ইউরোপিয়ান ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে সাধারণত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে রিয়াল মাদ্রিদ, বার্সেলোনা কিংবা বায়ার্ন মিউনিখের মতো জায়ান্ট ক্লাবগুলো। কিন্তু এবার সেই আলো নিজের করে নিয়েছে তুলনামূলক ছোট ক্লাব সাইপ্রাসের পাফোস এফসি। ফরাসি শক্তিশালী দল মোনাকোর বিপক্ষে ২–২ গোলে ড্র করে শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টই অর্জন করেনি পাফোস, বরং ফুটবল ইতিহাসে যুক্ত করেছে এক অনন্য অধ্যায়।
এই ম্যাচের সবচেয়ে উজ্জ্বল মুহূর্তটি আসে ১৮তম মিনিটে। কর্নার থেকে আসা বল হেড করে জালে পাঠান ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ডেভিড লুইজ। সেই গোলেই জন্ম নেয় ইতিহাস। বয়স ৩৮ বছর ২১৮ দিন—এই বয়সে চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল করে লুইজ উঠে যান সবচেয়ে বয়সে গোল করা খেলোয়াড়দের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে।
Table of Contents
টট্টিকে ছাড়িয়ে, পেপের পথে ডেভিড লুইজ
ডেভিড লুইজের এই গোলটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি পেছনে ফেলে দিয়েছে ইতালিয়ান কিংবদন্তি ফ্রান্সেসকো টট্টির দীর্ঘদিনের রেকর্ড। ২০১৪ সালে রোমার জার্সিতে সিএসকেএ মস্কোর বিপক্ষে ৩৮ বছর ৫৯ দিন বয়সে গোল করেছিলেন টট্টি। সেই রেকর্ড এতদিন অটুট ছিল।
লুইজের সামনে এখন কেবল একজনই—পেপে। পর্তুগিজ ডিফেন্ডার ২০২৩ সালে শাখতার দোনেস্কের বিপক্ষে ৪০ বছর ২৯০ দিন বয়সে গোল করে চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে বয়সী গোলদাতার চূড়ান্ত রেকর্ড গড়েছেন।
চ্যাম্পিয়নস লিগে সবচেয়ে বয়সে গোল: তুলনামূলক চিত্র
| খেলোয়াড় | দল | বয়স | প্রতিপক্ষ | সাল |
|---|---|---|---|---|
| পেপে | রিয়াল মাদ্রিদ | ৪০ বছর ২৯০ দিন | শাখতার দোনেস্ক | ২০২৩ |
| ডেভিড লুইজ | পাফোস | ৩৮ বছর ২১৮ দিন | মোনাকো | ২০২৫ |
| ফ্রান্সেসকো টট্টি | রোমা | ৩৮ বছর ৫৯ দিন | সিএসকেএ মস্কো | ২০১৪ |
৮ বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগে গোল: লুইজের ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তন
এই গোলটি শুধু বয়সের রেকর্ডেই সীমাবদ্ধ নয়। ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের দিক থেকেও এটি ডেভিড লুইজের জন্য এক আবেগঘন প্রত্যাবর্তন। দীর্ঘ ৮ বছর পর তিনি আবার চ্যাম্পিয়নস লিগে গোলের স্বাদ পেলেন। সর্বশেষ তিনি এই আসরে গোল করেছিলেন ২০১৭ সালে, চেলসির জার্সিতে।
পাফোসের মতো একটি ক্লাবে এসে, যেখানে ইউরোপিয়ান মঞ্চে অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে, সেখানে এমন এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত উপহার দেওয়া লুইজের নেতৃত্বগুণ ও মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ।
আশির দশকের জন্মানোদের প্রথম গোল
পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান Opta জানিয়েছে, ডেভিড লুইজের এই গোলটি চ্যাম্পিয়নস লিগে আশির দশকে জন্মানো খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রথম গোল। আধুনিক ফুটবলে যেখানে তরুণদের আধিপত্য, সেখানে এই তথ্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
গোলটি আসে মোনাকোর অভিজ্ঞ গোলকিপার লুকাস হ্রাদেকির বিপক্ষে, যিনি নিজেও ইউরোপের বড় বড় মঞ্চে বহু ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা রাখেন।
