
নকআউট পর্ব শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেল ফ্রান্স
বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেল ফ্রান্স। শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে উরুর চোটে দলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিডফিল্ডার অরেলিয়াঁ চুয়ামেনি ছিটকে যাওয়ায় নতুন করে কৌশল সাজাতে হচ্ছে কোচ দিদিয়ের দেশমকে। প্যারাগুয়ের বিপক্ষে শেষ আটে ওঠার লড়াইয়ে মাঝমাঠে তার অনুপস্থিতি যে ফরাসিদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
বাংলাদেশ সময় রোববার রাত ৩টায় ফিলাডেলফিয়ায় মুখোমুখি হবে ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ে। নকআউট পর্বের এই ম্যাচে জয়ী দল নিশ্চিত করবে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট, আর পরাজিত দলকে শেষ হবে বিশ্বকাপ অভিযান। এমন এক ম্যাচের আগে চুয়ামেনির চোট ফরাসি শিবিরে বাড়তি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে।
চলতি বিশ্বকাপে ফ্রান্সের মাঝমাঠে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন চুয়ামেনি। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ভেঙে দেওয়া, রক্ষণভাগকে সুরক্ষা দেওয়া, বলের দখল ধরে রাখা এবং আক্রমণের সূচনা—সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন কার্যকর। মাঠে তার উপস্থিতি ফ্রান্সের খেলার ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষের দ্রুত আক্রমণ ঠেকানো এবং বল পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে তার দক্ষতা দলকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।
তবে উরুর চোটের কারণে শেষ ষোলোর এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাকে পাওয়া যাবে না। ফলে মাঝমাঠে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে নামতে হবে দেশমকে। চুয়ামেনির জায়গায় যেই খেলুন না কেন, তাকে একই সঙ্গে রক্ষণ সামলানো, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণভাগে বল সরবরাহের দায়িত্ব পালন করতে হবে। নকআউট পর্বে ছোট একটি ভুলও পুরো ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দিতে পারে। তাই এই শূন্যতা কতটা সফলভাবে সামাল দিতে পারে ফ্রান্স, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
তবে এই ধাক্কার পরও ফ্রান্সের আত্মবিশ্বাসের জায়গা তাদের তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড। কিলিয়ান এমবাপের নেতৃত্বে আক্রমণভাগ এখনও প্রতিপক্ষের জন্য অন্যতম বড় হুমকি। অভিজ্ঞ ও তরুণ ফুটবলারদের সমন্বয়ে গড়া দলটি বড় ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। সেই অভিজ্ঞতাই নকআউট পর্বে তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হতে পারে।
অন্যদিকে প্যারাগুয়ে দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে শেষ ষোলোর ম্যাচে নামছে। শেষ বত্রিশে শক্তিশালী জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছে তারা। পুরো ম্যাচে রক্ষণভাগের শৃঙ্খলা, লড়াকু মানসিকতা এবং গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলের অসাধারণ পারফরম্যান্স তাদের জয়ের ভিত্তি গড়ে দেয়। টাইব্রেকারেও গিলের গুরুত্বপূর্ণ সেভ প্যারাগুয়েকে শেষ ষোলোর টিকিট এনে দেয়।
প্যারাগুয়ের শক্তি মূলত দলগত সমন্বয়ে। তারা খুব বেশি তারকানির্ভর নয়; বরং শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতার ওপর নির্ভর করেই সাফল্য পেয়েছে। জার্মানির বিপক্ষে জয় তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে ফ্রান্সের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও তারা ভয়হীন ফুটবল খেলতে চাইবে।
ফ্রান্সের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা। চুয়ামেনির অনুপস্থিতিতে প্রতিপক্ষ যদি মাঝমাঠে আধিপত্য বিস্তার করতে পারে, তাহলে এমবাপেদের আক্রমণও স্বাভাবিক ছন্দ হারাতে পারে। তাই দেশমের একাদশ নির্বাচন ও ম্যাচ পরিকল্পনা এই লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সব মিলিয়ে শেষ ষোলোর এই ম্যাচটি বিশ্বকাপের অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াই হওয়ার অপেক্ষায়। একদিকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সের অভিজ্ঞতা ও আক্রমণভাগের শক্তি, অন্যদিকে জার্মানিকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত প্যারাগুয়ের লড়াকু মানসিকতা। চুয়ামেনির অনুপস্থিতি ফ্রান্সের জন্য বড় ধাক্কা হলেও, সেই শূন্যতা কাটিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করাই এখন এমবাপে ও তার সতীর্থদের একমাত্র লক্ষ্য।