ফুটবলের দুই জীবন্ত কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পা ফেলেছেন বয়সের চার দশকের দিকে, তবু পারফরম্যান্সের বিচারে এখনও তাঁরা বিশ্ব ফুটবলের কেন্দ্রবিন্দু। রোনালদোর বয়স ৪০ ছুঁইছুঁই, মেসির ৩৮; কিন্তু মাঠে নামলে তাঁরা যেন সময়কে পিছনে ঠেলে দেন। আধুনিক ফুটবলে এমবাপ্পে, হলান্ড, ভিনিসিয়ুস বা ইয়ামালের মতো তারকারা আলো ছড়ালেও আলোচনায় এখনো সমানভাবে বিদ্যমান এই দুই মহাতারকা।
গত রাতের পারফরম্যান্সই তার প্রমাণ। সৌদি প্রো লিগে আল নাসরের হয়ে যোগ করা সময়ে একটি নিখুঁত বাইসাইকেল কিকে গোল করেন রোনালদো। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের ৯৫৪তম গোল। গোলসংখ্যার বিচারে তিনি ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অবস্থান করছেন—হাজার গোলের সামনে দাঁড়িয়ে যেন আরেকটি অসম্ভবকে সম্ভব করার পথে হাঁটছেন।
অন্যদিকে, আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি আবার দেখালেন কেন তাঁকে শুধু গোলদাতা নয়, বরং খেলার অন্যতম সেরা নির্মাতা বলা হয়। ইন্টার মায়ামির হয়ে সিনসিনাটি এফসিকে ৪–০ ব্যবধানে হারানোর সেমিফাইনালে তিনি একটি গোল করেন এবং আরও তিনটি গোলে সরাসরি সহায়তা দেন। ফলে তাঁর ক্যারিয়ারের মোট অ্যাসিস্ট দাঁড়ায় ৪০৪টিতে, আর গোল সংখ্যা ৮৯৬। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে তাঁর গোল অবদান ১৩০০ ছুঁয়েছে—যা ফুটবল ইতিহাসে বিরলই বলা চলে।
দুজনের পারফরম্যান্স প্রমাণ করে, বয়স শুধু কাগজে লেখা সংখ্যা। শারীরিক সক্ষমতা, খেলায় প্রভাব, নেতৃত্ব—সব দিক থেকেই তাঁরা এখনও বিশ্বসেরা মানের। দুই দশকের বেশি সময় ধরে তাঁরা যেভাবে একে অন্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় রেখেছেন, সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আজও অটুট। বয়স বাড়লেও তাঁদের আলো নিভে যায়নি, বরং ফুটবলের নতুন প্রজন্মের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাঁরা নিজেদের কিংবদন্তির মর্যাদা আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করে চলেছেন।

