রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে উদ্দেশ্য করে বিতর্কিত ও বর্ণবৈষম্যমূলক মন্তব্যের অভিযোগে আর্জেন্টিনার তরুণ উইঙ্গার জানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তাকে ছয় ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
উয়েফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “বর্ণবৈষম্যমূলক আচরণ (সমকামবিদ্বেষী মন্তব্য)” করার দায়ে এই শাস্তি আরোপ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোট ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে তিন ম্যাচ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে এবং বাকি তিন ম্যাচ দুই বছরের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
Table of Contents
ঘটনার প্রেক্ষাপট
ঘটনাটি ঘটে গত ফেব্রুয়ারিতে চ্যাম্পিয়নস লিগের প্লে-অফ ম্যাচে। ওই ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র গোল করার পর বেনফিকার কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে উদযাপন করেন। সেই সময় স্টেডিয়ামে স্বাগতিক দর্শকদের উপস্থিতিও ছিল। গোল উদযাপনের পরপরই মাঠে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এরপর বেনফিকার খেলোয়াড়দের সঙ্গে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। কিছুক্ষণ পর ভিনিসিয়ুস অভিযোগ করেন যে তাকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী মন্তব্য করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রেফারি ম্যাচ সাময়িকভাবে বন্ধ করেন।
অভিযোগ ও তদন্ত প্রক্রিয়া
ঘটনার সময় ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সতীর্থ কিলিয়ান এমবাপে অভিযোগ করেন, জানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি জার্সি দিয়ে মুখ ঢেকে ভিনিসিয়ুসকে “বানর” বলে মন্তব্য করেছিলেন।
অন্যদিকে জানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি উয়েফার তদন্তে তার বিরুদ্ধে আনা বর্ণবাদী অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি জানান, তিনি কোনো বর্ণবাদী শব্দ ব্যবহার করেননি এবং কেবল “সমকামীবিরোধী” একটি শব্দ ব্যবহার করেছিলেন।
ঘটনার পর উয়েফা আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালেই শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাকে দ্বিতীয় লেগের ম্যাচ থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী পর্যায়ে বিস্তারিত তদন্ত শেষে চূড়ান্ত শাস্তির সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়।
শাস্তির কাঠামো ও কার্যকারিতা
উয়েফার ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রেস্তিয়ান্নির বিরুদ্ধে শাস্তি নিম্নরূপভাবে কার্যকর করা হয়েছে—
- মোট ছয় ম্যাচের জন্য নিষেধাজ্ঞা
- ছয় ম্যাচের মধ্যে তিন ম্যাচ তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর
- বাকি তিন ম্যাচ দুই বছরের জন্য স্থগিত
এই শাস্তির ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি উয়েফা-আয়োজিত ক্লাব প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন না।
উয়েফার নিয়ম অনুযায়ী, স্থগিত থাকা শাস্তি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একই ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। অর্থাৎ আগামী দুই বছরের মধ্যে একই ধরনের আচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হলে অতিরিক্ত তিন ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্ভাব্য প্রভাব
উয়েফা জানিয়েছে, এই শাস্তি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর করার জন্য বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যদি ফিফা এই অনুরোধ অনুমোদন করে, তবে এই নিষেধাজ্ঞা জাতীয় দলের ম্যাচ ও বিশ্বকাপসহ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়ও প্রযোজ্য হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে ডাক পাওয়া বা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে ফিফা যদি এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কার্যকর না করে, তাহলে শাস্তিটি কেবল উয়েফার ক্লাব প্রতিযোগিতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| খেলোয়াড় | জানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি |
| ক্লাব | বেনফিকা |
| প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় | ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (রিয়াল মাদ্রিদ) |
| প্রতিযোগিতা | চ্যাম্পিয়নস লিগ প্লে-অফ |
| ঘটনার সময় | ফেব্রুয়ারি |
| অভিযোগ | বর্ণবৈষম্যমূলক/সমকামবিদ্বেষী মন্তব্য |
| শাস্তি | ৬ ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা |
| কার্যকর শাস্তি | ৩ ম্যাচ তাৎক্ষণিকভাবে |
| স্থগিত শাস্তি | ৩ ম্যাচ (২ বছরের জন্য স্থগিত) |
| কর্তৃপক্ষ | উয়েফা |
| আন্তর্জাতিক প্রভাব | ফিফার কাছে প্রয়োগের অনুরোধ |
সামগ্রিক বিবরণ
উয়েফার তদন্ত শেষে ঘোষিত এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির বিরুদ্ধে আরোপিত শাস্তি নির্ধারিত শৃঙ্খলা কাঠামোর আওতায় কার্যকর করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত, অভিযোগ যাচাই এবং শাস্তি নির্ধারণ—সব প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্তভাবে এই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়।
