২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে, আর এবার উত্তরের মহাদেশ—যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা—হবে ফুটবলের মহাযজ্ঞের মঞ্চ। শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা ও তার অধিনায়ক লিওনেল মেসি নতুন মরশুমে শিরোপা রক্ষার লক্ষ্যে মাঠে নামতে প্রস্তুত। বিশ্বকাপে বাকি সময় মাত্র চার মাসের কম থাকায় প্রতিটি প্রস্তুতি ও মানসিক কৌশলই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মেসি সম্প্রতি সাবেক সতীর্থ ও বর্তমানে নাহুয়েল গুজমান-এর সঙ্গে ‘মিরো দে আট্রাস’ পডকাস্টে আলাপে খোলাখুলিভাবে জানালেন, তিনি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে একটি দলের মুখোমুখি হতে বিশেষভাবে আগ্রহী নন—সেই দল হলো মেক্সিকো।
মেসি ফিরে যান ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপের স্মৃতিতে। সেবার গ্রুপ পর্বে মেক্সিকোর সঙ্গে ২-০ গোলের জয় আর্জেন্টিনার জন্য বাঁচা-মরার লড়াই ছিল। সৌদি আরবের কাছে অপ্রত্যাশিত হারের পর, এই ম্যাচে পরাজয় মানেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়। মেসি বলেন, “আমরা সেই ম্যাচে সত্যি বলতে ভয় নিয়ে মাঠে নামেছিলাম। চাপ, উদ্বেগ, অকাল বিদায়ের শঙ্কা—সব মিলিয়ে সেটা ছিল মানসিক পরীক্ষার দিন।”
ইতিহাসও প্রমাণ করে, আর্জেন্টিনা মেক্সিকোর বিরুদ্ধে সাধারণত এগিয়ে থাকে। তবে মেসি স্বীকার করেন, মেক্সিকো সবসময়ই জটিল প্রতিপক্ষ। বল দখলের ক্ষমতা, খেলার ছন্দ নষ্ট করার কৌশল এবং উচ্ছ্বাসপূর্ণ সমর্থকরা যে কোনো শক্তিশালী দলকেই অস্বস্তিতে ফেলতে পারে।
বিশ্বকাপের میزبان হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা বাড়তি সমর্থন পাবে। এ বাস্তবতা বিবেচনা করে, মেসি চান না টুর্নামেন্টের শুরুতেই মেক্সিকোর মুখোমুখি হতে।
নিচের টেবিলে ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার মেক্সিকোর সঙ্গে মুখোমুখি হওয়ার ফলাফল তুলে ধরা হলো:
| তারিখ | প্রতিপক্ষ | ফলাফল | গুরুত্ব |
|---|---|---|---|
| 2022 নভেম্বর | মেক্সিকো | 2–0 জয় | গ্রুপ পর্ব; বাঁচা-মরার লড়াই |
মেসি আরও যোগ করেন, “বিশ্বকাপ বা বড় টুর্নামেন্টে আমাদের প্রায়ই এই ধরনের প্রতিপক্ষের সঙ্গে দেখা হয়। আশা করি এবারও আমরা প্রথম রাউন্ডে সরাসরি মুখোমুখি হই না। তবে তাদের মাঠে খেলার প্রভাব সর্বদা থাকে—ভালো বা খারাপ, দু-ভাবেই।”
শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ের আগে মেসির সতর্ক মন্তব্যটি মনে করিয়ে দেয়, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হলেও ফুটবলে ভয়, চাপ ও কৌশল হিসাব-নিকাশের বাইরে কেউ নয়। এখন অপেক্ষা, উত্তর আমেরিকার মঞ্চে ভাগ্য কাকে অনুকূলে রাখে।
