২০১৮ সালে রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করে পানামা জাতীয় ফুটবল দল। অভিষেক আসরেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের। ওই টুর্নামেন্টে দলটি তিনটি ম্যাচ খেলে তিনটিতেই পরাজিত হয় এবং মোট দুইটি গোল করতে সক্ষম হয়। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচ জয়ের রেকর্ড গড়তে পারেনি মধ্য আমেরিকার এই দেশটি।
তবে এবার আবারও বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে পানামা। নতুন আসরে দলটি আরও শক্তিশালী রূপে নিজেদের উপস্থাপন করতে চায়। এবারের স্কোয়াডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন ২৮ বছর বয়সি স্ট্রাইকার ইসমায়েল দিয়াজ। তিনি ছোটবেলা থেকেই কঠিন পরিবেশে বেড়ে উঠেছেন। প্রচণ্ড রোদ ও উচ্চ আর্দ্রতার মধ্যে তার শৈশব কেটেছে, যেখানে ফুটবল ছিল তার জন্য শুধু খেলা নয়, বরং জীবনের সংগ্রামের অংশ।
দিয়াজ মাত্র ১৫ বছর বয়সে ক্লাব ফুটবলে অভিষেক করেন এবং ১৭ বছর বয়সে জাতীয় দলে সুযোগ পান। জাতীয় দলের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই তিনি গোল করেন, যা তার ক্যারিয়ারের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে ওঠে। বর্তমানে তিনি পানামা দলের আক্রমণভাগের অন্যতম প্রধান ভরসা।
আসন্ন বিশ্বকাপে পানামা কঠিন গ্রুপে পড়েছে, যেখানে ইংল্যান্ড ও ক্রোয়েশিয়ার মতো শক্তিশালী দল রয়েছে। শক্ত প্রতিপক্ষ থাকা সত্ত্বেও দিয়াজ আত্মবিশ্বাসী। তার মতে, বিশ্বকাপে খেলতে গেলে সেরা দলগুলোর বিপক্ষেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয়, এবং তারা শুধু অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য নয়, বরং প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে।
তিনি আরও জানান, পানামার জন্য বিশ্বকাপে প্রথম জয় অর্জন করাই এখন সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। তার বিশ্বাস, যদি তারা প্রথম ম্যাচেই জয় পেতে পারে, তবে সেটি হবে ঐতিহাসিক অর্জন এবং পুরো দেশের জন্য গর্বের বিষয়।
শৈশবের স্মৃতি তুলে ধরে দিয়াজ বলেন, তিনি ও তার বন্ধুরা খালি পায়ে রাস্তায় ফুটবল খেলতেন। সেই সময় অনেক কষ্ট, আঘাত এবং রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনা থাকলেও তারা প্রতিদিনই খেলায় ফিরে যেতেন। সেই সংগ্রামী পরিবেশই তাকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
পানামার বিশ্বকাপ পরিসংখ্যান ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
| বিষয় | পরিসংখ্যান/তথ্য |
|---|---|
| প্রথম বিশ্বকাপ অংশগ্রহণ | ২০১৮ (রাশিয়া) |
| ম্যাচ খেলা | ৩টি |
| জয় | ০টি |
| পরাজয় | ৩টি |
| মোট গোল | ২টি |
| গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় | ইসমায়েল দিয়াজ (স্ট্রাইকার, ২৮ বছর) |
| বর্তমান প্রতিপক্ষ গ্রুপ | ইংল্যান্ড, ক্রোয়েশিয়া |
পানামা এবার নতুন প্রত্যাশা নিয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে, যেখানে অভিজ্ঞতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাই তাদের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
