ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ঘরোয়া ফুটবল লিগের ম্যাচ কবে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা সাধারণ দর্শকের মনে নেই। কোভিড-১৯ মহামারির সময় থেকেই স্টেডিয়ামটি সংস্কারের আওতায় আনা হয়। সংস্কারকাজ শেষ হতে সময় লাগে প্রায় পাঁচ বছর। তবে কাজ শেষ হলেও দীর্ঘ সময় ধরে দেশের ঘরোয়া ফুটবল লিগের ক্লাবগুলোকে এই মাঠে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। যদিও আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে, ঘরোয়া লিগের ম্যাচ আয়োজন বন্ধই ছিল।
সবশেষ এই মাঠে বাংলাদেশ ও হংকংয়ের মধ্যে একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মাঠ দীর্ঘ সময় ফাঁকা থাকলেও ক্লাব ফুটবলকে এখানে খেলতে দেওয়া হয়নি। এই পরিস্থিতিতে মোহামেডান ও আবাহনীর মতো ঐতিহ্যবাহী ক্লাবগুলোকে ঢাকার বাইরে গিয়ে লিগ ম্যাচ খেলতে হয়েছে। মাঠ সংস্কারের কথা বলা হলেও এই সময়েও ঘরোয়া লিগের আয়োজন হয়নি।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচন হয় ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে। প্রায় ১৯ মাস পর সংস্থাটি মাঠ কমিটি গঠন করে। কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান বাফুফে সদস্য ইকবাল হোসেন। কমিটিতে আরও আটজন সদস্য রয়েছেন, যাদের মধ্যে আছেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালসহ একাধিক সদস্য।
মাঠ কমিটির সদস্য তালিকা
| নাম | পদ |
|---|---|
| ইকবাল হোসেন | চেয়ারম্যান |
| তাবিথ আউয়াল | সভাপতি, বাফুফে |
| মাহিদ উদ্দিন আহমেদ সেলিম | সদস্য |
| মঞ্জুরুল আলম দুলাল | সদস্য |
| গাজীপুরের হান্নান মিয়া হান্নু | সদস্য |
| মোবারক হোসেন | সদস্য |
| আনোয়ার হোসেন আনু | সদস্য |
| মোতাহার হোসেন | সদস্য |
| হাফসা রহমান মৌরী | সদস্য |
গতকাল মাঠ কমিটির চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন কয়েকজন সদস্যকে নিয়ে জাতীয় স্টেডিয়ামের মাঠ পরিদর্শন করেন। তবে কমিটির সব সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। পরিদর্শন শেষে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি জানান, আগামী ২০ আগস্টের আগে মাঠ খেলার উপযোগী অবস্থায় আসবে না। বর্তমানে মাঠে লেয়ার ঢালাইয়ের কাজ চলছে।
তিনি জানান, মাঠের মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হবে। ঘাসের জন্য দুটি প্রজাতি নির্বাচন করা হয়েছে, যার মধ্যে যেকোনো একটি ব্যবহার করা হবে। মাঠের পাশে বর্তমানে এসব ঘাসের নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে, যা প্রায় ২৫ দিন সময় নিয়ে সম্পন্ন করা হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে উপযুক্ত ঘাস নির্বাচন করে পুরো মাঠে রোপণ করা হবে।
মাঠ কমিটির চেয়ারম্যান আরও জানান, আগে বৃষ্টির পর মাঠ থেকে পানি নিষ্কাশনে ২০ থেকে ২৫ মিনিট সময় লাগত। সংস্কারের পর সেই সময় কমে ১০ থেকে ১২ মিনিটে নেমে আসবে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, মাঠের আশপাশে থাকা বিভিন্ন ধরনের ঘাস যদি বাতাসে উড়ে এসে মূল মাঠে পড়ে, তাহলে মাঠের ঘাসের মান নষ্ট হতে পারে। তাই বাইরের ঘাস থেকে মূল মাঠকে রক্ষা করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।
সংস্কার কাজের ব্যয় সম্পর্কে জানতে চাইলে ইকবাল হোসেন জানান, নির্দিষ্টভাবে হিসাব না দেখে বলা সম্ভব নয়।
সংস্কার কাজ শেষ হলেও ঘরোয়া ফুটবল লিগের ম্যাচ জাতীয় স্টেডিয়ামে আয়োজন হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন। তবে ক্লাবগুলো ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে লিগ ম্যাচ ফেরানোর বিষয়ে সক্রিয় আলোচনা শুরু করেছে।
