প্রথম ম্যাচে ড্র করলে বিশ্বকাপ জিততে পারে না ব্রাজিল

বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে নিজেদের ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমে শুরুতেই বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ল্যাটিন আমেরিকার ফুটবল পরাশক্তি ব্রাজিল। ‘সি’ গ্রুপের অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রথম ম্যাচে আফ্রিকার শক্তিশালী দল মরক্কোর মুখোমুখি হয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নেরা। খেলার শুরুর দিকে পিছিয়ে পড়ার পর তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত এক সমতাসূচক গোলে ব্রাজিলিয়ানরা ম্যাচে ফিরে আসতে সক্ষম হলেও, শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবধান বাড়াতে পারেনি। ফলে ১-১ গোলের সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় সেলেসাওদের। এই ড্রয়ের ফলে ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে এবারসহ মোট পঞ্চমবারের মতো নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে জয়বঞ্চিত থাকার রেকর্ড গড়ল ব্রাজিল।

একই সাথে এই ফলাফলের পর ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে এক অত্যন্ত অস্বস্তিকর ও আশঙ্কাজনক পরিসংখ্যানের খতিয়ান সামনে এসেছে। ঐতিহাসিক পরিসংখ্যান ও পূর্ববর্তী ফুটবল রেকর্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, ব্রাজিল দল যখনই বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম তথা উদ্বোধনী ম্যাচে ড্র করে মাঠ ছেড়েছে, সেই আসরগুলোর একটিতেও তারা শেষ পর্যন্ত শিরোপা বা চ্যাম্পিয়ন ট্রফি স্পর্শ করতে পারেনি। অতীত ইতিহাস বলছে, এই উদ্বোধনী ম্যাচের ড্রয়ের ধারা ব্রাজিলের জন্য কখনোই শুভ কোনো বার্তা বয়ে আনেনি এবং প্রতিবারই তাদের বিশ্বকাপ অভিযান ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে।

অতীত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিলের ড্রয়ের ইতিহাস

চলমান এই আসরের পূর্বে ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ পথচলায় নিজেদের প্রথম ম্যাচে মোট তিনবার ড্র করার নজির ছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। সেই তিনটি আসরের একটিতেও তারা চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি। নিচে তাদের পূর্ববর্তী সেই তিনটি আসরের ড্রয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরা হলো:

১. ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপ: এই আসরে নিজেদের প্রথম উদ্বোধনী ম্যাচে যুগোস্লাভিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল। সেই ম্যাচটি অত্যন্ত রক্ষণাত্মক এবং গোলশূন্য তথা ০-০ ব্যবধানে ড্র হিসেবে শেষ হয়। শেষ পর্যন্ত এই আসর থেকে শিরোপা ছাড়াই বিদায় নিতে হয় ল্যাটিন আমেরিকার দলটিকে।

২. ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপ: এই আসরে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে সুইডেনের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল সেলেসাওরা। ১-১ গোলের সমতায় শেষ হওয়া সেই ম্যাচেও পূর্ণ পয়েন্ট তুলে নিতে ব্যর্থ হয় তারা এবং পূর্বের আসরের মতোই এই বারও তাদের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে যায়।

৩. ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ: রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত এই আসরেও নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইউরোপের দেশ সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হয় ব্রাজিল। মাঠের তীব্র লড়াই শেষে সেই ম্যাচটিও ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়। বরাবরের মতো এই আসরেও ট্রফি নিজেদের ঘরে তুলতে ব্যর্থ হয় পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নেরা।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ব্রাজিলের ড্রয়ের পরিসংখ্যান

বিশ্বকাপের ইতিহাসে যে চারবার ব্রাজিল নিজেদের প্রথম উদ্বোধনী ম্যাচে ড্র করে মাঠ ছেড়েছে, তার সংক্ষিপ্ত এবং নিখুঁত পরিসংখ্যান নিচে টেবিলের মাধ্যমে বিন্যস্ত করা হলো:

বিশ্বকাপের সালউদ্বোধনী ম্যাচের প্রতিপক্ষম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফলআসরের চূড়ান্ত পরিণতি
১৯৭৪ সালযুগোস্লাভিয়া০ – ০ (ড্র)শিরোপা জয় করতে ব্যর্থ
১৯৭৮ সালসুইডেন১ – ১ (ড্র)শিরোপা জয় করতে ব্যর্থ
২০১৮ সালসুইজারল্যান্ড১ – ১ (ড্র)শিরোপা জয় করতে ব্যর্থ
বর্তমান আসরমরক্কো১ – ১ (ড্র)ইতিহাস অনুযায়ী অস্বস্তিকর পরিস্থিতি

বর্তমান পরিস্থিতি ও ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার আশঙ্কা

চলমান বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে মরক্কোর বিরুদ্ধে ১-১ গোলের এই ড্রয়ের ফলে ফুটবল বিশ্লেষকদের মধ্যে পুনরায় সেই পুরোনো এবং অস্বস্তিকর ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অতীত পরিসংখ্যানের এই অমোঘ নিয়ম এবারও সত্য প্রমাণিত হবে নাকি ব্রাজিল দল পূর্বের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে নতুন কোনো ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারবে, তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। মরক্কোর সুশৃঙ্খল রক্ষণভাগ ও চমৎকার ফুটবল কৌশলের কারণে ব্রাজিল এই ম্যাচে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট অর্জন করতে ব্যর্থ হয়, যার ফলে গ্রুপ ‘সি’-এর সমীকরণ এখন অনেকটাই জটিল রূপ ধারণ করেছে।

ইতিহাসের এই নেতিবাচক ধারাবাহিকতা কাটিয়ে উঠে পরবর্তী ম্যাচগুলোতে জয়লাভ করা এবং নিজেদের হেক্সা মিশন বা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখাই এখন ব্রাজিলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে উদ্বোধনী ম্যাচের এই ড্রয়ের ফলে যে এক অনাকাঙ্ক্ষিত মানসিক চাপ দলের ওপর তৈরি হলো, তা কাটিয়ে উঠতে খেলোয়াড়দের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে তাদের সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করতে হবে।

Leave a Comment