চলতি মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদে সকল প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৫টি ম্যাচ খেলার মধ্যে কিলিয়ান এমবাপ্পে মাত্র একটি ম্যাচে খেলেননি। বাকি সব ম্যাচে তিনি নিজেকে নিংড়ে দিয়েছেন। তবে ক্রমাগত খেলার চাপ এবং সার্বক্ষণিক মাঠে থাকার ফলে এমবাপ্পের বাঁ হাঁটুতে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফরাসি সংবাদমাধ্যম লেকিপ জানিয়েছে, শেষ কয়েকটি লা লিগা ম্যাচে তিনি হাঁটুর অস্বস্তি নিয়ে খেলেছিলেন, কিন্তু প্রথমদিকে রিয়ালের মেডিকেল টিম বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি।
শেষ পর্যন্ত বুধবার এমবাপ্পের বাঁ হাঁটুর এমআরআই পরীক্ষা করার পর রিয়াল নিশ্চিত হয়েছে, তার হাঁটুর মেনিসকাসে সমস্যা দেখা দিয়েছে। রিয়ালের মেডিকেল সার্ভিসেস এক বিবৃতিতে জানায়, “খেলোয়াড় কিলিয়ান এমবাপ্পের বাঁ হাঁটুতে সমস্যা ধরা পড়েছে। আপাতত তাঁকে বিশ্রামে রাখা জরুরি।”
এমবাপ্পের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, তিনি অন্তত তিন সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে থাকবেন। লেকিপও নিশ্চিত করেছে, আগামী তিন সপ্তাহ রিয়াল সমর্থকদের জন্য কঠিন সময় হবে, কারণ এই সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে রিয়ালকে সহায়তা করতে পারছেন না।
চলতি মৌসুমে এমবাপ্পে রিয়ালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৯টি গোল করেছেন তিনি, যা রিয়ালের ৫২টি গোলের ৫৫.৭%। লা লিগায়ও তার গোলই দলের সর্বোচ্চ। এমবাপ্পের অনুপস্থিতিতে রিয়াল আগামী কয়েকটি ম্যাচে—বেতিস, স্প্যানিশ সুপার কাপ (৭–১১ জানুয়ারি), লেভান্তে এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে মোনাকোর বিপক্ষে—তার খেলা নিশ্চিত নয়।
রিয়ালের কোচ জাবি আলোনসো এবং সমর্থকদের জন্য এটি নতুন বছরের শুরুতে এক বড় ধাক্কা। লা লিগায় ১৮ ম্যাচ শেষে ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল বার্সেলোনার ৪ পয়েন্ট পিছনে। এমবাপ্পের না থাকা দলকে প্রতিযোগিতায় বড় চাপের মুখে ফেলতে পারে।
এমবাপ্পের আগে ২০২৫ সালে ৫৯ গোল করে ক্লাব রেকর্ড স্পর্শ করেছিলেন, আর পিএসজি থেকে রিয়ালে যোগদানের পর ৮৩ ম্যাচে ৭৩ গোল করেছেন। তার বর্তমান চোট রিয়াল ও সমর্থকদের জন্য এক বড় উদ্বেগের বিষয়।
মৌসুমের পরিসংখ্যান (২০২৬–২০২৭)
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| প্রতিযোগিতা | সব মিলিয়ে ২৫ ম্যাচ |
| না খেলা ম্যাচ | ১ |
| মোট গোল | ২৯ |
| রিয়ালের মোট গোল | ৫২ |
| গোলের ভাগ | ৫৫.৭% |
| বয়স | ২৭ বছর |
| মাঠের বাইরে সময় | অন্তত ৩ সপ্তাহ |
| গুরুত্বপূর্ণ না খেলা ম্যাচ | বেতিস, স্প্যানিশ সুপার কাপ, লেভান্তে, চ্যাম্পিয়নস লিগ মোনাকো |
এভাবে এমবাপ্পের চোট কেবল তার নয়, রিয়ালের লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন বছরের শুরুতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
