রাওয়ালপিন্ডির গ্যালারিতে তখন নিস্তব্ধ উত্তেজনা। ম্যাচের ফল নিয়ে নয়—উত্তেজনা ছিল পাতুম নিশাঙ্কার সেঞ্চুরি ঘিরে। জিম্বাবুয়ের দেওয়া ১৪৭ রানের লক্ষ্যে ছুটছিল শ্রীলঙ্কা, কিন্তু দর্শকের চোখ ছিল একদম অন্য জায়গায়। নিশাঙ্কার রানের ঘর কখন তিন অঙ্ক ছুঁবে!
১৭তম ওভারের শুরুতে শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য প্রয়োজন মাত্র ১০ রান, আর নিশাঙ্কার সেঞ্চুরি পেতে লাগবে ১২। তখনই রিচার্ড এনগারাভা করলেন ওয়াইড—উত্তেজনা আরও বাড়ল। পরের বলটি বাউন্ডারি! নিশাঙ্কা পৌঁছে গেলেন ৯২–এ। কিছু দর্শক চেয়েছিলেন বাউন্ডারির খেলা, আবার কেউ চেয়েছিলেন টানটান উত্তেজনা ধরে রাখতে। কিন্তু নিশাঙ্কা ভিন্ন মানুষ। হিসাব–নিকাশে না গিয়ে গর্বের সাথে তুলে মারলেন বড় ছক্কা—দলকে জিতিয়ে অপরাজিত ৯৮ রানে থামলেন।
এর বাইরেও ছিল শ্রীলঙ্কার লড়াইয়ের গল্প। ত্রিদেশীয় সিরিজে টিকে থাকতে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে জয় ছিল বাধ্যতামূলক। জিম্বাবুয়ে ব্যাটিংয়ে ভালো শুরু করে ১৪৬ রান সংগ্রহ করেছিল রাজা ও বার্লের জোড়া ৩৭–এর সুবাদে। তবে লঙ্কান ওপেনারদের ঝড়ো সূচনা শ্রীলঙ্কাকে দ্রুত ম্যাচে এগিয়ে দেয়। কামিল মিশারা বিদায় নেওয়ার পর দায়িত্ব নেন নিশাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিস।
নিশাঙ্কার ইনিংস শুধু ম্যাচ জয়ের গল্প নয়, ইতিহাস রচনারও অংশ। এই ইনিংসে তিনি কুশল পেরেরাকে টপকে আন্তর্জাতিক টি–টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ রান–সংগ্রাহক হয়ে গেলেন—২৩২৬ রানে। তাঁর ঠিক পেছনেই মেন্ডিস ও পেরেরা।
এই জয়ের ফলে শ্রীলঙ্কার ফাইনালের আশা টিকে গেল। এখন পাকিস্তানকে হারালেই ফাইনাল নিশ্চিত, হারলে নেট রান রেটের নিয়মে বাদ।
