গ্লোবাল সুপার লিগের বিশ্বমঞ্চে রংপুর রাইডার্সকে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন করার গৌরব অর্জন করেছেন মিকি আর্থার। আন্তর্জাতিক সেই শিরোপা জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) একাদশ আসরেও রংপুরের ডাগআউটে দেখা যাবে এই মাস্টারমাইন্ডকে। তবে বিশ্বজয়ের আনন্দ থাকলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে গত আসরের একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা এখনো তাড়া করে ফিরছে এই দক্ষিণ আফ্রিকান কোচকে। বিপিএলের গত মৌসুমে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থেকেও শিরোপা জিততে না পারার সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি এবার কোনোভাবেই হতে দিতে চান না তিনি।
বিপিএলের আসন্ন আসরকে সামনে রেখে আজ বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটিতে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নেমেছিল রংপুর রাইডার্স। সেই ম্যাচে হারের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের পরিকল্পনার কথা জানান মিকি আর্থার। গত আসরে রংপুর রাইডার্স টানা আটটি ম্যাচে জয়লাভ করে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গিয়েছিল। কিন্তু টুর্নামেন্টের শেষ দিকে এসে দলটি হঠাৎ করেই খেই হারিয়ে ফেলে এবং গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচগুলোতে হেরে বিদায় নেয়।
৫৭ বছর বয়সী এই কোচ সেই মুহূর্তটিকে ‘খাদের কিনারায় পড়ে যাওয়া’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “আপনি সবসময়ই চাইবেন প্রতিটি ম্যাচ জিততে। গত বছর আমরা প্রথম আট ম্যাচে অপরাজিত ছিলাম, কিন্তু এরপর আর কোনো জয় পাইনি। আমরা যেন হুট করে পথ হারিয়ে ফেলেছিলাম। এবার আমরা তেমন কিছু চাই না। ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে বসে আমরা আলোচনার মাধ্যমে বের করার চেষ্টা করব কেন গতবার এমন ছন্দপতন হয়েছিল।”
নিচে রংপুর রাইডার্স ও মিকি আর্থার সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সারণি আকারে দেওয়া হলো:
রংপুর রাইডার্স ও কোচ মিকি আর্থার: পরিসংখ্যান ও লক্ষ্য
| বিষয় | বিবরণ ও অর্জন |
| বর্তমান কোচ | মিকি আর্থার (দক্ষিণ আফ্রিকা)। |
| আন্তর্জাতিক সাফল্য | গ্লোবাল সুপার লিগ ২০২৪ চ্যাম্পিয়ন। |
| বিপিএল গত আসর | লিগ পর্বে টানা ৮ জয়, কিন্তু ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ। |
| পূর্বতন অভিজ্ঞতা | দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তান জাতীয় দলের প্রধান কোচ। |
| ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকানা | বসুন্ধরা গ্রুপ। |
| আসন্ন বিপিএল লক্ষ্য | গত আসরের ভুল শুধরে দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়। |
মিকি আর্থার কেবল কোচ হিসেবেই নয়, রংপুর রাইডার্স ফ্র্যাঞ্চাইজির একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবেও নিজেকে উপস্থাপন করেছেন। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো বড় দলের কোচিং করানোর অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হলেও রংপুরের পেশাদারিত্বে মুগ্ধ। তাঁর ভাষ্যমতে, “এই ফ্র্যাঞ্চাইজিটি খুব সুন্দরভাবে পরিচালিত এবং অত্যন্ত সুসংগঠিত। মালিকপক্ষ থেকে শুরু করে সাধারণ স্টাফ—সবার সঙ্গে কাজ করাটা আমার জন্য আনন্দের ও গর্বের।”
প্রস্তুতি ম্যাচে হারলেও মিকি আর্থার বিচলিত নন। বরং তিনি মনে করেন, ভুলগুলো টুর্নামেন্টের আগেই ধরা পড়া ভালো। গত আসরের ‘হতাশা’ থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার বিপিএলের পুরো আসর জুড়েই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চায় রংপুর রাইডার্স। আন্তর্জাতিক শিরোপার পর এবার ঘরোয়া ক্রিকেটের মুকুট পুনরুদ্ধারে মিকি আর্থারের ট্যাকটিকস কেমন হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
