হলিউড কিংবদন্তি মার্লন ব্র্যান্ডো একবার এক সাংবাদিকের প্রশ্নে বলেছেন, “কেউ আমাকে সর্বকালের সেরা অভিনেতা বলছে, এতে কী আসে–যায়!” ব্র্যান্ডো স্পষ্টভাবে তুলনা বা র্যাঙ্কিংকে গুরুত্ব দিতেন না। তাঁর যুক্তি ছিল, প্রত্যেকে তাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করে, সাফল্যের সংজ্ঞা ভিন্ন এবং কাজটা করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। এই দৃষ্টিভঙ্গি সিনেমার মতোই খেলার জগতে প্রযোজ্য।
ফুটবলে তুলনা অনিবার্য। সম্প্রতি রিয়াল মাদ্রিদের প্রধান কোচ হিসেবে আলভারো আরবেলোয়ার দায়িত্ব নেওয়ার পর তুলনামূলক আলোচনা উঠে এসেছে। তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার আগে, মাত্র ৭ মাসের কোচিংকালে জাবি আলোনসো রিয়ালকে ৩৪ ম্যাচে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, যেখানে ২৪টি জয়, ৪টি ড্র ও ৬টি পরাজয় ছিল। তবে স্প্যানিশ সুপার কাপ ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে ৩–২ গোলে হারের পর ১২ জানুয়ারি তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।
আরবেলোয়া জুন মাসে কাস্তিয়া (রিয়ালের ‘বি’ দল) থেকে প্রধান দলের দায়িত্ব নেন। তাঁর অধীনে রিয়ালের শুরুটা হতাশাজনক ছিল—কোপা দেল রে-তে আলবাসেতের কাছে ৩–২ গোলে হারের মাধ্যমে। তবে পরবর্তী তিনটি ম্যাচে তার দল জিতেছে—দুটি লা লিগা ও একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ। লেভান্তে ও ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে লিগে ২–০ জয় এবং মোনাকোকে ৬–১ গোলে হারানো চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচটি উল্লেখযোগ্য।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আরবেলোয়ার শুরুটা আলোনসোর চেয়ে কিছুটা বেশি সফল। প্রধান কিছু পরিসংখ্যান নিম্নে দেওয়া হলো:
| সূচক | আলোনসো (৩৪ ম্যাচ) | আরবেলোয়া (৪ ম্যাচ) |
|---|---|---|
| জিতেছে | ২৪ | ৩ |
| ড্র | ৪ | ০ |
| হেরেছে | ৬ | ১ |
| গোলকৃত | ৭২ (গড় ২.১১ প্রতি ম্যাচ) | ১২ (গড় ৩ প্রতি ম্যাচ) |
| গোল হজম | ১২ | ৪ |
| পোস্টে শট | ১৮.৮ প্রতি ম্যাচ | ২১.৫ প্রতি ম্যাচ |
| বল দখল | ৫৭.৩% | ৬৩.৯% |
| মোট পাস | ৫৫৩ | ৬১৮.১৫ |
| সফল পাস | ৪৯০ | ৫৫৫ |
| প্রতিপক্ষের অর্ধে সফল পাস | ৮৩.৪% | ৮৬.৬% |
| প্রতিপক্ষের শট হজম | ৪.৩ প্রতি ম্যাচ | ৩ প্রতি ম্যাচ |
পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, আরবেলোয়ার দল আক্রমণাত্মক ও বল দখলে রাখার ক্ষেত্রে আলোনসোর তুলনায় এগিয়ে। বিশেষত প্রতিপক্ষের অর্ধে উপস্থিতি, শট সংখ্যা ও পাসিং পারফরম্যান্সে উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কোচিং পরিবর্তনের পর স্কোয়াডে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না করেই তিনি এই ফলাফল পেয়েছেন। তবে কিছু খেলোয়াড় যেমন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, মিডফিল্ডার আরদা গুলেরক ও এডগুয়ার্দো কামাভিঙ্গার দায়িত্ব বেড়েছে। আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়ানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
আলোনসো ও আরবেলোয়া একসময় রিয়ালে সতীর্থ ছিলেন। আরবেলোয়া তাঁর সম্পর্কে বলেছেন, “ভাইয়ের মতো বন্ধু।” এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়, তুলনা করা কিছুটা আগে-আগেই উত্তেজিত সিদ্ধান্ত হতে পারে। কারণ আরবেলোয়ার যাত্রা এখন শুরু হয়েছে এবং আলোনসো যথেষ্ট সময় পাননি নিজের কোচিং দক্ষতা প্রমাণ করার জন্য। ব্র্যান্ডোর কথার মতোই, “কে সেরা, তাতে কী আসে–যায়! মূল বিষয় হলো কাজ করা।”
