২০২৫ সালে পাকিস্তান ক্রিকেটের সবচেয়ে আলোচিত নাম এখন সালমান আলি আগা। অনেকেই তাকে ২০২৩–২৪ সালে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উঠতি প্রতিভা হিসেবে দেখলেও, ২০২৫ সালের পারফরম্যান্সে তিনি পাকিস্তানের নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ মুখ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বে টি–টোয়েন্টিতে অপরাজিত দল রাখা সহজ ছিল না। পাকিস্তান দলের ভবিষ্যৎ গড়ার সম্ভাবনা রাখছেন এই তরুণ অধিনায়ক।
তবে ব্যাটিং পারফরম্যান্সে সমালোচনা রয়েছে। টি–টোয়েন্টিতে তাঁর স্ট্রাইক রেট মাত্র ১১৩। পাকিস্তানের আক্রমণাত্মক ক্রিকেটে এটি যথেষ্ট কম। এমনকি ব্যাটিং অর্ডারেও তাঁর প্রতি আস্থা বেশিরভাগ কোচ ও সিলেক্টরদের মধ্যে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। কিন্তু ব্যাটিং সমালোচনা সত্ত্বেও পাকিস্তানের বড় জয়গুলো এসেছে তাঁর কৌশলগত নেতৃত্বে।
ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, সালমান চাপের সময় শান্ত থাকতে পারেন। দলকে আক্রমণাত্মক করার পাশাপাশি শক্তিশালী ফিল্ডিং সেট–আপ, বোলিং রোটেশনে কৌশল, এবং বিরূপ পরিস্থিতিতে ফোকাস ধরে রাখা—এসব গুণ তাঁর নেতৃত্বকে উন্নত করেছে। তাঁর নেতৃত্ব না থাকলে পাকিস্তান ২০২৫ সালের ট্রাই–সিরিজে অপরাজিত থাকতে পারত কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন যথেষ্ট।
এ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলে ইতিহাস গড়েন সালমান। ৫৪ ম্যাচ খেলে ধোনি ও দ্রাবিড়কে পিছিয়ে দিয়ে তিনি নজর কেড়ে নিয়েছেন ক্রিকেট বিশ্বে। ব্যাটসম্যান নয়, বরং ট্যাকটিক্যাল ক্যাপ্টেন হিসেবে সালমানের গুরুত্ব বাড়ছে। পাকিস্তান দল যে আক্রমণাত্মক ক্রিকেটের পথ ধরে হাঁটছে, তার অনেকটাই কৃতিত্ব যাবে এই নতুন প্রজন্মের অধিনায়কের কাছে।
কেউ হয়তো বলবেন—ব্যাটিংয়ে উন্নতি না করলে বড় তারকা হওয়া যাবে না। অন্যদিকে ক্রিকেট আধুনিক যুগে নেতৃত্বের গুণ মাপা যায় কৌশল দিয়ে। সেক্ষেত্রে সালমান বাংলাদেশের সাকিব আল হাসানের মতো কিংবা ভারতের ধোনির মতো ভবিষ্যতে বড় প্রভাব রাখতে পারেন।
পাকিস্তানের ক্রিকেট কাঠামো যদি তাঁকে সময় দেয়, সমালোচনা থেকে রক্ষা করে, তবে সালমান হয়ে উঠতে পারেন পাকিস্তানের সবচেয়ে প্রভাবশালী আধুনিক অধিনায়ক।
