আতলেতিকো মাদ্রিদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় কে?
বেশিরভাগ ফুটবলপ্রেমী সম্ভবত একটাই নাম বলবেন—হুলিয়ান আলভারেজ। গত বছরের আগস্টে ম্যানচেস্টার সিটি ছেড়ে আতলেতিকো মাদ্রিদে যোগ দেওয়ার পর এক বছরের মধ্যেই তিনি হয়ে উঠেছেন কোচ দিয়েগো সিমিওনের অন্যতম আস্থাভাজন। এই মৌসুমে লা লিগা এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ মিলিয়ে করেছেন ৯ গোল, যার মধ্যে ৭টি এসেছে লা লিগায়। এই লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার পিচিচি ট্রফির দৌড়ে বর্তমানে তিনি দ্বিতীয় স্থানে আছেন।
ফরাসি দৈনিক লে’কিপকে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে আলভারেজ জানিয়েছেন তার ফুটবলযাত্রার শুরু থেকে বর্তমান পর্যন্ত পথচলার গল্প। ২০২২ সালের জুলাইয়ে তিনি ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং তারপর স্পেনের আতলেতিকোতে পাড়ি জমিয়েছেন। মাত্র তিন বছরের মধ্যে তিনি আজ ইউরোপের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকারে পরিণত হয়েছেন।
শৈশবে রিয়াল মাদ্রিদে ট্রায়াল দেওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে আলভারেজের। তবে তিনি মনে করেন, তখন ইউরোপে পাড়ি জমানো তার জন্য ছিল খুবই তাড়াতাড়ি। তার ভাষায়, “১১ বছর বয়সে আমি বাবার সঙ্গে স্পেনে গিয়েছিলাম। প্রায় ২০ দিন সেখানে ছিলাম, রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে অনুশীলন করেছি, পেরালাদায় একটি টুর্নামেন্টও খেলেছি এবং জিতেছিলাম। কিন্তু তখন ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া আমার জন্য খুব তাড়াতাড়ি ছিল।”
আধুনিক ফুটবলে শারীরিক শক্তি অনেক গুরুত্বপূর্ণ, আর আলভারেজের উচ্চতা এই দিক থেকে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতায় তিনি রিভার প্লেটে প্রথম ট্রায়াল দিয়েছিলেন এবং তার এই উচ্চতা নিয়ে সেসময় কিছু আলোচনা হয়েছিল। তবে তিনি একদম বিচলিত ছিলেন না এবং তার খেলাধুলায় আত্মবিশ্বাস ছিল।
অন্যদিকে, আলভারেজের শরীরে ট্যাটু নেই—এটি তাকে অন্য ফুটবল তারকাদের থেকে আলাদা করেছে। হাসতে হাসতে তিনি বললেন, “আর্জেন্টিনা দলের ক্যাম্পে কেউ বলছিল, আমি নাকি একমাত্র খেলোয়াড় যার শরীরে কোনো ট্যাটু নেই। তবে আমি অন্যদের চেয়ে আলাদা হওয়ার জন্য এটা করি না। ছোটবেলায় বাবা বলতেন, ট্যাটু নয়, সিগারেট নয়, মদ নয়। বড় হয়ে সবাই নিজের মতো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আমার ট্যাটুর প্রয়োজন অনুভব হয়নি।”
ম্যানচেস্টার সিটিতে দুই মৌসুমে ৩৬ গোল করলেও, হলান্ডের ছায়ায় থেকে নিজের পুরো প্রতিভা প্রদর্শন করতে পারেননি আলভারেজ। তিনি জানান, “আমি যথেষ্ট সময় পেয়েছি, তবে সব গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নয়। অনেক সময় বদলি হিসেবে নামতে হয়েছে।”
আলভারেজের পারফরম্যান্স তাকে স্পেনে এনে পৌঁছায়। তিনি বললেন, “কয়েকটি ক্লাব থেকে প্রস্তাব পেয়েছিলাম, তবে আতলেতিকোকে বেছে নিয়েছি কারণ এখানে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ ছিল।”
এছাড়া, সম্প্রতি তার নাম অনেকবার দলের বদলানোর কথায় উঠেছে, যেমন বার্সেলোনায় লেভানডফস্কির বিকল্প হিসেবে, বা পিএসজিতে সম্ভাব্য স্ট্রাইকার হিসেবে। তবে আলভারেজ এখন আতলেতিকোতেই মনোযোগী। তার ভাষায়, “আমি জানি না, কে কী বলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক কিছু লেখা হয়। তবে আপাতত আমি আতলেতিকোতেই মনোযোগী। মৌসুম শেষে দেখা যাবে।”
অবশেষে, ২০২৩ সালের ব্যালন ডি’অর তালিকায় তিনি সপ্তম স্থানে ছিলেন, তবে পরবর্তী দুই বছর তিনি ৩০ জনের মধ্যে জায়গা পাননি। আলভারেজ এতে বিচলিত নন, “বিশ্বের সেরা ৩০ জনের মধ্যে থাকা এবং ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা—এটা অবশ্যই সম্মানের। আমি যা ভালোবাসি, তা করছি। ফুটবল খেলাই আমার জন্য যথেষ্ট।
