ব্যর্থ ‘বাজবল’ তত্ত্ব: ব্রেন্ডন ম্যাককালামের বিদায় দাবি করলেন বয়কট

ইংল্যান্ড টেস্ট ক্রিকেটে ২০২২ সালে যখন ব্রেন্ডন ম্যাককালামের হাতে কোচের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়, তখন একে এক সাহসী বিপ্লব হিসেবে দেখা হয়েছিল। অধিনায়ক বেন স্টোকস এবং কোচ ম্যাককালাম মিলে উদ্ভাবন করেন ‘বাজবল’ নামের এক অতি-আক্রমণাত্মক ঘরানা। শুরুর ১১ টেস্টের ১০টিতেই জয়লাভ করে এই জুটি বিশ্বক্রিকেটে হইচই ফেলে দিলেও সময়ের সাথে সাথে সেই আক্রমণাত্মক ফুটবলীয় মেজাজ এখন ইংল্যান্ডের জন্য আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে চলতি অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তিন টেস্টের সবকটিতে হেরে লজ্জাজনকভাবে সিরিজ খোয়ানোর পর ইংল্যান্ডে এখন ম্যাককালামের অপসারণের দাবি জোরালো হচ্ছে।

পরিসংখ্যানে ‘বাজবল’ ও বর্তমান ইংল্যান্ড

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ইংল্যান্ডের এবারের হার কেবল সিরিজ হার নয়, বরং সেটি ছিল এক প্রকার বিনাশর্তে আত্মসমর্পণ। ৫ টেস্টের সিরিজের প্রথম ৩টি ম্যাচেই তারা হেরেছে মাত্র ১১ দিনে, যেখানে মাঠে অন্তত ১৫ দিন খেলা হওয়ার কথা ছিল। ভারতের বিপক্ষে হার এবং ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৫ ম্যাচের সিরিজ জিততে না পারা—সব মিলিয়ে ম্যাককালামের রণকৌশল এখন বড়সড় প্রশ্নের মুখে।

নিচে ম্যাককালাম ও স্টোকস আমলের একটি সামগ্রিক পরিসংখ্যান উপস্থাপন করা হলো:

ইংল্যান্ডের টেস্ট পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ (২০২২-২০২৫)

সূচকতথ্য ও পরিসংখ্যান
মোট পরিচালিত টেস্ট৪৪টি
সর্বমোট জয়২৫টি
সর্বমোট পরাজয়১৭টি
জয়ের হার (প্রথমার্ধ)প্রথম ১১ ম্যাচে ৯১% (১০ জয়)
জয়ের হার (পরবর্তী সময়)পরবর্তী ৩৩ ম্যাচে মাত্র ৪৫% (১৫ জয়)
অ্যাশেজ ফলাফল২ ম্যাচ হাতে রেখেই ৩-০ ব্যবধানে হার
মাঠের খেলার স্থায়িত্বপ্রত্যাশিত ২৫ দিনের বিপরীতে মাত্র ১১ দিনে সিরিজ ফয়সালা

জিওফ্রে বয়কটের ক্ষোভ ও কঠোর মন্তব্য

ইংল্যান্ড ক্রিকেটের চিরন্তন অভিভাবকতুল্য সাবেক ওপেনার জিওফ্রে বয়কট দলের এমন ছন্নছাড়া অবস্থায় নীরব থাকতে পারেননি। ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এ প্রকাশিত এক কলামে তিনি ‘বাজবল’ দর্শনকে ‘অন্ধ অহংকার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ৮৫ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি মনে করেন, ইংল্যান্ড ক্রিকেটের জন্য ম্যাককালাম ও স্টোকসের অবদান থাকলেও তাঁদের সময় এখন ফুরিয়ে এসেছে।

বয়কট অত্যন্ত কড়া ভাষায় লিখেছেন, “স্টোকস ও ম্যাককালাম এমন এক গর্ত খুঁড়ছেন যেটির শেষ তারা নিজেরাও জানেন না। বাজবল দর্শন এখন আমাদের ক্রিকেটের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি ইসিবির (ECB) নীতিনির্ধারক রব কি-কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সেরা দলগুলোর বিরুদ্ধে যখন ফলাফল প্রত্যাশিত নয়, তখন পরিবর্তনের বিকল্প নেই। এখনই সময় নতুন কোচের সন্ধানে নামার।”

অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও ম্যাককালামের অবস্থান

ম্যাককালামের সঙ্গে বর্তমান চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকলেও অ্যাশেজের এমন ভরাডুবি তাঁর গদি নড়বড়ে করে দিয়েছে। ৪৪ বছর বয়সী এই কোচ অবশ্য এখনই হার মানতে নারাজ। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর কাজ এখনো শেষ হয়নি এবং তিনি দায়িত্ব উপভোগ করছেন। তবে ২০২৬ সালের ইংলিশ সামারে তিনি স্বপদে থাকবেন কি না, এমন প্রশ্নে তিনি উত্তর দিয়েছেন, “এটি সম্পূর্ণ বোর্ডের সিদ্ধান্ত।”

অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি রিকি পন্টিংও ইংল্যান্ডের সমালোচনা করে বলেছেন, শতকের সেরা দল নিয়ে আসার দাবি করলেও ইংল্যান্ড আদতে ১১ দিনেই শেষ হয়ে গেছে। এখন দেখার বিষয়, মেলবোর্নের বক্সিং ডে টেস্টে সম্মান বাঁচাতে ইংল্যান্ড কোনো পরিবর্তন আনে কি না।

Leave a Comment