টেস্ট সিরিজ হার, অধিনায়ক সংকট—দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে স্বস্তি খুঁজছে ভারত

ভারতীয় ক্রিকেট দল যেন একের পর এক ধাক্কা সামলানোর চেষ্টা করছে। টেস্ট সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে ২–০ ব্যবধানে হারের পর এবার শুরু হচ্ছে ওয়ানডে সিরিজ, কিন্তু পরিস্থিতি এখানেও স্বস্তির নয়। একের পর এক ইনজুরিতে জর্জরিত ভারতকে আবারও নামতে হচ্ছে নতুন এক অধিনায়কের নেতৃত্বে। শুভমান গিল ঘাড়ের ইনজুরিতে ছিটকে যাওয়ায় ভারতের হয়ে টানা তৃতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচে দেখা যাবে তৃতীয় নতুন অধিনায়ককে—এবার দায়িত্বে থাকছেন কেএল রাহুল।

এর বাইরে তাদের নিয়মিত ওয়ানডে সহ–অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারও মাঠের বাইরে আছেন অস্ট্রেলিয়ায় ক্যাচ নিতে গিয়ে পাওয়া পাঁজরের চোটের কারণে। ফলে দলে জায়গা খোঁজা, ব্যাটিং অর্ডার সাজানো এবং বোলিং কম্বিনেশন তৈরি—সব কিছুতেই ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে নিতে হবে নতুন সিদ্ধান্ত।

তবে ভারতের কাছে ওয়ানডে ফরম্যাট অনেকটা ‘স্বস্তির জায়গা’। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তারা এ ফরম্যাটে দারুণ সফল—এশিয়া কাপ জয়, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়, আর শেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও তারা হেরেছে শুধুই ফাইনালে। তবুও আত্মতুষ্টির কোনো সুযোগ নেই, কারণ পরবর্তী ওয়ানডে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে। আর সেই বিশ্বকাপ সামনে রেখে এখনই দল তৈরি ও খেলোয়াড় পরিচর্যার বিষয়গুলো খুব সতর্কভাবে পরিকল্পনা করতে বাধ্য ভারত।

সেই সঙ্গে বড় প্রশ্ন—২০২৭ সালের বিশ্বকাপ পর্যন্ত রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কতটা প্রতিযোগিতামূলক থাকবেন? দুজনই ওয়ানডেতে এখনো অমূল্য সম্পদ, কিন্তু বয়স নিয়েও তৈরি হচ্ছে আলোচনা। এর সঙ্গে আরেক বড় ধাঁধা—দলের জন্য একজন নির্ভরযোগ্য সিম–বোলিং অলরাউন্ডার পাওয়া। সে কারণে ভারতের দল নির্বাচনে পরীক্ষানিরীক্ষার প্রবণতাও স্পষ্ট।

অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা আত্মবিশ্বাসে টগবগ করছে। তারা সদ্য ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জিতেছে, এবং এবার ওয়ানডে সিরিজেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায়। দলটিও প্রায় পূর্ণ শক্তির—তবে কাগিসো রাবাদা ইনজুরির কারণে নেই। তবে টেম্বা বাভুমা ও আইডেন মার্করামের ফেরা ব্যাটিং লাইনআপকে আরও শক্তিশালী করেছে, আর কেশব মহারাজ যোগ করেছেন স্পিন নিয়ন্ত্রণ।

রাঁচি এমন একটি মাঠ, যেখানে বড় রান তেমন দেখা যায় না। পিচ কিছুটা ধীর, আর শিশির থাকলে পরে ব্যাটিং সহজ হয়। ফলে টস এখানে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ভারতকে তাই শুধু ব্যাটিং–বোলিং নয়, কন্ডিশনও বুঝে মাঠে নামতে হবে।

ভারত সাম্প্রতিক পাঁচ ওয়ানডেতে তিনটিতে জিতেছে, আর দক্ষিণ আফ্রিকা জিতেছে দুইটিতে। দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স ও টেস্টের ফল মিলিয়ে এই সিরিজে উত্তেজনার কমতি থাকার কথা নয়।

শ্রেয়াস আইয়ার নেই, শুভমান গিল নেই—ফলে ইয়াশস্বী জয়সওয়াল ওপেনিংয়ে সুযোগ পেতে চলেছেন। আর মাঝের সারিতে সম্ভবত রুতুরাজ গায়কওয়াড় নামবেন। রিশভ পন্ত দলে ফিরলেও সম্ভাবনা কম আছে যে তিনি একাদশে থাকবেন, কারণ ভারতকে দুইজন অলরাউন্ডার খেলাতেই হবে।

ভারতের সম্ভাব্য একাদশে থাকতে পারেন—রোহিত, কোহলি, জয়সওয়াল, গায়কওয়াড়/পন্ত, রাহুল, জাদেজা, সুন্দর, নিতিশ রেড্ডি, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ, অর্জদীপ সিংহ ও হর্ষিত রানা।

অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা ওপেনিংয়ে রাখছে মার্করামকে, তার সঙ্গে থাকবেন ডি কক। তিন নম্বরে বাভুমা, পরে ব্রিট্জকে—যিনি প্রথম পাঁচ ওয়ানডেতে পাঁচটি পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংস খেলে রেকর্ড গড়েছেন।

সব মিলিয়ে ভারত টেস্টের আঘাত থেকে বেরিয়ে আসতে চাইবে, আর দক্ষিণ আফ্রিকা চাইবে প্রাধান্য ধরে রাখতে। ওয়ানডে সিরিজটি হয়তো আলোচনা বেশি হবে না, কিন্তু মাঠে লড়াই হবে বেশ টানটান।

Leave a Comment