ইংলিশ ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী মঞ্চে আবারও দেখা গেল ম্যানচেস্টার সিটির নীল ঝড়ের তাণ্ডব। আর্লিং হলান্ডের বিধ্বংসী হ্যাটট্রিকে লিগ কাপের (কারাবাও কাপ) প্রথম কোয়ার্টার ফাইনালে লিভারপুলকে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। এই জয়ের মাধ্যমে টানা অষ্টমবারের মতো এই প্রতিযোগিতার সেমিফাইনালে ওঠার এক অনন্য রেকর্ড গড়ল সিটিজেনরা।
Table of Contents
ম্যাচের প্রেক্ষাপট ও শুরু
ম্যাচের আগে থেকেই দুই দলের আত্মবিশ্বাসে ছিল যোজন যোজন পার্থক্য। একদিকে এফএ কাপের শিরোপা জিতে আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থাকা ম্যান সিটি, অন্যদিকে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষস্থান থেকে ২১ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা ছন্নছাড়া লিভারপুল। মাঠের লড়াইয়েও সেই প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে। ম্যাচের শুরু থেকেই লিভারপুলের রক্ষণভাগ ছিল নড়বড়ে, যার সুযোগ নিতে সিটিজেনরা খুব একটা সময় নেয়নি।
হলান্ড ম্যাজিক ও প্রথম অর্ধাংশ
সিটিকে লিড নিতে অপেক্ষা করতে হয় ৩৯তম মিনিট পর্যন্ত। ডি-বক্সের ভেতরে লিভারপুল ডিফেন্ডার ভার্জিল ফন ডাইক তরুণ ফুটবলার নিকো ও’রাইলিকে ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে নিখুঁত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন নরওয়েজীয় গোলমেশিন আর্লিং হলান্ড।
প্রথম গোলের রেশ কাটতে না কাটতেই প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+২ মিনিটে) নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন হলান্ড। একটি চমৎকার ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। বিরতিতে যাওয়ার আগেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি সিটির হাতে চলে আসে।
পরিসংখ্যানের আয়নায় ম্যানচেস্টার সিটি বনাম লিভারপুল
| বিষয় | ম্যানচেস্টার সিটি | লিভারপুল |
| গোল সংখ্যা | ৪ | ০ |
| বল দখল | ৫৮% | ৪২% |
| মোট শট | ১৫ | ৭ |
| অন টার্গেট শট | ৯ | ২ |
| পাসিং নির্ভুলতা | ৮৯% | ৭৭% |
| কর্নার | ৬ | ৩ |
দ্বিতীয় অর্ধাংশ ও হ্যাটট্রিক পূর্ণ
বিরতির পর ফিরে এসে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে সিটি। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে ব্যবধান ৩-০ করেন ঘানার উইঙ্গার আন্তনিও সেমেনিও। তবে ম্যাচের মূল আকর্ষণ তখনও বাকি ছিল। ৫৭ মিনিটে সেই সেমেনিওর বাড়ানো বল থেকেই দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে নিজের হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন হলান্ড। ম্যানচেস্টার সিটির জার্সিতে এটি তাঁর ১২তম হ্যাটট্রিক, যা তাঁর ক্যারিয়ারের অবিশ্বাস্য ফর্মেরই প্রমাণ দেয়।
লিভারপুলের ব্যর্থতা ও রেকর্ড
লিভারপুল ম্যাচে ফেরার একটি সুযোগ পেয়েছিল ৬৫ মিনিটে। বক্সে ফাউলের সুবাদে পেনাল্টি পায় অলরেডরা। তবে মোহাম্মদ সালাহর নেওয়া সেই পেনাল্টি শটটি বীরত্বের সাথে রুখে দেন সিটির গোলকিপার জেমস ট্রাফোর্ড। ফলে ম্যাচে আর কোনো গোল শোধ করা সম্ভব হয়নি ইয়ুর্গেন ক্লপের শিষ্যদের।
এই হারের মাধ্যমে লিভারপুল এক মৌসুমে সিটির কাছে টানা তিন ম্যাচে পরাজিত হলো। এর আগে ২০১৫-১৬ মৌসুমে তারা ওয়েস্ট হামের কাছে এক মৌসুমে টানা তিন ম্যাচ হেরেছিল। অন্যদিকে, পেপ গার্দিওলার ম্যানচেস্টার সিটি প্রমাণ করল কেন তারা এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল।
লিভারপুলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে এভাবে উড়িয়ে দিয়ে সেমিফাইনালে পা রাখা সিটির জন্য শিরোপা জয়ের পথে বড় এক ধাপ। হলান্ডের এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্স আগামী ম্যাচগুলোতেও প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে থাকবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
