ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ধারাবাহিক ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বেরোতে পারেনি চেলসি। নটিংহাম ফরেস্টের মাঠে ৩-১ গোলের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে টানা ছয় ম্যাচে হারের রেকর্ড গড়ে দলটি। এই পরাজয়ের ফলে আগামী মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার সম্ভাবনা কার্যত শেষ হয়ে গেছে লন্ডনের ক্লাবটির।
৩৫ ম্যাচ শেষে চেলসির সংগ্রহ ৪৮ পয়েন্ট, যা তাদের নামিয়ে দিয়েছে পয়েন্ট তালিকার নবম স্থানে। প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ পাঁচ দল চ্যাম্পিয়নস লিগে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়। বর্তমানে পঞ্চম স্থানে থাকা অ্যাস্টন ভিলার পয়েন্ট ৫৮। লিগে চেলসির হাতে বাকি রয়েছে তিনটি ম্যাচ; সবগুলোতে জয় পেলেও তাদের সর্বোচ্চ পয়েন্ট দাঁড়াবে ৫৭, যা শীর্ষ পাঁচে ওঠার জন্য যথেষ্ট নয়।
ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ম্যাচ | নটিংহাম ফরেস্ট বনাম চেলসি |
| ফলাফল | ফরেস্ট ৩-১ চেলসি |
| চেলসির অবস্থান | ৯ম |
| ম্যাচ সংখ্যা | ৩৫ |
| পয়েন্ট | ৪৮ |
| শীর্ষ পাঁচে কাট-অফ | কমপক্ষে ৫৮ (বর্তমান) |
| বাকি ম্যাচ | ৩ |
ম্যাচের শুরুতেই চেলসির রক্ষণভাগের দুর্বলতা প্রকাশ পায়। খেলা শুরুর মাত্র ৯৮ সেকেন্ডের মাথায় গোল হজম করে বসে দলটি। দিলান বাকওয়ার ক্রস থেকে হেডে গোল করেন তাইও আয়োনিয়ি। ফরেস্ট ইউরোপা লিগের সেমিফাইনালের আগে তাদের মূল একাদশে আটটি পরিবর্তন এনেও কার্যকর পারফরম্যান্স দেখায়, যা চেলসির জন্য আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে।
১০ মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিলেন এনজো ফার্নান্দেজ, তবে তাঁর শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই চেলসির বিপদ আরও বাড়ে, যখন বক্সের মধ্যে আয়োনিয়িকে ফাউল করেন মালো গুস্তো। পেনাল্টি থেকে ইগর জেসুস গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ১৫ মিনিটের মধ্যেই চেলসি ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ে।
প্রথমার্ধের শেষ দিকে জেসি ডেরি ও জ্যাচ অ্যাবটের সংঘর্ষে খেলা প্রায় ১২ মিনিট বন্ধ থাকে। ডেরিকে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হয়। এই সময় চেলসি একটি পেনাল্টি পেলেও কোল পালমারের শট রুখে দেন ম্যাট সেলস, ফলে ব্যবধান কমানোর সুযোগ নষ্ট হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে চেলসির পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। মরগান গিবস-হোয়াইটের পাস থেকে আয়োনিয়ি নিজের দ্বিতীয় গোল করে ফরেস্টকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। পরে জোয়াও পেদ্রোর একটি গোল ভিএআরে বাতিল হয়। যোগ করা সময়ে পেদ্রো একটি গোল শোধ করলেও ম্যাচের ফলাফল তখন নির্ধারিত হয়ে গেছে।
এই ম্যাচে চেলসি প্রায় নয় ঘণ্টার গোলখরা কাটালেও ধারাবাহিক পরাজয়ের কারণে পয়েন্ট তালিকায় তাদের অবস্থান অবনতির দিকে গেছে। ফলে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় খেলার সম্ভাবনা এখন প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
