগলানো দলের সেই খেলোয়াড়টি মোর হয়েছেন বা আউট হয়েছেন, বলে ধরে নেয়া হবে। সেই মোর বা আউট হওয়া খেলোয়াড়টি তখন মাঠের বাইরে চলে যাবেন। সেই দানের মধ্যে তার আর অংশগ্রহণের কোন অধিকার থাকবে না।

মনে রাখতে হবে গোল্লা হলো একটি নিরাপদ জায়গা যা ছুঁয়ে থাকলে সেই খেলোয়াড়দের কোনভাবে স্পর্শ করা যায় না। বরং এই অবস্থায় বিপক্ষের কোন খেলোয়াড় যদি তাদের স্পর্শ করেন, তাহলে তাকে মোর হিসাবে চিহ্নিত করা হবে।

 

গোল্লা থেকে যে কোন খেলোয়াড় যে কোন সময় যে কোন দিকে ছিটকে বেরিয়ে গিয়ে সীমানা ছুঁতে পারেন। গোল্লা ছুঁয়ে শুধু ঘুরলে চলবে না, গোল্লা থেকে বেরিয়ে ছুটতেও হবে । এমন কি যিনি গোল্লা আগলাবেন তাকেও ছুটতে হবে।

একটি দলের দান শেষ হলে অন্য দল তবেই দান পাবে। এইভাবে পর্যায়ক্রমে দান চলবে। খেলার সময় আগেই নির্দ্ধারিত করা থাকে। এই সময়ের মধ্যে যে দল বেশিবার সীমানা স্পর্শ করতে পারবে, সেই দল পয়েন্ট বেশি পাওয়ার ভিত্তিতে ম্যাচ জিতবে।
উত্তেজনাময় এই খেলাটি গ্রামবাংলায় আজও জনপ্রিয়। বর্তমান শহরাঞ্চলেও এই খেলার জনপ্রিয়তা যথেষ্ঠ বেড়ে গেছে।

Leave a Comment