অনূর্ধ্ব-২০ নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শক্তিশালী চীনের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এই রোমাঞ্চকর ম্যাচে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তুললেও শেষরক্ষা হয়নি। টুর্নামেন্টের অন্যতম দাবিদার চীনের কাছে ২-০ গোল ব্যবধানে হার মানতে হয়েছে বাংলাদেশকে। প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে তীরে এসে তরী ডোবার পর, এই ম্যাচেও হারলেও মাঠের পারফরম্যান্সে উন্নতির ছাপ স্পষ্ট ছিল।
Table of Contents
ম্যাচের গতিপ্রকৃতি ও প্রথমার্ধের লড়াই
ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে চীন। তবে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে করা ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে আজ রক্ষণভাগে বেশ সচেতন ছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের নায়ক বলা চলে গোলরক্ষক মিলি আক্তারকে। চীনের একের পর এক আক্রমণ তিনি অসীম সাহসিকতায় প্রতিহত করেন। বিশেষ করে ম্যাচের ৪৩ মিনিটে পরপর তিনটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে দিয়ে তিনি গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের চমকে দেন।
অন্যদিকে বাংলাদেশও যে কেবল রক্ষণ সামলেছে তা নয়, প্রতি-আক্রমণে চীনকে বেশ কয়েকবার পরীক্ষায় ফেলেছে। স্ট্রাইকার সাগরিকার একটি দারুণ শট চীনের গোলরক্ষক শেষ মুহূর্তে রুখে না দিলে ম্যাচের চিত্রনাট্য অন্যরকম হতে পারত। ফলে কোনো গোল ছাড়াই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধ: চীনের জয় নিশ্চিত
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ছন্দপতন ঘটে বাংলাদেশের রক্ষণে। বিরতি থেকে ফেরার মাত্র দুই মিনিটের মাথায় (৪৭ মিনিটে) চীনের ইউ শিন গুয়ে বাংলাদেশের এক ডিফেন্ডারের সামান্য অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে বল জালে জড়ান। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পরও হাল ছাড়েনি মারিয়া-সাগরিকা বাহিনী। লড়াই চালিয়ে গেলেও বলের দখল এবং আক্রমণের ধার বজায় রেখেছিল চীন।
৭১ মিনিটে মিলি আক্তার আরও একটি দুর্দান্ত সেভ করে ব্যবধান বাড়তে দেননি। তবে ৮২ মিনিটে চীনের ওয়াং আইফাংয়ের একটি নিখুঁত ফ্রি-কিক শট বাংলাদেশের প্রতিরোধ চুরমার করে দেয়। মিলি বলের নাগালে পেলেও গতির কারণে তা আটকাতে পারেননি। ফলাফল দাঁড়ায় ২-০। ম্যাচের শেষ দিকে চীন আরও কয়েকটি সুযোগ পেলেও বাংলাদেশের গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় ব্যবধান আর বাড়েনি।
পরিসংখ্যানের আয়নায় বাংলাদেশ বনাম চীন ম্যাচ
| বিষয় | বাংলাদেশ | চীন |
| গোল সংখ্যা | ০ | ২ |
| লক্ষ্যভেদী শট (On Target) | ৪ | ১১ |
| গোলরক্ষকের সেভ | ৯ | ৪ |
| বল দখল (Possession) | ৩৮% | ৬২% |
| কর্নার কিক | ৩ | ৮ |
| ফাউল | ৭ | ৫ |
শেষ আটে যাওয়ার সমীকরণ
টানা দুই ম্যাচ হারলেও বাংলাদেশের জন্য টুর্নামেন্টের স্বপ্ন এখনো শেষ হয়ে যায়নি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ভিয়েতনাম, ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৭ এপ্রিল। এশিয়ান কাপের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বের সেরা দুই দলের পাশাপাশি তৃতীয় স্থানে থাকা দলগুলোর মধ্যেও পয়েন্ট ও গোল পার্থক্যের ভিত্তিতে শেষ আটে যাওয়ার সুযোগ থাকে।
বাংলাদেশ যদি ভিয়েতনামকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করতে পারে এবং অন্যান্য গ্রুপের ফলাফল অনুকূলে থাকে, তবে সেরা দুটি তৃতীয় দলের একটি হয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে নাম লেখানোর গাণিতিক সম্ভাবনা টিকে থাকবে। তবে এর জন্য কেবল লড়াকু ফুটবল নয়, বরং ফিনিশিংয়ে আরও নিখুঁত হতে হবে সাগরিকা-তৃষ্ণাদের। থাইল্যান্ড ও চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে পাওয়া অভিজ্ঞতাই হতে পারে ভিয়েতনাম ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের মূল শক্তি।
