বাংলাদেশি প্রবাসী ফুটবল তারকা আরহাম ইসলাম এবার অস্ট্রেলিয়া অ-২০ দলে ডাক পেয়েছেন। চলতি বছরের শুরুতেই তার জন্য এটি বিশেষ মুহূর্ত, কারণ গত বছরের বয়সভিত্তিক ম্যাচে বাংলাদেশের হয়ে খেলার পর এক বছরের মধ্যেই নতুন জাতীয় দলের সুযোগ পাওয়াটা আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে বড় ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আরহামের আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়েছিল গত বছরের নভেম্বরে, যখন তিনি কম্বোডিয়ায় অনুষ্ঠিত এএফসি অ-১৭ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে অংশ নেন। সেসময় বাংলাদেশ দলের হয়ে খেলা ছাড়াও তার পারফরম্যান্স প্রশংসিত হয়েছিল। তবে এরপর থেকে বাংলাদেশের দলে আর ডাক মেলেনি। এবার অস্ট্রেলিয়া দলে ডাক পাওয়ায় তার ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় শুরু হলো এবং এটি আন্তর্জাতিক ফুটবলের নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।
চলতি মাসে অস্ট্রেলিয়া দল একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলতে যাত্রা করবে, যেখানে জাপান ও স্পেন অ-২০ দলও অংশ নেবে। এছাড়া সিরিজ চলাকালে ক্লাব দলগুলোর সঙ্গে কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচও অনুষ্ঠিত হবে। ওয়েস্টার্ন ইউনাইটেড ক্লাবের হয়ে খেলা আরহামের জন্য এটি বিশেষ চ্যালেঞ্জ হিসেবে ধরা হচ্ছে, কারণ তাকে নতুন দলের কৌশল ও দলের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী একজন ফুটবলার কেবল একবার জাতীয়তা পরিবর্তন করতে পারেন। এর ফলে, যদি আরহাম এই টুর্নামেন্টে অংশ নেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের হয়ে খেলতে পারবে না। এ সিদ্ধান্ত তার জন্য যেমন বড় সুযোগ, তেমনই বড় দায়িত্বও বহন করছে।
নিচের টেবিলে তার সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| সাল | টিম | টুর্নামেন্ট/সিরিজ | ভূমিকা | উল্লেখযোগ্য তথ্য |
|---|---|---|---|---|
| ২০২৫ | বাংলাদেশ অ-১৭ | এএফসি অ-১৭ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব | খেলোয়াড় | আন্তর্জাতিক অভিষেক, কম্বোডিয়া |
| ২০২৬ | অস্ট্রেলিয়া অ-২০ | ত্রিদেশীয় সিরিজ (জাপান, স্পেন) | ডাকপ্রাপ্ত খেলোয়াড় | আন্তর্জাতিক জাতীয়তা পরিবর্তন, ওয়েস্টার্ন ইউনাইটেড ক্লাবের সাথে খেলার অভিজ্ঞতা |
আরহামের এই জাতীয়তা পরিবর্তন ও নতুন দলের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা আন্তর্জাতিক ফুটবলে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার জন্ম দেবে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তার ক্যারিয়ারের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তরুণ বয়সে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করা তার দক্ষতা বৃদ্ধি করবে এবং ভবিষ্যতে ক্লাব ও জাতীয় দল উভয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরহামের এই নতুন অধ্যায় বাংলাদেশের জন্যও একটি গর্বের বিষয়, কারণ তার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেশের ফুটবলের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এই যাত্রা শুধু আরহামের জন্য নয়, বাংলাদেশের যুব ফুটবলারদের জন্যও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।