তিন দিনের মধ্যেই জিতল রাজশাহী। মিরপুরে খুলনাকে হারিয়ে এই নতুন প্রমাণ দিল রাজশাহী ক্রিকেট দল। শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে রাজশাহীর ৭ উইকেটের জয়ে নজরকাড়া ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ছিল প্রথম ইনিংসে সাত নম্বরে ব্যাটিং করা শাখির হোসেনের ৮৯ রান।
ম্যাচ জিততে রাজশাহীর সামনে ১০৯ রানের লক্ষ্য ছিল। নাজমুল হোসেনের নেতৃত্বে রাজশাহী দলটি ২৩.৫ ওভারেই লক্ষ্যটি অতিক্রম করে। যখন জয় পেতে ১ রান প্রয়োজন ছিল, তখন সাব্বির রহমান কাউ কর্নার দিয়ে বিশাল এক ছক্কা মেরে দলকে জয় এনে দেন। জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই ব্যাটসম্যান মাত্র ৭ বলে ১২ রান করেন। রান তাড়ায় রাজশাহীর হয়ে সর্বোচ্চ ৬২ রান করেন ওপেনার হাবিবুর রহমান। সাব্বিরের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে ৭৩ রান যোগ করে জয় নিশ্চিত করেন হাবিবুর।
এর আগে, তৃতীয় দিন খুলনা ১ উইকেটে ৬৮ রান নিয়ে খেলা শুরু করে এবং ২৫৫ রানে অলআউট হয়। সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন মেহেদী হাসান মিরাজ। আর চারজন ব্যাটসম্যান ৩০ রান ছাড়ালেও ইনিংস বড় করতে পারেননি। রাজশাহীর জাতীয় দলের ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা ৭১ রানে ৩ উইকেট নেন। অন্য পেসার আলী মোহাম্মদ ওয়ালিদও ৩ উইকেট নিয়েছেন, তিনি ২৯ রান দেন। ম্যাচসেরা হন অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার এসএম মেহেরব, যিনি ৫ উইকেট নিয়েছেন।
মুশফিক অপরাজিত ৯৩ রান
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে মুশফিকুর রহিমের ১৮টি সেঞ্চুরি আছে, যার মধ্যে একটি মাত্র সেঞ্চুরি তিনি করেছেন জাতীয় ক্রিকেট লিগে। মাত্র তিন বছর আগে রাজশাহীর হয়ে ঢাকা মহানগরের বিপক্ষে ১১০ রান করেছিলেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মুশফিক। এবারও তিনি জাতীয় লিগে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছেছেন। সিলেট বিভাগের হয়ে খেলা মুশফিক ঢাকা বিভাগের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৯৩ রানে অপরাজিত থেকে তৃতীয় দিন শেষ করেছেন। তার দল সারা দিন ব্যাটিং করেছে। বিনা উইকেটে ৩৩ রান নিয়ে দিন শুরু করা সিলেট দিন শেষ করেছে ৭ উইকেটে ২৬০ রান তুলে। ঢাকার চেয়ে এখনো ৫০ রানে পিছিয়ে সিলেট।
মুশফিক যখন ব্যাটিংয়ে নামেন, তখন সিলেটের স্কোর ছিল ৮২ রান, ৩ উইকেট হারিয়ে। রান ১১৮ হলে আরও ২ উইকেট পড়ে যায়। এরপর শাহানুরকে (৩০) নিয়ে মুশফিক ৯৪ রানের একটি জুটি গড়েন। ১৭০ বল খেলে তিনি ৪টি চার ও ২টি ছক্কা মারেন।
কক্সবাজারে বৃষ্টির প্রভাব
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে চট্টগ্রাম ও বরিশালের ম্যাচের তৃতীয় দিনে খেলা হয়েছিল মাত্র ১৫ ওভার। আগের রাতের বৃষ্টির কারণে আউটফিল্ড খেলার অনুপযুক্ত হয়ে যায়। মাঠ ঠিক করতে দেরি হওয়ায় এই সমস্যা হয় এবং আলোকস্বল্পতার কারণে খেলা আগেভাগে বন্ধও হয়ে যায়। ২ উইকেটে ১১৫ রান নিয়ে দিন শুরু করা বরিশাল দিনশেষে ২ উইকেটে ১৬৬ রান তুলে।
পাশের একাডেমি মাঠে ময়মনসিংহ ও রংপুরের ম্যাচেও একই কারণে কোনো বল খেলা সম্ভব হয়নি।
