চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির সাম্প্রতিক ব্যর্থতা দেশটির ফুটবল কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করেছে। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে না পারা ‘আজ্জুরি’দের জন্য শুধু হতাশারই নয়, আত্মসমালোচনারও একটি অধ্যায়। এই ব্যর্থতার পরপরই ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন দেখা গেছে। প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা পদত্যাগ করেছেন, জাতীয় দলের প্রতিনিধিদলের প্রধানের দায়িত্ব ছেড়েছেন কিংবদন্তি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফন, আর সর্বশেষ কোচ জেনারো গাত্তুসো পারস্পরিক সমঝোতায় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।
গাত্তুসোর বিদায় অনেকটাই অনুমেয় ছিল। ফলে তাঁর সরে দাঁড়ানোর আগেই ইউরোপের বিভিন্ন গণমাধ্যমে সম্ভাব্য নতুন কোচ নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়। অভিজ্ঞতা, কৌশলগত দক্ষতা এবং ইতালিয়ান ফুটবলের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক—এই তিনটি মানদণ্ডে কয়েকজন কোচ এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
নিচে সম্ভাব্য কোচদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:
| কোচের নাম | বয়স | বর্তমান অবস্থা | উল্লেখযোগ্য সাফল্য |
|---|---|---|---|
| মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি | প্রায় ৫৭ | ক্লাব কোচ | একাধিক সিরি আ শিরোপা (জুভেন্টাস, মিলান) |
| রবার্তো মানচিনি | ৬১ | ক্লাব কোচ | ইউরো ২০২০ জয়, ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত |
| আন্তোনিও কন্তে | ৫৬ | নাপোলির কোচ | সিরি আ, প্রিমিয়ার লিগ, এফএ কাপ |
| ফাবিও কানাভারো | ৫২ | জাতীয় দলের কোচ (উজবেকিস্তান) | ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক |
| স্তেফানো পিওলি | ৬০ | বর্তমানে ফ্রি | ২০২২ সালে সিরি আ জয় (মিলান) |
মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি ইতালিয়ান ফুটবলে ধারাবাহিক সাফল্যের জন্য সমর্থকদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় নাম। জুভেন্টাসের সঙ্গে তাঁর সাফল্য, বিশেষ করে টানা লিগ শিরোপা জয়, তাঁকে জাতীয় দলের জন্য শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে বর্তমানে ক্লাবের দায়িত্বে থাকায় তাঁকে রাজি করানো সহজ হবে না।
রবার্তো মানচিনি ইতালির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে সফল কোচদের একজন। তাঁর অধীনেই ইতালি ইউরো ২০২০ জেতে এবং দীর্ঘ ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার রেকর্ড গড়ে। যদিও ২০২২ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর তিনি পদত্যাগ করেন, তবুও তাঁর অভিজ্ঞতা এবং ইতালিয়ান ফুটবলের প্রতি গভীর বোঝাপড়া তাঁকে আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
আন্তোনিও কন্তে একজন কৌশলী এবং কঠোর শৃঙ্খলাপরায়ণ কোচ হিসেবে পরিচিত। জাতীয় দলে আগেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ক্লাব পর্যায়ে জুভেন্টাস, চেলসি এবং ইন্টার মিলানের হয়ে অসাধারণ সাফল্য তাঁকে একটি শক্তিশালী প্রার্থী করে তুলেছে। তবে তাঁর বর্তমান চুক্তি একটি বড় বাধা হতে পারে।
ফাবিও কানাভারো—২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক—জাতীয় দলের সঙ্গে আবেগগতভাবে জড়িয়ে থাকা একটি নাম। যদিও কোচ হিসেবে তাঁর সাফল্য এখনো সীমিত, তবুও ইতালির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার প্রতীক হিসেবে তাঁকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে স্তেফানো পিওলি বর্তমানে কোনো ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত না থাকায় তুলনামূলকভাবে সহজলভ্য বিকল্প। তাঁর কোচিং ক্যারিয়ারে বড় সাফল্য কম হলেও, অভিজ্ঞতা এবং কৌশলগত স্থিরতা তাঁকে একটি সম্ভাব্য পছন্দে পরিণত করেছে।
সব মিলিয়ে, ইতালির নতুন কোচ নির্বাচন শুধু একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া নয়; এটি দেশটির ফুটবলের পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সঠিক সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, ‘আজ্জুরি’রা আবার কবে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে ফিরে যেতে পারবে।
