ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লিওনেল মেসি দেখার আশায় সকাল থেকেই কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামে জড়ো হয়েছিল হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী। এই বিশেষ ‘জি.ও.এ.টি. ইন্ডিয়া টুর’-এর জন্য দর্শকরা ছিল অত্যন্ত উত্তেজিত ও উন্মাদনা নিয়ে পূর্ণ। প্রদীপ ধর নামের এক ভক্ত বলেন, “মেসিকে একবার চোখে দেখার জন্য চার হাজার টাকার টিকিট কিনেছিলাম। মন্ত্রীদের দেখার জন্য টাকা নষ্ট করিনি।”
প্রদীপের মতো আরও অনেক ভক্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে, শারীরিক ক্লান্তি সইতে সইতে স্টেডিয়ামে এসেছিলেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, “খড়্গপুর থেকে গভীর রাতের ট্রেনে এসে স্টেশনে কাটিয়েছি। টিকিটের টাকা কষ্ট করে জোগাড় করেছিলাম শুধু ঈশ্বরকে একবার দেখব বলে।”
মেসির জন্য স্টেডিয়ামে নানা আয়োজন ছিল। দর্শকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছাড়াও তার ৭০ ফুট উচ্চতার মূর্তি ভার্চুয়ালি উদ্বোধন, বিভিন্ন প্রদর্শনী ও বিশেষ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এই অনুষ্ঠানে শাহরুখ খানও তার ছোট সন্তান আব্রামকে সঙ্গে নিয়ে উপস্থিত হওয়ার কথা ছিল।
তবে মাঠে গিয়ে দর্শকদের প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তব চিত্র মিলেনি। মেসিকে ঘিরে নিরাপত্তা বলয়, উদ্যোক্তা, নেতা-মন্ত্রী এবং সেলিব্রিটিদের ভিড়ে সাধারণ দর্শকরা গ্যালারি থেকে তাকে ঠিকমতো দেখতে পারেননি। ধীরে ধীরে দর্শকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতে থাকে।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কিছু দর্শক আসন থেকে প্লাস্টিকের জলের বোতল ছুড়ে দেন। নিরাপত্তার কারণে মেসিকে দ্রুত মাঠ থেকে বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই বিশৃঙ্খলার ঘটনায় পুলিশ এবং আয়োজকদের মধ্যস্থতায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে তদন্তের অংশ হিসেবে আয়োজককে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভক্তদের হতাশা ফুটবল বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তকে অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। উপস্থিত দর্শকরা বলেন, “আমরা এতটা দূর থেকে এসেছি শুধু মেসির জন্য, কিন্তু তাকে ঠিকমতো দেখতে পারিনি। আমাদের প্রচেষ্টা এবং অর্থ দুটোই বৃথা গেছে।”
এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, বিখ্যাত খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভক্তদের সরাসরি যোগাযোগ এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। কলকাতার যুবভারতী স্টেডিয়ামের এই ঘটনা ফুটবল ভক্ত ও আয়োজকদের জন্য এক শিক্ষণীয় নজির হিসেবে থাকবে।
