সান মারিনোর বিপক্ষে আসন্ন ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলির অধীনে অনুশীলন শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। যুক্তরাষ্ট্রের এই কোচ গত শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছানোর পর আনুষ্ঠানিকভাবে দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুশীলন রোববার শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা একদিন পিছিয়ে সোমবার শুরু হয়।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আগেই সান মারিনো সফরের জন্য ৩০ সদস্যের প্রাথমিক দল ঘোষণা করেছিল। নতুন কোচের তত্ত্বাবধানে প্রথম দিনের অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয় কিংস অ্যারেনার ট্রেনিং মাঠে। সেখানে খেলোয়াড়দের ফিটনেস, বল নিয়ন্ত্রণ, পাসিং, কৌশলগত অবস্থান এবং দলীয় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কোচিং স্টাফ খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা ও ম্যাচ প্রস্তুতিও পর্যবেক্ষণ করেন।
আগামী ৫ জুন ইউরোপের দেশ সান মারিনোর মাটিতে অনুষ্ঠিত হবে এই ফিফা প্রীতি ম্যাচ। বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে ম্যাচটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। কারণ এর আগে বাংলাদেশ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেললেও ইউরোপের মাটিতে কোনো ইউরোপীয় জাতীয় দলের বিপক্ষে মাঠে নামেনি। ফলে এই ম্যাচ দেশের ফুটবলের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলি আন্তর্জাতিক ফুটবল অঙ্গনে পরিচিত নাম। খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ সময় পেশাদার ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই কোচের অধীনে বাংলাদেশ দলকে নতুন কৌশলগত কাঠামোয় গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলে ফুটবলসংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা রয়েছে।
ডুলির পরামর্শে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে ইতালিয়ান কোচ মার্ক ব্রুনোকে সহকারী কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি ঢাকায় এসে জাতীয় দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। বাফুফের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং খেলোয়াড়দের পেশাদার প্রস্তুতির পরিবেশ তৈরি করাই নতুন কোচিং কাঠামোর প্রধান লক্ষ্য।
বাংলাদেশ জাতীয় দলের জন্য এই ম্যাচটি কেবল একটি প্রীতি ম্যাচ নয়; বরং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলো দলীয় র্যাংকিং উন্নয়ন, নতুন খেলোয়াড় মূল্যায়ন, কৌশলগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা অর্জনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নতুন কোচের অধীনে দলের খেলার ধরনে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, সেটিও এই ম্যাচে পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে উঠেছে।
প্রতিপক্ষ সান মারিনো বর্তমানে ফিফা র্যাংকিংয়ের সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকা দলগুলোর একটি। সর্বশেষ র্যাংকিং অনুযায়ী দেশটি ২১১তম স্থানে রয়েছে। তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটিও সান মারিনোর জন্য ঐতিহাসিক হতে যাচ্ছে। কারণ ইউরোপের এই দেশটি আগে কখনো কোনো এশীয় দলের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি।
সান মারিনো ইউরোপের ক্ষুদ্র রাষ্ট্রগুলোর একটি এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে সীমিত সাফল্যের জন্য পরিচিত। তারপরও নিজেদের মাঠে খেলার অভিজ্ঞতা, ইউরোপীয় পরিবেশ এবং স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে পরিচিতি তাদের জন্য বাড়তি সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য দীর্ঘ ভ্রমণ, ভিন্ন আবহাওয়া এবং ইউরোপীয় ফুটবল সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
জাতীয় দলের প্রাথমিক দলে দেশের বিভিন্ন ক্লাবের অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নতুন কোচের অধীনে দল নির্বাচন, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং খেলোয়াড়দের অবস্থান নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ফুটবলের ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও নতুন কোচিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দলকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে বাফুফে।
বাংলাদেশের ফুটবল সমর্থকদের কাছেও ম্যাচটি বিশেষ আগ্রহের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ইউরোপের মাটিতে প্রথমবার কোনো ইউরোপীয় জাতীয় দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ হওয়ায় এটিকে দেশের ফুটবল ইতিহাসের একটি নতুন মাইলফলক হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
