রোনালদোর বিরল কার্ড বিক্রি ১৬ কোটি টাকায়

আন্তর্জাতিক ফুটবল স্মারক ও সংগ্রহযোগ্য কার্ডের বাজারে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। তার জুভেন্টাসে খেলার সময়কার অত্যন্ত বিরল ‘পানিনি কাবুম গ্রিন ১-অব-১’ কার্ড সম্প্রতি ১৩ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। মার্কিন ক্রীড়া সম্প্রচারমাধ্যম ESPN জানিয়েছে, ক্রীড়া সামগ্রী ও সংগ্রহযোগ্য পণ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান Fanatics এই বিক্রির তথ্য নিশ্চিত করেছে।

ফুটবল কার্ড সংগ্রহের বাজারে রোনালদোর এই বিক্রি বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করলেও সর্বকালের সর্বোচ্চ মূল্যের ফুটবল কার্ড বিক্রির রেকর্ড এখনো আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক লিওনেল মেসির দখলে রয়েছে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মেসির একটি রুকি কার্ড ১৫ লাখ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়েছিল, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকার সমান। এখন পর্যন্ত সেটিই ফুটবল কার্ড বিক্রির সর্বোচ্চ রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এর আগে ফুটবল কার্ডের বাজারে প্রথমবার এক মিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছিল ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার পেলের একটি রুকি কার্ড। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সেটি বিক্রি হয়েছিল ১৩ লাখ ৩০ হাজার মার্কিন ডলারে। সে সময় ফুটবল স্মারক সংগ্রহের বাজারে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং ফুটবল-ভিত্তিক সংগ্রহযোগ্য সামগ্রীর আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন আগ্রহ সৃষ্টি করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোনালদোর সাম্প্রতিক কার্ডটি এত উচ্চমূল্যে বিক্রি হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ এর বিরলতা এবং সীমিত সংস্করণ। ‘গ্রিন ১/১’ সংস্করণের অর্থ হলো, বিশ্বে এই কার্ডের মাত্র একটি কপি তৈরি করা হয়েছিল। ক্রীড়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম The Athletic জানিয়েছে, এই নির্দিষ্ট সংস্করণের আর কোনো কার্ড বাজারে নেই। ফলে আন্তর্জাতিক সংগ্রাহকদের কাছে এটি অত্যন্ত মূল্যবান ও আকর্ষণীয় সংগ্রহযোগ্য সামগ্রীতে পরিণত হয়েছে।

রোনালদোর এই কার্ডটি ২০১৮ সালের ‘পানিনি কাবুম’ সেটের অংশ। ইতালিভিত্তিক সংগ্রহযোগ্য কার্ড প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান Panini এই সিরিজ তৈরি করে। ‘কাবুম’ সিরিজের কার্ডগুলো তাদের ব্যতিক্রমধর্মী কমিক-স্টাইল আর্ট ডিজাইনের জন্য দীর্ঘদিন ধরেই সংগ্রাহকদের মধ্যে জনপ্রিয়। ফুটবলের পাশাপাশি বাস্কেটবল ও অন্যান্য ক্রীড়াক্ষেত্রেও এই সিরিজের কার্ড ব্যাপক চাহিদা অর্জন করেছে।

‘কাবুম’ সিরিজের যাত্রা শুরু হয় ২০১৩-১৪ মৌসুমে বাস্কেটবল কার্ড দিয়ে। পরবর্তীতে এটি ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলায় সম্প্রসারিত হয়। সীমিত সংস্করণ, বিশেষ নকশা এবং নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ভিত্তিক বিরল কার্ডের কারণে সিরিজটি আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চমূল্যের সংগ্রহযোগ্য পণ্যে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপী স্পোর্টস কার্ড সংগ্রহের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় এ ধরনের কার্ডের মূল্যও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কার্ড গ্রেডিং প্রতিষ্ঠান Professional Sports Authenticator (PSA) অতীতে রোনালদোর আরেকটি কার্ডকে ৭ গ্রেড এবং সংশ্লিষ্ট অটোগ্রাফকে ১০ গ্রেড দিয়েছিল। সেই কার্ডও একসময় উচ্চমূল্যে বিক্রির রেকর্ড গড়েছিল। তবে সাম্প্রতিক এই বিক্রি আগের অনেক রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে এবং ফুটবল কার্ড সংগ্রহের বাজারে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে।

বর্তমানে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসরের হয়ে খেলছেন। সাম্প্রতিক সময়ে রিয়াদভিত্তিক ক্লাবটির হয়ে শিরোপাও জিতেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ফুটবলেও এখনো সক্রিয় রয়েছেন রোনালদো এবং ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পর্তুগাল জাতীয় দলের পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। জাতীয় দলের কোচ রবার্তো মার্টিনেজও তাকে দলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় রাখার পরিকল্পনা করছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী ফুটবল স্মারক সংগ্রহের বাজারে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিশ্বখ্যাত ফুটবলারদের স্বাক্ষরিত জার্সি, ম্যাচে ব্যবহৃত সামগ্রী, সীমিত সংস্করণের কার্ড এবং ঐতিহাসিক মুহূর্ত সংশ্লিষ্ট স্মারক আন্তর্জাতিক নিলামবাজারে অত্যন্ত উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। রোনালদো, মেসি ও পেলের মতো কিংবদন্তি ফুটবলারের বিরল কার্ডগুলো এখন শুধু সংগ্রাহকদের আগ্রহের বিষয় নয়; বরং অনেক বিনিয়োগকারীর কাছেও বিকল্প বিনিয়োগ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Comment