বিশ্বকাপ ফুটবল শুরু হয়েছে, আর এই মুহূর্তে ফুটবল ভক্তরা শুধু খেলা নয়, দলগুলোর সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়েও উৎসুক। বিশেষ করে লিওনেল মেসির উপস্থিতি এবং তার প্রভাব নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন জার্মানির কিংবদন্তি ফুটবলার ও বায়ার্ন মিউনিখের তারকা টমাস মুলার।
মুলারের মতে, মেসি আর্জেন্টিনার জন্য দ্বৈত প্রভাব ফেলতে পারেন। একদিকে তিনি দলের জন্য শক্তিশালী আক্রমণাত্মক অস্ত্র হতে পারেন, আবার পরিস্থিতি অনুযায়ী নেতিবাচক প্রভাবও ফেলতে পারেন। ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপজয়ী দলের একজন সদস্য মুলার, সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তার মত প্রকাশ করেছেন।
ম্যাজেন্টা টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মুলার বলেন :
“আমার দৃষ্টিতে যদি মেসি বিশ্বকাপে থাকে, তবে তা খুবই আকর্ষণীয়। এটি অবশ্যই দলের সামগ্রিক ভারসাম্য বদলে দিতে পারে। ভালো দিকও থাকতে পারে, খারাপ দিকও।”
সম্প্রতি মুলার এমএলএস কাপের ফাইনালে মেসির ইন্টার মায়ামির বিপক্ষে খেলেছেন, যেখানে তার দল ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটস ৩-১ গোলে পরাজিত হয়। সেই ম্যাচে মেসিকে কাছ থেকে দেখার অভিজ্ঞতা থেকে মুলার মনে করেন, আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবসময় এমএলএসের মতো প্রভাব দেখা যাবে কি না, তা সন্দেহজনক। তিনি বলেন,
“যখনই সে বল পায়, তখনই দুর্দান্তভাবে সক্রিয় হয় এবং আক্রমণ তৈরি করে। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ পর্যায়ে এটা একইভাবে কাজ করবে কি না, তা বলা কঠিন।”
সাক্ষাৎকারে নিজের জাতীয় দল জার্মানির সম্ভাবনাও মুলার উল্লেখ করেছেন। চারবারের বিশ্বকাপজয়ী দল জার্মানি, ২০১৪ সালের শিরোপা জয়ী হলেও পরবর্তী দু’বার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছে। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের সম্ভাবনা নিয়ে মুলার বলেন,
“প্রথম দৃষ্টিতে প্রতিপক্ষদের নাম দেখলেই বোঝা যায়, পরের পর্বে ওঠা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক।”
মুলার জার্মানির গ্রুপের প্রতিপক্ষদের বিশ্লেষণ করেছেন।
| দল | বৈশিষ্ট্য ও মন্তব্য |
|---|---|
| কুরাসাও | ফুটবল মানচিত্রে নতুন, অচেনা দল |
| আইভরি কোস্ট | শক্তিশালী, কিন্তু জার্মানির সঙ্গে লড়াই হবে |
| ইকুয়েডর | দক্ষিণ আমেরিকার বাছাইপর্বের রানার্সআপ |
মুলারের বিশ্লেষণে বোঝা যায়, জার্মানির মনোযোগ শিরোপা নয়, বরং গ্রুপ পর্ব অতিক্রমের ওপর বেশি। মেসি ও আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রেও, তার উপস্থিতি দলের জন্য খেলোয়াড় ও কৌশলের ভারসাম্য বদলে দিতে পারে, যা বিশ্বকাপকে আরও রোমাঞ্চকর করে তুলবে।
