আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের শেষ ষোলোর উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে মিশর বেনিনকে ৩–১ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। ম্যাচের স্কোরলাইন যতটা সহজ মনে হলেও মাঠে লড়াই ছিল অত্যন্ত কঠিন। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ফলাফল ১–১ সমতা, ফলে মিশরকে জয় পেতে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।
ম্যাচজুড়ে বেনিন, যাদের ডাকনাম ‘চিতা’, মিশরের ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করে রাখে। শুরু থেকেই দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও গোলের সুযোগগুলো কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারছিল না। প্রথমার্ধে মিশরের ওমর মারমুশ গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়ে সুযোগ হাতছাড়া করেন। পরবর্তী মিনিটে সালাহর পাস থেকে মারমুশের আরেকটি শট বেনিনের গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন ইয়োহান রোচে।
৬৮তম মিনিটে মারওয়ান আতিয়ার দুরপাল্লার বাঁকানো শটে মিশর এগিয়ে যায়। তবে ৮৪ মিনিটে জোডেল ডসু গোল করে বেনিনকে সমতায় ফেরান। গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল শেনাওয়ি প্রথম শট রক্ষা করলেও রিবাউন্ডে ডসু গোল করতে সফল হন। অতিরিক্ত সময়ে ইয়াসির ইব্রাহিমের শক্তিশালী হেডারে আবার লিড নেয় মিশর। ম্যাচের ১২৩ মিনিটে মোহাম্মদ সালাহ গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন। এই গোলের মাধ্যমে তার আফ্রিকা কাপে গোলসংখ্যা ১০-এ পৌঁছে, যা মিশরের হয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ।
মিশরের গুরুত্বপূর্ণ গোলদাতাদের তালিকা:
| খেলোয়াড় | গোল সংখ্যা | অবস্থান | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| হাসান এল শাজলি | ১২ | ১ম | সর্বোচ্চ গোলদাতা |
| হোসাম হাসান | ১১ | ২য় | অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড |
| মোহাম্মদ সালাহ | ১০ | ৩য় | শেষ ষোলোর ম্যাচে জয়গোল |
| মারওয়ান আতিয়া | ৩ | – | গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ গোল |
| ইয়াসির ইব্রাহিম | ২ | – | হেডার গোল অতিরিক্ত সময়ে |
মিশর সাতবারের আফ্রিকা কাপ জয়ী। তারা গত পাঁচ আসরে তৃতীয়বারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। শেষ আটের ম্যাচের জন্য তারা ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত আগাদিরে অবস্থান করবে। তাদের কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আইভরি কোস্ট ও বুরকিনা ফাসোর ম্যাচের বিজয়ী।
ম্যাচে দুই দলের ইনজুরি চাপে ধাক্কা খায়। বেনিনের ফরোয়ার্ড তোসিন আইয়েগুন মাঠ ছাড়েন, আর মিশরের মোহাম্মদ হামদি বিরতির আগে ইনজুরির কারণে সরানো হয়। দ্বিতীয়ার্ধে রামি রাবিয়ার হেডার বেনিন গোলরক্ষক দানজিনৌ দুর্দান্তভাবে রুখে দেন।
শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে দুই গোলের মাধ্যমে মিশর নিশ্চিতভাবে জয়লাভ করে। চার বছর আগে ক্যামেরুনে রানার্স-আপ হওয়া এই দল এবার কোয়ার্টার ফাইনালে ফিরে এসেছে। উল্লেখযোগ্য, ২০০২ সালের পর থেকে মিশর কখনো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেও বাদ পড়েনি; এই সময়ে পাঁচবার ফাইনাল খেলে তিনবার শিরোপা জিতেছে তারা।
