নারী বিগ ব্যাশে এমন এক সিদ্ধান্ত ক্রিকেট ইতিহাসে ঠাঁই পেতে বাধ্য—কারণ মাঠে বৃষ্টি না থাকলেও আম্পায়ার বললেন, “বৃষ্টি হচ্ছে।” সিডনি থান্ডারের খেলোয়াড় এবং সমর্থকদের কাছে বিষয়টি যেন নাটকের স্ক্রিপ্ট। অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে সিডনি থান্ডারের জয় প্রায় নিশ্চিত হয়েই যাচ্ছিল; মাত্র ৩ রান বাকি। এমন মুহূর্তে খেলা থামানো—এ যেন ক্রিকেটের প্রতি এক নিষ্ঠুর উপহাস।
ঘটনার শুরু বৃষ্টিজনিত বিলম্ব থেকে। ম্যাচ কমে পাঁচ ওভারে নেমে আসে। অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স ব্যাট করে ৪৫ রানের লক্ষ্য দেয়। লক্ষ্য খুব শুরুর মতো মনে হলেও সিডনির অধিনায়ক লিচফিল্ড তা আরও সহজ করে দেন। তার দ্রুত ১৫ বলে ৩৮ রানের ইনিংস স্কোরবোর্ডে বজ্রপাতের মতো ছাপ ফেলে। ২.৫ ওভারে ৪৩ রান তুলে নেওয়া মানে প্রায় ‘কাগজে-কলমে জয় হয়ে যাওয়া।’ উইকেট কোনোই নয়।
এই অবস্থায় আম্পায়ার ঘোষণা করেন—খেলা বন্ধ। তার পর বলা হয়, ম্যাচ পরিত্যক্ত। যেন আকাশ ভেঙে পড়ার মতো সিদ্ধান্ত। মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাটাররা, এমনকি বোলাররাও অবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল। কেন? কোথায়? কীসের জন্য?
ধারাভাষ্যকার অ্যালিস্টার নিকলসন বললেন, “সাম্প্রতিক সময়ে এমন লজ্জাজনক সিদ্ধান্ত দেখিনি।” সাবেক টেস্ট তারকা ক্যালাম ফার্গুসন তো আরও কঠোর ভাষায় বলেন, “এটা ক্রিকেটের চেহারাকে কলঙ্কিত করছে।”
অনেকে মনে করছেন, অ্যাডিলেডের সুবিধা বাঁচাতে ম্যাচ থামানো হয়েছে। কেউ কেউ এমনও বলছেন যে “এটা কাকতালীয় নয়!”
এমন প্রশ্ন উঠেছে—
নিয়ম কি আম্পায়ারের অনুভূতির ওপর নির্ভর করবে?
বৃষ্টি না থাকলে খেলা থামানোর অধিকার কীভাবে প্রয়োগ হলো?
বল ভেজা হলে তা প্রমাণের দায়িত্ব কার?
এমন বিতর্কে নারী ক্রিকেট যেন গৌরবের বদলে চাপের মুখে পড়ছে। সামাজিক মাধ্যম ক্ষোভে ফেটে পড়েছে, বিশেষ করে সিডনি থান্ডারের সাপোর্টাররা লিখছেন—“আমাদের জয় কেড়ে নেওয়া হয়েছে।”
