মৌসুমের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা ভক্তদের ভাবিয়ে তুলছে। মঙ্গলবার রাতে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে এভারটনের কাছে ১–০ গোলে হারের পর প্রশ্ন উঠছে—এই দল কি আগামী মৌসুমেও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে? টপ ফোরে ওঠার জন্য ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এমন সময়ে প্রতিপক্ষ ১০ জন থাকা সত্ত্বেও ইউনাইটেড সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়।
প্রথম থেকেই ইউনাইটেডের খেলা ছিল অগোছালো। এভারটন ম্যাচের শুরুতে অনেক বেশি সংগঠিত ছিল, যার ফলে তারা ইউনাইটেডের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করতে সফল হয়।
প্রথম ১৫ মিনিটে বল দখলের লড়াই:
| দল | বল দখল |
|---|---|
| এভারটন | ৫৯% |
| ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড | ৪১% |
ইতিমধ্যে এভারটন দুইটি আক্রমণাত্মক সুযোগ তৈরি করে। ইউনাইটেডের পক্ষে কোনো আক্রমণ তৈরি হয়নি।
ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে ২৬ মিনিটে। ইদ্রিসা গেইয় নিজের সহখেলোয়াড় মাইকেল কিনের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে চড় মারেন। ফলে তিনি সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। স্টেডিয়ামে উপস্থিত দর্শকরা তখন ধরে নেয়—ইউনাইটেড খুব সহজেই ম্যাচটি ঘুরিয়ে দেবে।
কিন্তু দৃশ্যপট বদলায় না। বরং আরও খারাপ হতে থাকে।
৩০তম মিনিটে ডিউসবেরি-হল দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে গোল করেন। গোলের আগে ইউনাইটেড মাঝমাঠে বল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। রক্ষণভাগও ঠিকভাবে পজিশন নিতে পারেনি।
এরপর ইউনাইটেড আক্রমণ বাড়ালেও তা ছিল ফিনিশিংয়ের অভাবে ভুগতে থাকা এক দলের পরিচয়।
ইউনাইটেডের আক্রমণসংক্রান্ত পরিসংখ্যান:
| সূচক | সংখ্যা |
|---|---|
| মোট শট | ২৫ |
| অন-টার্গেট | ৬ |
| পেনাল্টি বক্সে সুযোগ | ৪ |
| কী-পাস | ৭ |
আক্রমণের শেষ ধাপে দুর্বলতা, মিডফিল্ডে সৃজনশীলতার অভাব, এবং ডিফেন্সে বাছাবাছি—সবকিছু মিলেই ইউনাইটেডের ব্যর্থতা প্রকট হয়ে ওঠে।
কোচ রুবেন আমোরিম ম্যাচ শেষে বলেন, “আমাদের খেলা যদি এমন থাকে, তাহলে শীর্ষ পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করা অসম্ভব।”
ময়েস বলেন, “১০ জন থাকা সত্ত্বেও ছেলেরা যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।”
গত এক বছর ধরে ইউনাইটেডের সমস্যাগুলো একই—দুর্বল রক্ষণ, মাঝমাঠের অস্থিরতা, এবং ফরোয়ার্ড লাইনে ধারহীনতা। নতুন কোচ, নতুন কৌশল, নতুন খেলোয়াড়—কিছুই স্থায়ী সমাধান আনতে পারেনি।
অতএব, প্রশ্ন থেকেই যায়—ইউনাইটেডের পথচলা কোন দিকে?
